ক্রিকেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ক্রিকেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

১ রানেই নেই বাংলাদেশের ২ উইকেট

১ রানেই নেই বাংলাদেশের ২ উইকেট

 

কেমার রোচ জুজু কাটাতেই হয়তো নিজে স্ট্রাইক না নিয়ে প্রথম বল খেলতে দিয়েছেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামকে। কিন্তু এতে কোনো ফায়দা হয়নি তামিম ইকবালের। রোচের বল এড়িয়ে গেলেও তিনি আউট হয়েছেন রাহকিম কর্নওয়ালের বলে। একই ওভারে সাজঘরে ফিরে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্তও।

একই ওভারে তামিম-শান্তর বিদায়ে দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ২ ওভারে মাত্র ১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গেছে বাংলাদেশ দল। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়দের ২৫৯ রানে অলআউট করে ১৭১ রানের লিড পেলেও, দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা একদমই ভালো হলো না টাইগারদের।

এ রিপোর্ট লেখার সময় বাংলাদেশের রান ২ উইকেট হারিয়ে ২১। ২ রান নিয়ে সাদমান ইসলাম এবং ১৮ রান নিয়ে ব্যাট করছেন মুমিনুল হক।

তামিমের টেস্ট ক্যারিয়ারের আগের ৬০ ম্যাচে কখনও এমন হয়নি যে, তিনি ইনিংস সূচনা করেছেন কিন্তু প্রথম বল মোকাবিলা করেননি। অথচ চলতি টেস্টের দুই ইনিংসেই তিনি স্ট্রাইক ছেড়ে দিয়েছেন সাদমানের কাছে। প্রতিপক্ষের পেসার কেমার রোচের বলে ওয়ানডে ৭ ও টেস্টে ৩ বার আউট হওয়ার কারণেই হয়তো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তামিম।

প্রথম ইনিংসে সফল হননি তামিম। টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো আউট হন রোচের বলেই। পরে আজ দ্বিতীয় ইনিংসেও সাদমানকে স্ট্রাইক দেন তামিম। রোচের প্রথম ওভার পার করে দেন সাদমান। দ্বিতীয় ওভার আক্রমণে আসেন কর্নওয়াল। প্রথম তিন বল দেখেশুনে খেলে চতুর্থ বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তামিম। আগের ইনিংসে ৯ করলেও, এবার রানের খাতা খোলা সম্ভব হয়নি তার।

ইনিংসের শুরুতেই তামিমের বিদায়ের পর উইকেটে টিকতে পারেননি নাজমুল শান্তও। এক বল খুবই অলস এক শটে স্লিপে দাঁড়ানো জার্মেইন ব্ল্যাকউডের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তামিম-নাজমুলের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। তৃতীয় উইকেটে খেলছেন ওপেনার সাদমান ও অধিনায়ক মুমিনুল হক।

উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ২৩ বলের ব্যবধানে মিরাজ-তাইজুলদের এ ভেলকিতে ক্যারিবীয়রা অলআউট হয়েছে ২৫৯ রানে। বাংলাদেশ পায় ১৭১ রানের লিড।

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

‘রাহানেকে অধিনায়কত্ব দিন, কোহলি শুধু ব্যাটিংই করুক’

‘রাহানেকে অধিনায়কত্ব দিন, কোহলি শুধু ব্যাটিংই করুক’

 

২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফি ও এশিয়া কাপ ক্রিকেটে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। এরপর জোরেশোরে আওয়াজ তোলা হয়, বিরাট কোহলির বদলে রোহিতকেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের অধিনায়ক করার। তা হয়নি। তবে এখনও প্রায়ই শোনা যায় এ কথা।

আর এখন নতুন করে যোগ হয়েছে অজিঙ্কা রাহানের নাম। ভারতের সবশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে দুর্দান্ত অধিনায়কত্ব করেছেন রাহানে। প্রথম ম্যাচে ৩৬ রানে অলআউট হওয়ার পর পিতৃত্বকালীন ছুটিতে ভারতে চলে গিয়েছিলেন নিয়মিত অধিনায়ক কোহলি। পরের তিন ম্যাচে নেতৃত্ব দেন রাহানে।

