অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

সাধারণ বীমার এজেন্ট কমিশন বাতিল, ১ মার্চ থেকে কার্যকর

সাধারণ বীমার এজেন্ট কমিশন বাতিল, ১ মার্চ থেকে কার্যকর

 

সাধারণ বীমা কোম্পানির এজেন্ট কমিশন বাতিল করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ফলে ব্যবসা অর্জন বা বীমা পলিসি বিক্রির বিপরীতে এজেন্টদের কোনো ধরনের কমিশন দেয়া যাবে না। আগামী ১ মার্চ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম. মোশাররফ হোসেনের সই করা এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ৪ ফেব্রুয়ারি সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

এজেন্ট কমিশন শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করায় সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর মুনাফা বড় অংকে বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ১৫ শতাংশ কমিশন এজেন্টদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও, কোম্পানিগুলো মূলত এটি গ্রাহকদের দিতো। এতে কোম্পানিগুলোর মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলে। কমিশন এজেন্ট তুলে দেয়ার কারণে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়ে যাবে।

নির্দেশনায় আইডিআরএ জানিয়েছে, ‘নন-লাইফ বীমাখাতে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও কমিশন বিষয়ে শৃঙ্খলা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হচ্ছে না বিধায় এ খাতে শৃঙ্খলা আনয়নের স্বার্থে বীমা আইন, ২০১০ এর অধীনে বীমা এজেন্ট নিয়োগ ও নিবন্ধন প্রবিধানমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নন-লাইফ বীমাখাতে কমিশন সংক্রান্ত বিষয়ে নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’

> নন-লাইফ (সাধারণ) বীমাখাতে ব্যবসা অর্জন বা সংগ্রহের বিপরীতে ১৫ শতাংশ বীমা এজেট কমিশন প্রদান সংক্রান্ত সার্কুলার (নং নন-লাইফ ৩২/২০১২, তারিখ ১ এপ্রিল ২০১২) এবং নন-লাইফের কমিশন হার সংক্রান্ত জারি করা অন্যান্য নির্দেশনাবলী পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।

> নন-লাইফ বীমাখাতে ব্যবসা অর্জন বা সংগ্রহের বিপরীতে বীমা এজেন্ট কমিশন ১৫ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করা হলো।

> উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কর্মকর্তাদের সংগ্রহ করা প্রিমিয়ামের শতকরা হারে দেয়া যাবে না। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাদে সকল উন্নয়ন কর্মকর্তার নিয়োগপত্রে সংশ্লিষ্ট বীমাকারীর পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা উল্লেখ ও প্রদান করতে হবে।

> সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কর্তৃপক্ষের সার্কুলার (নন-লাইফ ৬৪/২০১৯)-এর তিন নম্বর দফায় উল্লেখ করা ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ ব্যাংক হিসাবে ট্রান্সফার বা অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে দিতে হবে।

> উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত ছকে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে।

আইডিআরএ-এর এই নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, সাধারণ বীমার এজেন্ট নিয়োগ ও নিবন্ধন প্রবিধানমালা এখনও হয়নি। যেহেতু এজেন্ট নিয়োগ সংক্রান্ত প্রবিধানমালা নেই, সে কারণেই হয় তো আইডিআরিএ এই কমিশন তুলে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৫ শতাংশ কমিশন এজেন্টদের জন্য নির্ধারিত হলেও এটা আসলে গ্রাহকরা নিয়ে যেত। এখন এজেন্ট কমিশন শূন্য শতাংশ করায় সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়ে যাবে।কমিশনের টাকা কোম্পানিতে থেকে যাবে।

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জামিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এজেন্ট কমিশন ১৫ শতাংশ থেকে শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করা সংক্রান্ত নির্দেশনা আমরা এখনও হাতে পায়নি। সুতরাং না দেখে এ বিষয়ে তেমন কিছু বলা সম্ভব না। তবে এজেন্ট কমিশন ১৫ শতাংশ থেকে শূন্য শতাংশ করা হলে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়ে যাবে।

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের সিইও তারিকুল রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এজেন্ট কমিশন ১৫ শতাংশ থেকে শূন্য শতাংশ করা হলে এর সুফল ছোট বড় সব ধরনের কোম্পানি পাবে। কমিশন না দেয়ার কারণে কোম্পানির আয় ১৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। সোজা কথায় সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর প্রফিট (মুনাফা) ১৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। এর ফলে কোম্পানির ব্যবসা কম হলেও সমস্যা হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে বীমা খাতের নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইডিআরএ গঠিত হওয়ার পর ২০১২ সালেই প্রজ্ঞাপন জারি করে এজেন্ট কমিশনের হার ১৫ শতাংশ বেধে দেয়া হয়েছিল। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বীমা মালিকদের মধ্যে দেখা দেয়া বিরোধের কারণে তা মুখ থুবড়ে পড়ে।

এতে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর এজেন্ট কমিশন নিয়ে এক ধরনের বিশৃঙ্খলাও দেখা যায়। অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে কোনো কোনো কোম্পানি ৭০ শতাংশ পর্যন্তও কমিশন দিতে থাকে। যা এজেন্টের বদলে চলে যায় গ্রাহকদের পকেটে। যা সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন পক্ষ থেকে এর সমালোচনাও করা হয়।

দীর্ঘ আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত বছরের ১৮ জুলাই আইডিআরএ, বিআইএ এবং সবগুলো সাধারণ বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আইডিআরএ চেয়ারম্যান সাধারণ বীমা খাতের উন্নয়নের জন্য ১৫ শতাংশের বেশি এজেন্ট কমিশন দেয়াকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। বৈঠকের সিদ্ধের অংশ হিসেবে ১ আগস্ট থেকে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোকে এজেন্ট কমিশনের সর্বোচ্চ হার ১৫ শতাংশ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেয় আইডিআরএ।

এরপর ২৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নরের সভাপতিত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইডিআরএ এবং বিআইএর প্রতিনিধিদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ১৫ শতাংশের অধিক কমিশন বন্ধ এবং আইডিআরএ সার্কুলার অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত সব বিষয়ে সহযোগিতার সম্মতি দেন।

বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

এনআরবি ব্যাংকের নতুন এমডি মামুন মাহমুদ শাহ

এনআরবি ব্যাংকের নতুন এমডি মামুন মাহমুদ শাহ

 

মামুন মাহমুদ শাহ এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে তিনি ২০১৯ সালে ব্যাংকটিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে বেসরকারি আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেডে প্রোবেশনারি অফিসার হিসেবে যোগদান করেন মামুন মাহমুদ শাহ। তিনি আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, জিপিএস ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং ন্যাশনাল ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি ইস্টার্ন ব্যাংক, এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও এএনজেড গ্রিন্দলিজ ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

বাংলাদেশে প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বেলের পণ্য তৈরি করবে প্রাণ

বাংলাদেশে প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বেলের পণ্য তৈরি করবে প্রাণ

 

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ নতুন একটি কারখানা উদ্বোধন করেছে, যেখানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এফএমসিজি (নিত্যব্যবহার্য পণ্য) কোম্পানি প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বেল-এর পণ্য উৎপাদন হবে। রোববার (৩১ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ভার্চুয়াল মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন।

প্রাণ গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড পার্সোনাল কেয়ার লিমিটেড (এপিসিএল) প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বেল-এর চুক্তিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। এ কারখানাটি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুরে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত। এখানে রেজরসহ গ্রুমিং পণ্য উৎপাদিত হবে।

অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম নীতি হচ্ছে দেশের বেসরকারি খাতকে উন্নত করা।

PRAN3.jpg

তিনি আরও বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, প্রক্টর ও গ্যাম্বেল বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে। এটি শুধু আমেরিকান কোম্পানি নয়, সারা পৃথিবীর কোম্পানির জন্য এটি একটি ভালো বার্তা। কারণ প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বেল খ্যাতি, আকার ও অবস্থান বিবেচনায় বিশ্বের একটি সফল কোম্পানি।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবাট মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কোম্পানির মতো প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বেলের বাংলাদেশে উৎপাদনক্ষেত্র হিসেবে যে সম্ভাবনা আছে সেটি কাজে লাগাতে যুক্ত হলো।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী জ্ঞানভিত্তিক পরিবেশে নিজেদের পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

PRAN3.jpg

প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বেল-এর দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মধুসূদন গোপালান বলেন, ‘১৯৯৪ সাল থেকে আমাদের পণ্য বাংলাদেশের ভোক্তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। প্রাণ-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের ফলে আরও ভালোভাবে আমরা আমাদের ভোক্তাদের সেবা দিতে পারব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আমাদের বিনিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি তা আরও জোরদার করবে, ফলে কর্মসংস্থান, অংশীদারিত্বসহ নানা সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরী বলেন, প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বেল-এর পণ্য উৎপাদনে অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিত।

শনিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২১

দৈনিক ৩ হাজার কোটি টাকা লেনদেন চায় বিএসইসি

দৈনিক ৩ হাজার কোটি টাকা লেনদেন চায় বিএসইসি

 

২০১০ সালে পুঁজিবাজারের মহাধসের এক দশক পর পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক উত্থান ও লেনদেনে যে গতি এসেছে, তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের দৈনিক লেনদেন তিন হাজার কোটি টাকার ঘরে নিয়ে যেতে চায় সংস্থাটি।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) পুঁজিবাজার নিয়ে কাজ করা সংবাদ কর্মীদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত এক কর্মশালায় বিএসইসির কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদ এসব কথা জানান। স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনে মিডিয়ার ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালাটির আয়োজন করা হয় গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের ব্র্যাক সিডিএমএতে।

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম, ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সিইও শাহিদুল ইসলাম, এপির ব্যুারো প্রধান জুলহাস আলম।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠন সিএমজেএফ’র সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন প্রমুখ।

বিএসইসির কমিশনার বলেন, পুঁজিবাজার বিগত সময়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। নিয়ম নীতি সংশোধনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে বিনিয়োগবান্ধব করা হচ্ছে। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে কাজ করছে কমিশন।

বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, কর্মশালার মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নে যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। প্রশিক্ষণে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের সঠিক তথ্য প্রকাশে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের ঋণের সুদের হার এখন বিগত সময়ের তুলনায় অনেক কম। এতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বেড়েছে।

রেজাউল করিম বলেন, পুঁজিবাজারকে অটোমেশনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এরইমধ্যে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিও হিসেব খোলা, আইপিও আবেদন করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ডিমিউচুয়ালাইজেশন যে কারণে করা হয়েছে প্রকৃত পক্ষে তা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে এর সুফল পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার পর বেশ কিছু নীতি পরিবর্তন ও নতুন ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। এতে গত ডিসেম্বর থেকেই বাজার ঊর্ধ্বমুখী। নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হচ্ছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও লেনদেন বাড়াচ্ছেন।

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত পাঁচ দিন লেনদেন হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকার ঘরে। একদিন লেনদেন হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি, যা ২০১০ সালের পর সর্বোচ্চ।

শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২১

পতনের বাজারে বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে বিকন ফার্মা

পতনের বাজারে বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে বিকন ফার্মা

 

বড় দরপতনের মধ্য দিয়ে গত সপ্তাহ পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক প্রায় দুই শতাংশ কমে গেছে। বাজার আট হাজার কোটি টাকারও বেশি মূলধন কমেছে।

পতনের এই বাজারে সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটির শেয়ার গত সপ্তাহজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে পছন্দের শীর্ষে ছিল। এর ফলে দাম বাড়ার শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার।

ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসায় গত সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। টাকার অঙ্কে বেড়েছে ১০ টাকা ৩০ পয়সা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ৭০ টাকা।

শেয়ারের এমন দাম হলেও ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এই কোম্পানিটির লভ্যাংশের ইতিহাস খুব একটা ভালো না। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিটি ২০১৯ সালেও বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। আর ২০১৮ ও ২০২০ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ৬ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটি ‘বি’ গ্রুপের তালিকায় রয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের চাহিদের শীর্ষে চলে আসায় এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বিকন ফার্মার দাপটের মধ্যেই আগের সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষ স্থান দখল করা অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দামও মোটা অঙ্কে বেড়েছে। গত সপ্তাহের দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় চতুর্থ স্থানটি দখল করেছে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স। গত সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এতে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়ে হয়েছে ৪২ টাকা ১০ পয়সা।

গত সপ্তাহজুড়ে শেয়ার দাম ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স। এর পরেই রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এছাড়া গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকা- আমান ফিডের ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, শ্যামপুর সুগারের ৬ দশমিক ৮০ শতংশ, ইউনাইটেড পাওয়ারের ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, মেট্রো স্পিনিংয়ের ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ঢাকা ডাইংয়ের ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ইষ্টার্ণ ইন্স্যুরেন্সের ৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ দাম বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১

সূচকের সঙ্গে বেড়েছে লেনদেন

সূচকের সঙ্গে বেড়েছে লেনদেন

 

মূল্য সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্য সূচক বেড়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন লেনদেনের শুরুতেই মূল্য সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার আভাস পাওয়া যায়। প্রি-ওপেনিং সুবিধা চালু থাকায় লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়িয়ে ক্রয়-বিক্রয়ের আদেশ জমা পড়ে। এতে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ৬২ পয়েন্ট বেড়ে যায়।

লেনদেনের প্রথম আধাঘণ্টা সূচকের এই বড় উত্থান প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে প্রথম ৩০ মিনিটের লেনদেনে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স বাড়ে ৭২ পয়েন্ট। কিন্তু এরপরই ঘটে ছন্দপতন। একের পর এক প্রতিষ্ঠান পতনের খাতায় নাম লেখাতে থাকে। ফলে নিম্নমুখী হয়ে পড়ে সূচক। এমনকি এক পর্যন্ত সূচক ঋণাত্মকও হয়ে পড়ে।

অবশ্য শেষ ৩০ মিনিটের লেনদেনে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ে। এতে আবার ঘুরে দাঁড়ায় সূচক। যার ওপর ভর করে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭২৪ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক দশমিক ৫১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সবকটি মূল্য সূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমছে প্রায় তার সমান সংখ্যকের। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩১টির। আর ৯৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মূল্য সূচকের উত্থানের দিনে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৪১ কোটি ৮ লাখ টাকা। যা আগের দিন ছিল ৯০৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৩৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবির ৬৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৬১ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইতে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার, সামিট পাওয়ার, আইএফআইসি ব্যাংক ও রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৮৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৭টির এবং ৬০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

আমদানির চাল বাজারজাতকরণ তদারকির নির্দেশ ডিসি-এসপিদের

আমদানির চাল বাজারজাতকরণ তদারকির নির্দেশ ডিসি-এসপিদের

 

বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি করা চাল যথাযথভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে কিনা তা তদারকির জন্য ৮ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) এই নির্দেশনা দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণসহ বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে সরকারিভাবে চাল আমদানির পাশাপাশি বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য ৩২০টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সুনির্দিষ্ট শর্তে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে আমদানিকারকরা বরাদ্দপ্রাপ্ত চাল ভারত থেকে বেনাপোল, ভোমরা, হিলি, বুড়িমারী, সোনাহাট, চিলাহাটি, বাংলাবান্ধা, বিবিরবাজার এবং বিরল স্থলবন্দরের মাধ্যমে আমদানি শুরু করেছেন।

এই অবস্থায় আমদানিকারকদের আমদানি করা চাল যাতে যথাযথভাবে বাজারজাত হয় সেই বিষয়টি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনিটরিং করতে হবে।

যশোর, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রামের ডিসি, এসপি ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের বাজারজাতকরণ বিষয়ে তদারকির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে চিঠিতে।

এবার আমন মৌসুমে মোটা চালের দাম ৫০ টাকা ছুঁয়েছে। চালের দাম দুর্ভোগে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় চাল আমদানির উদ্যোগ নেয় সরকার।

অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিতকরণ কমিটি

অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিতকরণ কমিটি

 

ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিতকরণে কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে সভাপতি করে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২১ সদস্যের কমিটি গঠন করে আদেশ জারি করা হয়েছে।

‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বাংলাদেশে ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিতকরণ কমিটি প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ওয়ান স্টপ সার্ভিস কর্তৃপক্ষের দেয়া ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সেবার হালনাগাদ কার্যক্রম ও অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরামর্শ দেবে এই কমিটি। এছাড়া সেবা দেয়া সংস্থাগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ওয়ান স্টপ সার্ভিস কর্তৃপক্ষের সম্পাদিত বা সম্পাদিতব্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) পর্যালোচনা এবং সম্পাদিত এসওপি অধিকতর ব্যবসাবান্ধব ও যুগোপযোগী করার নির্দেশনাও দেবে কমিটি।

একই সঙ্গে কমিটি অনলাইনে সেবা দেয়া নিশ্চিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস কর্তৃপক্ষের গৃহীত কার্যক্রমের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও নির্দেশনা, অনলাইনে দেয়া তথ্য সংরক্ষণ ও এর নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে নির্দেশনা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা প্রদান নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, নির্ধারিত সময়ে সেবা দিতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী দফতর বা সংস্থাকে উপযুক্ত নির্দেশনা, ওয়ান স্টপ সার্ভিসে দেয়া সুবিধা অংশীদারদের জানাতে নেয়া প্রচার কার্যক্রম পর্যালোচনা ও অধিকতর কার্যকর করতে নির্দেশনা, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সেবার মান উন্নয়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে পর্যালোচনা এবং পরিবীক্ষণপূর্বক নির্দেশনা দেবে।

ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিতকরণ কমিটি প্রতি ৬ মাস অন্তর একটি সভা করতে পারবে, তবে কমিটি প্রয়োজনবোধে যে কোনো সময় সভা করতে পারবে। কমিটির সভাপতির অনুমোদনে কমিটির সদস্য সচিব সভার তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণ করে সভা আহ্বান করবেন। কমিটি ওয়ান স্টপ সার্ভিসে দেয়া সেবা সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দিতে পারবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

আল-আরাফাহ ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসা উন্নয়ন সম্মেলন

আল-আরাফাহ ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসা উন্নয়ন সম্মেলন

 

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এআইবিএল) বার্ষিক ব্যবসা উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুস সামাদ লাবু প্রধান অতিথি হিসেবে শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ফরমান আর চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করেন পর্ষদের পরিচালক সেলিম রহমান, বদিউর রহমান, আব্দুল মালেক মোল্লা, মো. আনোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, আহামেদুল হক, নিয়াজ আহমেদ, মোহাম্মদ হারুন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. আমির উদ্দিন।

এ সময় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা এবং ১৮৪টি শাখার ব্যবস্থাপকরা অংশগ্রহণ করেন। ব্যাংকের সার্বিক ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে পরিচালক পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শাখা ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

অনিরীক্ষিত তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সাল শেষে ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা। এ সময় ব্যাংকের বিনিয়োগ হয়েছে ৩০ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া আমদানি ও রফতানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৬ হাজার ৯৬০ কোটি এবং ১০ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা।

চাল আমদানি : এলসি খোলার সময়সীমা বাড়ল

চাল আমদানি : এলসি খোলার সময়সীমা বাড়ল

 

বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলার সময়সীমা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

লাগামহীন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। এবার আমন মৌসুমে মোটা চালের দাম ৫০ টাকা ছুঁয়েছে। এই উচ্চমূল্য দুর্ভোগে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে চাল আমদানির শুল্ক ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

শুল্ক কমিয়ে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় চাল আমদানির কথাও সেদিন জানিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে চাল আমদানিতে ইচ্ছুক ব্যবসায়ীদের আবেদন করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এই আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ জানুয়ারি। আবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে অনুমতিও দিয়ে দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভাঙ্গা দানাবিশিষ্ট বাসমতি নয় এমন সেদ্ধ চাল শর্তসাপেক্ষে আমদানির জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাল আমদানির শর্তে বলা হয়েছে, বরাদ্দপত্র ইস্যুর সাত দিনের মধ্যে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে হবে। এ সংক্রান্ত তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিকভাবে ই-মেইলে জানাতে হবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা ১ থেকে ৫ হাজার টন বরাদ্দ পেয়েছেন, তাদের এলসি খোলার ১০ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০ দিনের মধ্যে বাকি চাল বাজারজাত করতে হবে।

এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান ৫ হাজার ১ টন থেকে ২০ হাজার টন বরাদ্দ পেয়েছে তাদের এলসি খোলার ১৫ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ৩০ দিনের মধ্যে বাকি ৫০ শতাংশ চাল এনে বাজারজাত করতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে আব্রুয়ান ফাউন্ডেশন

শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে আব্রুয়ান ফাউন্ডেশন

 

প্রতিবারের ন্যায় এবারো হতদরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান আব্রুয়ান ফাউন্ডেশন।

সম্প্রতি ঢাকাসহ ময়মনসিংহ, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, পঞ্চগড়, সৈয়দপুর, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নেত্রকোনা, বরিশাল, সাতক্ষীরাসহ মোট ১২টি জেলায় এক হাজারেরও বেশি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন প্রতিষ্ঠানটি।

jagonews24

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আব্রুয়ান ফাউন্ডেশন ভিন্ন আঙ্গিকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অসহায়, দুস্থ, সহায়-সম্বলহীন এবং শীতার্ত মানুষের জন্য ২০০টি তাবু বিতরণ করেন। ধানমন্ডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুরান ঢাকা, গুলিস্তান, কাকরাইল, মালিবাগ, হাতিরঝিল, গুলশান, বাড্ডা, মিরপুর এলাকায় এগুলো বিতরণ করা হয়।

jagonews24

এছাড়া আব্রুয়ান ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন জেলায় রমাদান সাদাকা ও বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে থাকে।

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

টাকা ছাড়াই পণ্য মেলে অদল-বদল স্টোরে

টাকা ছাড়াই পণ্য মেলে অদল-বদল স্টোরে

 