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে দলকে এনে দেন জয়। পরের দুই ম্যাচের একটি হয় ড্র, অন্যটি জিতে সিরিজের শিরোপাও নিজেদের করে নেয় ভারত। এরপর থেকেই মূলত সাদা পোশাকের ক্রিকেটে কোহলির বদলে রাহানেকে অধিনায়কত্ব দেয়ার দাবি তুলেছেন ভক্ত-সমর্থকরা।

যেখানে আছেন অনেক সাবেক ক্রিকেটার-বিশ্লেষকও। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার শেন লিও তাদের মধ্যে একজন। তার মতে, অধিনায়কত্ব রাহানেকেই দেয়া উচিত। যাতে করে দলের সেরা ব্যাটসম্যান কোহলি চাপহীনভাবে ব্যাটিং করতে পারেন। যদিও কোহলির অধীনেই সর্বোচ্চ ৩৩টি জয় পেয়েছে ভারত।

তবু সবশেষ সিরিজে রাহানের অধিনায়কত্বে মন্ত্রমুগ্ধ শেন লি। তিনি বলেন, ‘আপনি রাহানের দিকে দেখুন, অধিনায়ক হিসেবে সবশেষ সিরিজে সে দশে দশ পাবে। সে দুর্দান্ত ছিল এবং ভারতীয় দলকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মতে, আমি হলে রাহানেকেই অধিনায়কত্ব দিতাম। কোহলি সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। আমার মনে হয়, দলের সব খেলোয়াড় তাকে একপ্রকার ভয় পায়। সে দলের কাছ থেকে শতভাগ পেশাদারিত্ব চায়। দলের ফিটনেস নিয়ে কোনো সমঝোতায় রাজি নয়। তারা এখন ফিল্ডিং ও ক্যাচিংয়ে দারুণ দল। তবে খানিক ভয়েও থাকে। কিন্তু রাহানের অধীনে তাদের মধ্যে একটা স্বস্তি দেখতে পাই।’

রাহানেকে অধিনায়কত্ব দিয়ে কোহলিকে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে শেন লি বলেন, ‘কোহলি কি অধিনায়কত্ব ছাড়বে? আমার সন্দেহ আছে। আমি ভারতীয় দলের নির্বাচক হলে রাহানেকে নেতৃত্বভার দিতাম এবং কোহলিকে পুরোপুরি ব্যাটিংয়ে মনোযোগের সুযোগ দিতাম। আমার মতে, এটাই দলের জন্য ভালো হবে।’

শনিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২১

ক্রিকেট অপসে যুক্ত হচ্ছেন শাহরিয়ার নাফীস, তবে কোন পদে?

ক্রিকেট অপসে যুক্ত হচ্ছেন শাহরিয়ার নাফীস, তবে কোন পদে?

 

‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবির) ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার পদে কি পরিবর্তন আসছে? সাব্বির খানের বদলে কি নতুন কাউকে বোর্ডের ক্রিকেট অপসের ম্যানেজার পদে বসানো হচ্ছে?

জাতীয় দলের সাবেক অলরাউন্ডার সাব্বির খানের জায়গায় কী আরেক সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীসকে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির ম্যানেজার কিংবা হেড অফ অপারেশন্স করা হচ্ছে? ঠিক চাওর না হলেও ক্রিকেট পাড়ায় এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

এটা কী শুধুই গুঞ্জন, না বিসিবি সত্যি সত্যি আনুষ্ঠানিকভাবেই ক্রিকেট অপসে নতুন করে কাউকে মানে শাহরিয়ার নাফীসকে বসানোর কথা ভাবছে?

জাগো নিউজের কাছ থেকে এ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি প্রধান আকরাম খান জানান, বিষয়টা মোটেই গুজব নয়। সত্য। বিসিবি সত্যিই শাহরিয়ার নাফীসকে ক্রিকেট অপসের সঙ্গে যুক্ত করতে যাচ্ছে। শাহরিয়ার নাফীস ক্রিকেট অপারেশনন্সে যোগ দিচ্ছে এবং খুব শিগগিরই তাকে নিয়োগ দেয়া হবে।’

কিন্তু তার পদ-পদবী কী হবে? শাহরিয়ার নাফীস কি হেড অফ ক্রিকেট অপারেশন্স হবে, না ক্রিকেট অপস ম্যানেজার নাকি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করবে, সেটা এখনো ঠিক করা হয়নি।’

এর বাইরে আরও একটি কথাও বলেছেন আকরাম খান। সেটা কোন আভাস কিংবা ইঙ্গিতে নয়, সরাসরিই তার মুখ থেকে বেরিয়ে গেছে। তাহলো, শাহরিয়ার নাফীসকে নির্বাচক পদেও মনোনীত করার কথা ভাবা হচ্ছিল। সে ক্ষেত্রে হয়ত জুনিয়র নির্বাচক হিসেবে সাজ্জাদ আহমেদ শিপনের সাথে শাহরিয়ার নাফীসকে দেখা গেলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না?

শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২১

টিভিতে আজকের খেলা

টিভিতে আজকের খেলা

 

ক্রিকেট
আবুধাবি টি-টেন
বাংলা টাইগারস-মারাঠা অ্যারাবিয়ানস
সন্ধ্যা ৬.০০টা
সরাসরি টি স্পোর্টস

টিম আবুধাবি-কালান্দারস
রাত ৮.১৫ মিনিট
সরাসরি টি স্পোর্টস

নর্দার্ন ওয়ারিয়র্স-দিল্লি বুলস
রাত ১০.৩০ মিনিট
সরাসরি টি স্পোর্টস

ফুটবল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
এভারটন-নিউক্যাসল
সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট
সরাসরি স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

ম্যানচেস্টার সিটি-শেফিল্ড ইউনাইটেড
রাত ৯.০০টা
সরাসরি স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

ক্রিস্টাল প্যালেস-উলভারহাম্পটন
রাত ৯.০০টা
সরাসরি স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

আর্সেনাল-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
রাত ১১.৩০ মিনিট
সরাসরি স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

সাউদাম্পটন-অ্যাস্টন ভিলা
রাত ২.০০টা
সরাসরি স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

ইতালিয়ান সিরি ‘আ’
বোলোনিয়া-এসি মিলান
রাত ৮.০০টা
সরাসরি টেন ২

সাম্পদোরিয়া-জুভেন্টাস
রাত ১১.০০টা
সরাসরি টেন ২

ইন্টার মিলান-বেনেভেন্তো
রাত ১.৪৫ মিনিট
সরাসরি টেন ২

স্প্যানিশ লা লিগা
এইবার-সেভিয়া
সন্ধ্যা ৭.০০টা
সরাসরি ফেসবুক লাইভ

রিয়াল মাদ্রিদ-লেভান্তে
রাত ৯.১৫ মিনিট
সরাসরি ফেসবুক লাইভ

ভ্যালেন্সিয়া-এলচে
রাত ১১.৩০ মিনিট
সরাসরি ফেসবুক লাইভ

ভিয়ারিয়াল-রিয়াল সোসিয়েদাদ
রাত ২.০০টা
সরাসরি ফেসবুক লাইভ

বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১

ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশের পর লঙ্কান প্রধান নির্বাচকের পদত্যাগ

ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশের পর লঙ্কান প্রধান নির্বাচকের পদত্যাগ

 

নতুন বছরের শুরুটা ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে লঙ্কানরা। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েও দুই ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় তারা। দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পদত্যাগ করেছেন প্রধান নির্বাচক অসান্থা ডি মেল।

২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে শ্রীলঙ্কার প্রধান নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন ডি মেল। প্রধান নির্বাচকের পাশাপাশি ম্যানেজারের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ডি মেল জানিয়েছেন, মূলত আগে থেকেই দায়িত্ব ছাড়ার কথা ভাবছিলেন তিনি।

জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে ডি মেল বলেছেন, ‘আমি দুইটি দায়িত্ব থেকেই পদত্যাগের পরিকল্পনা করে ফেলেছিলাম। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টটি শেষ হওয়ার কথা ভাবছিলাম। ম্যানেজারের ক্ষেত্রে পরবর্তী সফরের জন্য নতুন জনের ভিসা তৈরির বিষয় আছে। তাই আগেভাগেই জানিয়ে দিলাম আমি। আমার মনে হয়েছে এখনই যথার্থ সময়, দুই বছর হয়েছে।’