মুদ্রা বা অর্থ আবিষ্কারের পর পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় বিনিময় প্রথা। তবে রাজধানীর বুকে চালু আছে এই প্রথা। অনেকেই অর্থের অভাবে কিনতে পারছেন না ভালো পোশাক, হাড়ি-পাতিল, বাসন কিংবা বিয়ের শাড়ি। তারা নগদ টাকা ছাড়া সমপরিমাণ অর্থের খাদ্যদ্রব্যের বিনিময়ে পছন্দসই পণ্য কিনতে পারবেন রাজধানীর একটি দোকান ‘অদল-বদল স্টোর’ থেকে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন পরিচালিত অদল-বদল স্টোরটির অবস্থান মিরপুর ১০ নম্বরে।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে দোকানটি ঘুরে দেখা গেছে, শার্ট, কোট, টাই, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পানির ফিল্টার, ব্যাগ, শো-পিচ, হাঁড়ি-পাতিল, বই, জুতাসহ বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে একটি কম্পিউটারও আছে দোকানটিতে। রয়েছে কনের জন্য বেনারসি ও কাতান, বরের শেরওয়ানিও সাজিয়ে রাখা আছে। পণ্যের গায়ে উল্লেখ আছে দাম।

jagonews24

দোকানটি পরিচালনাকারী বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবক রাখী জানান, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর থেকে অস্থায়ী এই দোকানটির যাত্রা শুরু হয়। এটি নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জন্য পণ্যের বিনিময়ে পণ্য কেনার দোকান। এই স্টোরে কোনো ক্রয়-বিক্রয় হয় না। নিজের কাছে থাকা যেকোনো খাদ্যদ্রব্য বিনিময় করে সমমূল্যের অন্য কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস নেয়া যায় এখান থেকে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক সুলতানা জান্নাত বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে এই দোকানটি চালু করি আমরা। আমাদের এটা তো অদল-বদল। আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার টাকা মূল্যের বদল করা জিনিস পেয়েছি।’

jagonews24

অনেকেই তাদের ব্যবহৃত কাপড়, গ্লাস, প্লেট, খেলনা ইত্যাদি আমাদের বিদ্যানন্দের শাখায় দিয়ে আসেন। সেগুলো আমরা রিফাইন করি। ধুয়ে, মুছে পরিষ্কার করে সেগুলো অদল-বদলে এনে রাখি।

এগুলো যে কেউ নিতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তাকে চিনি, লবণ, আলু, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপেসহ বেশ কিছু পণ্যের বিনিময়ে এগুলো নিতে পারবেন বলে জানান সুলতানা জান্নাত। দাতার দেয়ার এসব পণ্য বিদ্যানন্দের ‘এক টাকায় আহার’ কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয় বলে জানান তিনি।

jagonews24

একদিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা সমমূল্যের পণ্য ও এক মাসে দুইবার পণ্য নেয়া যাবে দোকানটি থেকে। দোকানটি থেকে কেনা যাবে বিয়ের শাড়ি, শেরওয়ানি। তবে সেক্ষেত্রে বিয়ের প্রমাণ দেখাতে হবে বর কিংবা বধূকে।

সুলতানা জান্নাত বলেন, ‘আমাদের এখানে বেশ কিছু বিয়ের শাড়ি, শেরওয়ানি আছে। সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে বিক্রি করি। বিয়ে হবে সেই প্রমাণ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের এ জিনিসগুলো কিনতে হবে। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিয়ের শাড়ি এক থেকে দুই হাজার টাকা মূল্যের সমপরিমাণ পণ্যের বিনিময়ে পাওয়া যাবে এখানে।

একইভাবে কম্পিউটার কিনতে কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, আসলেই প্রয়োজন আছে কি না সেই প্রমাণ দিতে হবে। আবার ৫০০ টাকা সমমূল্যের সব কাচের গ্লাস একজন নিয়ে নেবেন তাও হবে না। যার সত্যিকারের প্রয়োজন তিনিই সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এখান থেকে পণ্য নেবেন।

jagonews24

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক সুলতানা জান্নাত আরও জানান, অদল-বদল স্টোরের কার্যক্রম আপাতত ঢাকা ও চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের স্টোর স্থায়ী হলেও ঢাকারটি শুরু হয়েছে অস্থায়ীভাবে। ভালো সাড়া পাওয়া গেলে এটিও স্থায়ীভাবে চালানো হবে এবং সম্প্রসারণ করা হবে।

দোকানটিতে এসে বেসরকারি চাকরিজীবী সাদ মোহাম্মদ জানান, আমি কিছু চিনি-তেলের বিনিময়ে খাতা, কলম নেব। এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।

শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১

সরকারি কর্মকর্তাদের ৬৮৪ ফ্ল্যাট নির্মাণকাজ নিয়ে অসন্তোষ আইএমইডির

সরকারি কর্মকর্তাদের ৬৮৪ ফ্ল্যাট নির্মাণকাজ নিয়ে অসন্তোষ আইএমইডির

 

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের সিজিএস কলোনিতে জরাজীর্ণ ১১টি ভবনের জায়গায় ৯টি বহুতল আবাসিক ভবনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৬৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের কার্যাদেশ প্রায় ২ বছর আগে দেয়া হলেও ভৌত অগ্রগতি ২৬ শতাংশ। যা মোটেই সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করেছে সরকারের প্রকল্প তদারককারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা ঘুরে এসে আইএমইডি এক প্রতিবেদনে এই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪৮২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা খরচে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদফতর। ইতোমধ্যে সময় বৃদ্ধির পরও ফের সময় বাড়তে যাচ্ছে প্রকল্পটির।

এ বিষয়ে আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, প্রকল্পের ভৌত কাজ সম্পাদনের জন্য ইতোমধ্যে মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০২০ সালের জুনের পরিবর্তে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে বাস্তবিক পক্ষে প্রকল্পের ভৌত কাজ সম্পূর্ণভাবে সমাপ্ত করা সম্ভব হবে না। সেজন্য প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধিসহ আরও ২ বছর বৃদ্ধির জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রস্তাব করবে।

গণপূর্ত সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের আওতায় ৬৫০ বর্গফুট, ৪ ইউনিট বিশিষ্ট দুটি ২০তলা ভবনে ১৫২টি ফ্ল্যাট; ৮৫০ বর্গফুট, ৪ ইউনিট বিশিষ্ট ৪টি ২০তলা ভবনে ৩০৪টি ফ্ল্যাট এবং এক হাজার বর্গফুট, ৪ ইউনিট বিশিষ্ট ২০তলা ভবনে ২২৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে।

পরিদর্শনে আইএমইডি দেখে, ৯টি ভবনের নির্মাণ কাজ মোট ৩টি প্যাকেজের আওতায় চলমান রয়েছে। যার মধ্যে ডব্লিউ-২ প্যাকেজের আওতায় ১, ২ ও ৩ নম্বর ভবনের ভৌত অগ্রগতি ২৩ শতাংশ। ডব্লিউ-৩ প্যাকেজের আওতায় ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ভবনের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৩৪ শতাংশ। আর ডব্লিউ-৪ প্যাকেজের আওতায় ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ভবনের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ। প্রকল্পের ভৌত কাজের অগ্রগতি মোট ২৬ শতাংশ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আইএমইডিকে জানিয়েছে, কার্যাদেশ দেয়ার পরে পুরতন ভবন অপসারণে ৬ মাস দেরি হওয়ায় এবং এডিপিতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি আশানুরূপ সাধিত হয়নি।

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১

মৌসুমের আগেই পড়ে গেল আলুর দাম, লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক

মৌসুমের আগেই পড়ে গেল আলুর দাম, লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক

 

চারদিনের ব্যবধানে আলুর দাম অর্ধেকে নেমেছে। এখন ২০ টাকায় আগাম জাতের নতুন আলু কেনা যাচ্ছে রাজধানীর খুচরা বাজারেই। আর চাষি পর্যায়ে দাম নেমেছে ১০ টাকায়। যদিও পুরোপুরি আলু ওঠার মৌসুম শুরু হবে আরও এক-দুই সপ্তাহ পর। তাই বাজারে দ্রুত এ দামের পড়তিতে খুবই চিন্তিত কৃষকরা। বিগত বছরগুলোর ন্যায় এ বছরও আলু নিয়ে চরম লোকসানের আশঙ্কায় তারা।

গত দেড়-দুমাস ভোক্তা পর্যায়ে আলুর দাম বেশি থাকলেও প্রকৃত কৃষকরা যখন বাজারে পণ্যটি আনছেন তখনই এ দরপতন হলো। এর দুটি প্রধান কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এরমধ্যে একটি হচ্ছে, গত মৌসুমের শেষ দিক থেকে বেশি দাম থাকার কারণে লাভের আশায় চলতি মৌসুমে আলুর চাষ বাড়িয়েছেন চাষিরা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, দেশে সার্বিক আলুর উৎপাদন চাহিদার বেশি। একই সময় রফতানিও কমেছে। ফলে বাড়তি আলু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যও বলছে এমনটাই। চলতি মৌসুমে দেশে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭১ হাজার টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। যা গত বছরের প্রকৃত উৎপাদনের থেকে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন বেশি। গত অর্থবছর (২০১৯-২০) দেশের আলুর উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯ লাখ ১৭ হাজার টন।

অধিদফতরের হিসাব মতে, দেশে বছরে আলুর চাহিদা মাত্র ৭৭ লাখ টন। অর্থাৎ বছরে ২৬ থেকে ৩৭ লাখ টন আলু উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে। এ আলু কাজে লাগানোর একমাত্র উপায় রফতানি। তবে আলু রফতানির চিত্র মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। বছরে রফতানি হচ্ছে বড়জোর ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টন।

এমন পরিস্থিতিতে প্রতি বছর ভরা মৌসুম ও মৌসুমের শেষে আলু নিয়ে দারুণ পীড়াপীড়ি শুরু হয় কৃষকের। তাদের ক্ষেত, মাঠ, উঠান, হাট সর্বত্রই আলুময় হয়ে যায়। দাম না পাওয়ায় সেই আলু ক্ষেতেই রেখে চলে যান তারা। আবার অনেকে মৌসুমে কোল্ডস্টোরে আলু রাখলেও দাম না পান তেমন। সবমিলে আলুই তখন কৃষকদের গলার ফাঁস হয়েই দাঁড়া। এ বছরও এমন শঙ্কা দেখছেন আলু চাষিরা।

বগুড়া মোকামতলার কৃষক এনায়েত বলেন, কদিন আগে আলু বেচছি ২৬ টাকা। এখন আলু ১০ টাকা। দুদিন পরে হবে ছয় টাকা, তারপর চার টাকায়ও আলু নেবে না ব্যাপারীরা। এখনও ক্ষেত থেকে ২০ শতাংশ আলু ওঠেনি এই অঞ্চলের। এরমধ্যেই পড়ে গেল দাম।

তিনি আরও বলেন, এত আলু খাবে কে? হুজুগে সবাই এবার আলু চাষ করেছে। কিন্তু এ সবজির তো চাহিদা থাকে না। শেষে কোল্ডস্টোরে রেখে জমি বেচে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।

বেশ কয়েকজন কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জানান, এ মৌসুমে এক কেজি আলু উৎপাদনের খরচ পড়েছে ৮-৯ টাকা। কৃষক পর্যায়ে এর নিচে দাম নামলে লোকসান হবে চাষিদের। এছাড়া এবার আলু উৎপাদিত হচ্ছে এক কোটি ১৩ লাখ টনেরও বেশি।

দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত জয়পুরহাট। এখানে ভরা মৌসুম আসতে আরও প্রায় এক মাস বাকি থাকলেও এরইমধ্যে জমি থেকে আগাম জাতের আলু উত্তোলন করছিলেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূল আর রোগ-বালাই কম হওয়ায় ক্ষেতের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।

এ জেলায় এবার আলু চাষ হয়েছে ৪০ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে। বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ করে উৎপাদন হয়েছে ৪৫-৫০ মণ আলু। কিন্তু হঠাৎ দাম কমে এ এলাকায় পাইকারিতে প্রতি মণ ৪০০ টাকায় নেমেছে।

অন্যদিকে, মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আলু। জেলার দু-তৃতীয়াংশ কৃষিজমিতে আলু আবাদ করে থাকেন স্থানীয় কৃষকরা। জেলা সদরের চরমশুরা এলাকার কৃষক আজিজুল জানান, তার ৭০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু চাষ করেন। বাজারে আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় চিন্তিত তিনি। গেল বছরও দাম না থাকায় আলুতে লোকসান হয়েছে তার।

রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১

দেশে উন্নত প্রযুক্তির ডেইরি ফার্ম স্থাপন করল ইয়ন গ্রুপ

দেশে উন্নত প্রযুক্তির ডেইরি ফার্ম স্থাপন করল ইয়ন গ্রুপ

 

দেশে উন্নত প্রযুক্তির হাই-টেক ডেইরি ফার্ম স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে হাতের স্পর্শ ছাড়াই অটোমেটেড মেশিনের মাধ্যমে দুধ দোহন এবং আইওটি সেন্সরের মাধ্যমে প্রতিটি গরুর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা, দুধ দোহন অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এছাড়া অসুস্থ অবস্থায় ওষুধের সঠিক ব্যবহার, প্রজনন স্বাস্থ্য নিখুঁতভাবে মনিটরিং এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

দেশের উন্নতম অ্যাগ্রো বেইসড ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইয়ন গ্রুপ এ ডেইরি ফার্ম স্থাপন করলো। প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণরূপে অনলাইনে দুধ পাস্তুরিত করে ‘বাকারা’ ব্র্যান্ডের নামে তা বাজারজাত করবে বলে রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর এ ফার্মে ভোক্তা সাধারণের হাতে অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত দুধ পৌঁছানো যাবে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অ্যান্টিবায়োটিক থাকা গাভিগুলোকে আলাদা করে ফেলা যায় এ উন্নত ফর্মে। এ কারণে কোনো অবস্থাতেই অ্যান্টিবায়োটিক আছে এমন দুধ মূল প্রসেসিং চ্যানেলে আসে না।

এ পদ্ধতিতে সঠিক উপায়ে আমদানিকৃত মেশিনে গো-খাদ্য প্রস্তুত করে সঙ্গে সঙ্গে গরুকে খাওয়ানো হয় বলে দেহের আফলাটক্সিন যেতে পারে না। এর ফলে গাভীর দুধ থাকে আফলাটক্সিন মুক্ত। ভোক্তাসাধারণের কাছে নিরাপদ দুধ পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এদিকে শনিবার (৯ জানুয়ারি) রংপুরের বদরগঞ্জের এ ফার্মে পাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় পণ্য উৎপাদনের শুভ উদ্বোধন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এরপর থেকে ফার্মটি উৎপাদনে রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, ইয়ন গ্রুপ অস্ট্রেলিয়া থেকে ২২৫টি গাভী নিয়ে এসে হাই-টেক ডেইরি ফার্ম স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে হাতের স্পর্শ ছাড়াই দুধ দোহন, মিল্কিং পার্লার স্থাপন করেছে।

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

নভোএয়ার-এর ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নভোএয়ার-এর ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

 

দেশের অন্যতম স্বনামধন্য বেসরকারি এয়ারলাইন্স নভোএয়ার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে।

নভোএয়ার ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন শুরু করে।

৮ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়িক সহযোগী ও যাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, নভোএয়ার সব সময়ই যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপদ ভ্রমণে যাত্রীদের কাছে বিশ্বস্ততা অর্জন করেছে। সময় অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রী সেবার মান আরও বাড়ানোর জন্য প্রতিনিয়ত নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সময় অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করতে নভোএয়ারের বহরে নিজস্ব সাতটি এটিআর ৭২-৫০০ মডেলের উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন বছরে পদার্পণের অঙ্গীকার হবে আমাদের যাত্রীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্য সম্প্রসারণ, বহরে আরও উড়োজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা।

নভোএয়ারের ফ্লাইট নেটওয়ার্ক ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, সিলেট, সৈয়দপুর, বরিশাল ও রাজশাহী এবং আন্তর্জাতিক গন্তব্য কলকাতায় বিস্তৃত।

নিরাপদ খাদ্য: বাধ্যবাধকতার আওতায় আসছেন ব্যবসায়ীরা

নিরাপদ খাদ্য: বাধ্যবাধকতার আওতায় আসছেন ব্যবসায়ীরা

 

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে নানা বাধ্যবাধকতার আওতায় আসছেন খাদ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা। এজন্য ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ‘নিরাপদ খাদ্য (খাদ্য ব্যবসায়ীর বাধ্যবাধকতা) প্রবিধানমালা, ২০২০’ প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীরা খাদ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যেসব কাজ করতে বাধ্য থাকবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে এই প্রবিধানমালায়।

এতে বলা হয়েছে, খাদ্য ব্যবসায়ীদের তাদের পণ্যে ব্যবহার করা রাসায়নিকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণক সংরক্ষণ করতে হবে। খাদ্য উৎপাদনের কাঁচামালের বিষয়েও তথ্য-প্রমাণক সংরক্ষণ করতে হবে তাদের। খাদ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বাধ্য থাকবেন ব্যবসায়ীরা। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণও দিতে হবে। প্রবিধানের শর্ত পালন করতে ব্যর্থ হলে খাদ্য ব্যবসায়ীকে পড়তে হবে শাস্তির মুখে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাইউম সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ব্যবসায়ীরা কী করবেন তা বলা ছিল। তবে সেটা ছিল সংক্ষিপ্ত আকারে। এখন আমরা বিস্তারিত প্রক্রিয়া বলে দিয়েছি প্রবিধানমালায়। এগুলো মানতে তারা বাধ্য থাকবেন। না মানলে আমরা আমাদের ফোর্স অ্যাপ্লাই করব। মূল আইনে শাস্তির বিষয়টি রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রবিধানমালার কারণে আমাদের তদারকি কিংবা এনফোর্সমেন্টের কাজ আরও সহজ হবে। কারণ আগে ব্যবসায়ীরা বলতেন প্রসেস জানি না, কীভাবে করব। এখন আর তারা সেটা বলতে পারবেন না।’

আমদানি ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডসহ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রস্তুতকরণ, মোড়কজাতকরণ, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, বিতরণ, প্রদর্শন ও বিপণনের সব পর্যায়ের জন্য এই প্রবিধানমালা প্রযোজ্য হবে।

jagonews24

খাদ্যে-ভেজালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় রাস্তায় নেমেছে দেশের সচেতন সমাজ

প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে খাদ্য ব্যবসায়ীদের খাদ্য প্রস্তুত বা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহার করতে হবে। প্রিজারভেটিভ বা রঞ্জক বা ঘ্রাণ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক বা ব্যবহৃত অন্য যে কোনো রাসায়নিকের নাম, বৈজ্ঞানিক সংকেত, রাসায়নিক কোড, পরিমাণ, গ্রেড, বিশুদ্ধতা, উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম এবং ঠিকানা, উৎস স্থান বা দেশ, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, খাদ্যে ব্যবহারের উপযুক্ততা ইত্যাদি তথ্য নথিভুক্ত করে প্রত্যেক ব্যাচভিত্তিক তথ্য ও প্রমাণক সংরক্ষণ করবেন খাদ্য ব্যবসায়ীরা।

উৎপাদন বা আমদানি করা খাদ্যে অনুমোদিত রাসায়নিক বা ভারী ধাতু বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ বা রঞ্জক বা সুগন্ধি বা ক্ষতিকর অণুজীব ইত্যাদির উপস্থিতি বা মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি রয়েছে কি-না তা শনাক্তে স্বীকৃত পরীক্ষাগারে খাদ্যের নমুনা বিশ্লেষণ করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংরক্ষণ করবেন খাদ্য ব্যবসায়ীরা। এছাড়া খাদ্যের মান নির্ধারিত পর্যায়ে রয়েছে কি-না, ব্যবসায়ীরা তা স্বীকৃত খাদ্য পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করাবেন এবং সন্তোষজনক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে খাদ্য বা খাদ্যপণ্য বাজারজাত করবেন।

ব্যবসায়ী খাদ্যের মেয়াদ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করবেন এবং যার ভিত্তিতে খাদ্যের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই বিশ্লেষণ প্রতিবেদন বা তথ্যাদি ও প্রমাণক সংরক্ষণ করবেন। তবে আমদানি করা খাদ্যপণ্যের মেয়াদ মূল প্রস্তুতকারী নির্ধারণ করবেন।

ব্যবসায়ী খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা সংশ্লিষ্ট প্রমাণক ও দলিলাদি হালনাগাদ করবেন এবং কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী পেশ করতে হবে বলে প্রবিধানমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

খাদ্য ব্যবসায়ী কাঁচামাল চিহ্নিতকরণ, প্রক্রিয়াকরণ, উৎপাদন, আমদানি, সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম যাচাইয়ের প্রয়োজনীয় প্রমাণক সংরক্ষণ করবেন এবং অন্য কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে খাদ্য বা খাদ্য উপকরণ (কাঁচামাল), মৎস্যখাদ্য, পশুখাদ্য বা খাদ্য বা মৎস্য ও পশুখাদ্যের সংযোজক দ্রব্য ইত্যাদি সরবরাহ বা গ্রহণ করলে তা চিহ্নিত করার জন্য প্রমাণক সংরক্ষণ করবেন।

খাদ্য ব্যবসায়ীকে অন্য কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে খাদ্য বা খাদ্যপণ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে খাদ্য ব্যবসায়ীর নাম ও ঠিকানা; খাদ্যের যথাযথ বিবরণ; খাদ্যের পরিমাণ, লট, ব্যাচ, চালান (যা প্রযোজ্য) শনাক্ত করার স্মারক ইত্যাদি; প্রত্যেকটি লেনদেন বা সরবরাহের তারিখ; সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য প্রমাণক হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।

খাদ্য ব্যবসায়ীর অন্য কোনো ব্যবসায়ীকে খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে খাদ্য ব্যবসায়ীর নাম ও ঠিকানা; খাদ্যের যথাযথ বিবরণ; খাদ্যের পরিমাণ; লট, ব্যাচ, চালান (যা প্রযোজ্য) শনাক্ত করার স্মারক ইত্যাদি; প্রত্যেকটি লেনদেন বা সরবরাহের তারিখ; সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

খাদ্য প্রস্তুত বা প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতি পরিবর্তন বা কারিগরি বিচ্যুতি সংশোধন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের নিয়ন্ত্রণ ধাপ সম্পর্কিত তথ্যাদি এবং খাদ্যদ্রব্যের বিশেষ সংরক্ষণ, সরবরাহ বা বিতরণ ও ব্যবহারের প্রমাণক সংরক্ষণ করতে হবে।

খাদ্য ব্যবসায়ী এসব প্রমাণক বা তথ্য খাদ্যপণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণের পর কমপক্ষে তিন মাস পর্যন্ত এবং খাদ্য ব্যবসার অন্যান্য তথ্য বা প্রমাণক পাঁচ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন।

প্রবিধানমালায় আরও বলা হয়েছে, খাদ্য ব্যবসায়ীকে নিশ্চিত করতে হবে যে, খাদ্য ব্যবসায়ে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং আইন ও বিধি-বিধান ও নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে থাকেন। খাদ্য ব্যবসায়ীকে তার কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

খাদ্য ব্যবসায়ীকে নিশ্চিত করতে হবে, খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত ও স্থানান্তর বা পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ রয়েছে এবং যে কাজে তারা নিয়োজিত সেই কাজে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ সম্পর্কিত জ্ঞান ও দক্ষতার প্রতিফলন ঘটিয়ে থাকেন।

jagonews24

ভেজাল ও মানহীন পণ্য বিক্রির কারণে সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারের সামি স্টোরকে জরিমানা করা হয়

খাদ্য ব্যবসায়ীকে খাদ্যের বিশেষ সংরক্ষণ ব্যবস্থা (খাদ্য হিমায়িত, শীতলীকৃত, বায়ুনিরোধকৃত, নিয়ন্ত্রিত বা পরিবর্তিত গ্যাসীয় ইত্যাদি কারিগরি বা প্রযুক্তিগত পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে সংরক্ষণ) নিশ্চিত করতে হবে এবং এই বিশেষ সংরক্ষিত খাদ্য সরবরাহ বা বিতরণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে একই প্রকারের বা সমজাতীয় কারিগরি বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে।

যদি কোনো খাদ্য ব্যবসায়ী তার খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বা খাদ্য ব্যবসায়ে পদ্ধতিগত বা প্রকৃতিগত বা প্রযুক্তিগত কোনো সংস্কার বা পরিবর্তন সাধন করেন বা করার উদ্যোগ নেন, তাহলে এই পরিবর্তনের বিষয়টি পরিদর্শনের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে পরিদর্শক বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, খাদ্য ব্যবসায়ী বা তার কোনো প্রতিনিধি, খাদ্যকর্মী বা কর্মচারী এই প্রবিধানমালার প্রযোজ্য শর্ত পালন করছেন না, তাহলে ওই খাদ্য ব্যবসায়ীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শর্ত পালনের জন্য নোটিশ দেবেন।

এরপরও শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে খাদ্য ব্যবসায়ীকে সতর্ক করে নোটিশ দেবেন। এরপরও শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে তা নিরাপদ খাদ্যবিরোধী কাজ বলে গণ্য হবে। কোনো খাদ্য ব্যবসায়ী নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করণীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে পরিদর্শক বা কর্তৃপক্ষ তার খাদ্য ব্যবসা পরিচালনার লাইসেন্স বা নিবন্ধন সনদ বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক বা লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করবেন। একই সঙ্গে বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাবেন বলে প্রবিধানমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ভোক্তাকে জানানোর উদ্দেশ্যে পরিদর্শকের দেয়া সব নোটিশ খাদ্যপণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রদর্শন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২১

ভোগান্তি কমাতে সিসিআইঅ্যান্ডই ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি

ভোগান্তি কমাতে সিসিআইঅ্যান্ডই ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি

 

গ্রাহক ভোগান্তি কমিয়ে বাণিজ্যিক কাজ সহজ করতে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে সোনালী ব্যাংক এবং আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর (সিসিআইঅ্যান্ডই)। একইসঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ই-পেমেন্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে এ সেবা চালু হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। চুক্তি স্বাক্ষরকালে সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. আতাউর রহমান প্রধান এবং আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতরের প্রধান নিয়ন্ত্রক সোলেমান খান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ই-পেমেন্ট চালুর কারণে গ্রাহকরা সনাতন ধারার ব্যাংকে গিয়ে ম্যানুয়াল পেমেন্টের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবে। ফলে তাদের সময়, যাতায়াত ও খরচ সাশ্রয় হবে। ঘরে বসেই এই পেমেন্ট করা যাবে। অপরদিকে সিসিআইঅ্যান্ডই-এর কর্মকর্তারা বাস্তব সময়ে ই-চালানের তথ্য পাবেন। ফলে আমদানি ও রফতানি সংক্রান্ত সেবাগুলো আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। এর মধ্য দিয়ে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।

ই-পেমেন্ট সুবিধার কারণে পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রাহক ক্যাশ অন কাউন্টার (ব্যাংক ব্রাঞ্চ), অনলাইন অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, রকেট, নগদ, ইউক্যাশ ইত্যাদি) ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড (ভিসা, মাস্টার, এমেক্স, নেক্সাস ইত্যাদি) সহ অন্যান্য পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে অনলাইনে পেমেন্ট দিতে পারবেন।

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে আমদানি নিবন্ধন সনদ, রফতানি নিবন্ধন সনদ, শিল্প আমদানি নিবন্ধন সনদ, ইন্ডেন্টিং নিবন্ধন সনদ ইত্যাদি সেবা অনলাইনে অনলাইন লাইসেন্সিং মডিউল (ওএলএম) সফটওয়্যার দিয়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এই সেবা পেতে নির্ধারিত ফি টিআর চালানের মাধ্যমে ব্যাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সোনালী ব্যাংকে গিয়ে ম্যানুয়ালি জমা করতে হতো গ্রাহকদের। এরপর সেই চালানের স্ক্যান কপি আপলোড করে সিসিআইঅ্যান্ডই সেবার জন্য আবেদন করতে হয়।

এর ফলে টিআর চালান জমা হওয়ার পরদিন দুপুর ১২টার পরে সিজিএ অফিসের ওয়েবসাইট হতে অনলাইনে যাচাই করা হয়। এতে সেবাগ্রহীতাকে চালানে অর্থ জমা দেবার পরেও কাঙ্ক্ষিত সেবার জন্য একদিন অপেক্ষা করতে হতো। এর অন্যতম কারণ পেমেন্ট ব্যবস্থা ছিল সনাতনী ধাঁচের। আর সেই ভোগান্তি ঘুচাতে চালু করা হয়েছে ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এ বছর ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ৫০ বছর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করছি। এই দুটো বড় ঘটনা একসঙ্গে দেখছি এবার। সেজন্য আমরা এই বছরটা স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্নভাবে কাজ করছি। সবাই জানেন ১২ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হচ্ছে। আমরা শতভাগ অর্জন করেছি সেটা বলছি না। তবে সে লক্ষ্যে আমরা এগোচ্ছি।

টিপু মুনশি বলেন, করোনাকালে আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে অনেক কিছু বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে একটা বিষয়ে ভীষণ রকমের উন্নতি হয়েছে সেটা হলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের। এই করোনায় একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে যে, আমরা কখনো চিন্তা করিনি বাড়িতে বসে অনলাইনে পেঁয়াজ কিনতে পারবো। এটা শুভ লক্ষণ।

তিনি বলেন, সিসিআইঅ্যান্ডই গত জুন থেকে ডিজিটাল কার্যক্রম শুরু করেছে। আজকে সেটার সোনালী অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। আমরা চাই সকলে ঘরে বসে সব রকমের সুবিধা উপভোগ করুক।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা চালু হলে ইজ ডুইং বিজনেস অনেক খানি এগিয়ে যাবে। মানুষের সময় বাঁচবে, ঘরে বসে সেবা পাবে ও ভোগান্তি কমবে। এই ধারাবাহিকতায় সকল ব্যাংক এই পথে এগিয়ে আসবে বলে আমি আশা করছি। আমরা সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছি৷ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সবসময় সকলের সঙ্গে আছে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশের সেরা মন্ত্রণালয় হতে পারব। এজন্য সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন বলেন, এটি টিম কমার্সের একটি প্রয়াস। এর মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাজ সহজ হবে। আমরা বাণিজ্য পরিবার একসঙ্গে কাজ করলে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারব।

বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২১

নীতিমালা সংশোধন : ঋণ বিতরণের শর্ত শিথিল

নীতিমালা সংশোধন : ঋণ বিতরণের শর্ত শিথিল

 

ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ভোক্তা, ক্ষুদ্র ও স্বল্প মেয়াদী কৃষি ঋণ বিতরণের অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা সর্বশেষ নীতিমালা ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর) অনুসরণ করতে হবে না। ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা সংস্থা, মাইক্রোফিন্যান্স প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, স্টক ব্রোকারেজ এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এসব ঋণ বিতরণে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সরঞ্জাম এবং ঝুঁকি নিরসন কৌশল ব্যবহার করতে পারবে।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এ সার্কুলারে বলা হয়, সব ধরনের ঋণ বিতরণে আইসিআরআর নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। তবে ভোক্তা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকার বেশি এবং উৎপাদনশীল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা ঋণ দেয়ার জন্য নিজস্ব নিয়ম অনুসরণ করতে পারবে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা সংস্থা, মাইক্রোফিন্যান্স প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, স্টক ব্রোকারেজ ও বেসরকারি সংস্থাগুলো।

প্রসঙ্গত, দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছার প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে ঋণের ঝুঁকি পরিমাপের নতুন নীতিমালা উদ্বোধন করেন গভর্নর ফজলে কবির। ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর) নামের এই নীতিমালায় ঋণের পরিমাণ ও গুণগত উভয় ধরনের সক্ষমতার মূল্যায়ন শর্ত রাখা হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এই শর্তগুলো পূরণ না করেও ঋণ পাবেন গ্রাহক।

মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্রাহককে চার শ্রেণিতে বিভাজন করবে ব্যাংকগুলো। কোনো গ্রাহক ‘চমৎকার’ (এক্সিলেন্ট) বা ‘ভালো’ (গুড) রেটিং পেলে ব্যাংক তাকে অর্থায়ন করতে পারবে। ‘প্রান্তিক’ (মার্জিনাল) রেটিংধারী গ্রাহককে পুরনো ঋণ নবায়ন বা নতুন করে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিংধারীকে কোনো পরিস্থিতিতেই নতুন ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো, যদি না আগের ঋণ শতভাগ নগদ পরিশোধ হয় অথবা জামানত দিয়ে ঋণটি আচ্ছাদন করা হয়। ‘অগ্রহণযোগ্য’ (আনএকসেপ্টেবল) রেটিংভুক্ত গ্রাহকের আগের ঋণ সর্বোচ্চ দুবার নবায়ন বা বর্ধিত করা যাবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, রেটিং করার ক্ষেত্রে একটি পার্টি বা গ্রাহকের পরিমাণগত সক্ষমতায় ৬০ শতাংশ নম্বর এবং গুণগত সক্ষমতায় ৪০ শতাংশ নম্বর থাকবে। পরিমাণগত সক্ষমতা সূচকে ৬০ নম্বরের মধ্যে মোট গৃহীত ঋণ ও আর্থিক সক্ষমতায় ১০, চলতি দায় ও তরল সম্পদে ১০, মুনাফার সক্ষমতায় ১০, সুদ পরিশোধের সক্ষমতা ও নগদ প্রবাহের ওপর ১৫, পরিচালনগত দক্ষতায় ১০ এবং ব্যবসার মানের ওপর পাঁচ নম্বর থাকবে।

এছাড়া, গুণগত সক্ষমতায় ৪০ নম্বরের মধ্যে কার্যদক্ষতার আচরণে (পারফরম্যান্স বিহ্যাভিয়র) ১০, ব্যবসা ও খাত ঝুঁকিতে সাত, ব্যবস্থাপনা ঝুঁকিতে সাত, জামানত ঝুঁকিতে ১১, সম্পর্ক ঝুঁকিতে তিন, পরিপালন ঝুঁকিতে দুই নম্বর থাকবে।

এই রেটিংয়ে কোনো গ্রাহক ৮০’র বেশি নম্বর পেলে তাকে ‘চমৎকার’, ৭০-এর বেশি এবং ৮০’র কম নম্বর পেলে ‘ভালো’, ৬০-এর বেশি এবং ৭০-এর কম পেলে ‘প্রান্তিক’ এবং ৬০-এর নিচে নম্বর পেলে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিং দেয়া হবে। তবে কোনো গ্রাহক গুণগত রেটিংয়ে যত নম্বরই পাক না কেন, পরিমাণগত রেটিংয়ে ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে তাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিং দেয়া হবে।

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২১

ডিসিসিআই বিজনেস কনক্লেভের উদ্বোধন করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিসিসিআই বিজনেস কনক্লেভের উদ্বোধন করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 

দেশে প্রথমবারের মতো সর্ববৃহৎ অনলাইনভিত্তিক বিটুবি সম্মেলন ‘ডিসিসিআই বিজনেস কনক্লেভ-২০২১’ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। কনক্লেভে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২২৭টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ‘ডিসিসিআই বিজনসে কনক্লেভ ২০২১’ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ডিসিসিআই’র এই উদ্যোগ বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সমাজে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের কর্মস্পৃহা ও উদ্যোমের বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতির উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মহামারির মধ্যেও আমাদের পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল ছিল। বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয়ের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে।

momen01

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ‘ইকোনোমিক ডিপ্লোমেসি’ নীতি গ্রহণ করেছে। যেখানে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে দেশীয় উদ্যোক্তাদের অভিগম্যতা বৃদ্ধি, দেশীয় পণ্যের রফতানির বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তথ্য-প্রযুক্তির আদান-প্রদান বাড়ানো প্রভৃতি বিষয় প্রাধান্য পাবে।

স্বাগত বক্তৃতায় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিদ্যমান পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশও শিল্পখাতে পণ্য উৎপাদন ও সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে নানাবিধ উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। তিনি ‘ডিসিসিআই বিজনেস কনক্লেভ ২০২১’-এ অংশগ্রহণকারী বিদেশি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, আশা করি- আজকের এ আয়োজন অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং একই সাথে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।