নতুন ম্যানেজার হিসেবে জেরোমে জয়ারত্নেকে দায়িত্ব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। তিনি ২০১৫-১৬ সালে লঙ্কানদের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচসহ নানাবিধ দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন তিনি কাজ করবেন ম্যানেজার হিসেবে। তবে প্রধান নির্বাচক হিসেবে কাউকে এখনও নিয়োগ দেয়া হয়নি।

অসান্থা ডি মেলের প্রধান নির্বাচক ও ম্যানেজার থাকাকালীন সময়ে খুব একটা ভালো ফল পায়নি শ্রীলঙ্কা। টেস্ট ক্রিকেটে তারা জিতেছে মাত্র ৪ ম্যাচ, বিপরীতে হেরেছে ৯টি। এর মধ্যে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশের নেতিবাচক অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তবে ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল লঙ্কানরা।

গত দুই বছরে শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফলাফলও খুব একটা ভাল ছিল না। এ সময়ে তারা শুধুমাত্র একটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি এবং গতবছর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়েছিল লঙ্কানরা।

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

টেস্ট দলে জায়গা হারিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সহ অধিনায়ক

টেস্ট দলে জায়গা হারিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সহ অধিনায়ক

 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েড। ভারতের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণেই জায়গা হারিয়েছেন ওয়েড। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সহ অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন তিনি।

আগামী মার্চের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার কথাবার্তা চূড়ান্ত হলেই ঠিক করা হবে সিরিজের দিনক্ষণ। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ৭ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড যাবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল।

প্রায় একই সময়ে হতে যাওয়া দুই দেশে দুই সিরিজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দুইটি স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে তিন অনভিষিক্ত খেলোয়াড়কে। তারা হলেন তরুণ লেগস্পিনার তানভির সাঙঘা, জশ ফিলিপ এবং রিলে মেরেডিথ।

টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড পেয়েছেন টি-টোয়েন্টিতে সহ অধিনায়কের দায়িত্ব। তার বদলে টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন আরেক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারে। এছাড়া মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেডের ওপরেও ভরসা রেখেছেন নির্বাচকরা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড
অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক), ম্যাথু ওয়েড (সহ অধিনায়ক), অ্যাশটন অ্যাগার, জেসন বেহরেনডর্ফ, মিচেল মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, বেন মেকডেরমট, রিলে মেরেডিথ, জশ ফিলিপ, ঝাই রিচার্ডসন, কেন রিচার্ডসন, ড্যানিয়েল স্যামস, তানভির সাঙঘা, ডি'আরকি শর্ট, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যাশটন টার্নার, অ্যান্ড্রু টাই ও অ্যাডাম জাম্পা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াড
টিম পেইন (অধিনায়ক), প্যাট কামিনস (সহ অধিনায়ক), শন অ্যাবট, অ্যালেক্স ক্যারে, ক্যামেরন গ্রিন, মার্কাস হ্যারিস, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, ময়সেস হেনরিকস, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লিয়ন, মাইকেল নেসার, জেমস প্যাটিনসন, উইল পুকোভস্কি, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, মার্ক স্টেকেট, মিচেল সুইপসন ও ডেভিড ওয়ার্নার।

আবার ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কেমো নিতে হবে মোশাররফ রুবেলকে

আবার ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কেমো নিতে হবে মোশাররফ রুবেলকে

 

এক বছর পর আবার ব্রেন টিউমারটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মোশাররফ রুবেলের। সেই ২০১৯ সালের মার্চে প্রথম মাথায় টিউমার ধরা পড়ে জাতীয় দলের এ সাবেক ক্রিকেটারের।

সিঙ্গাপুরে ৬ মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসা শেষে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মোটামুটি সুস্থ হন দেশের হয়ে ৫টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এ বাঁহাতি স্পিনার।

২০২০ সালটা মোটামুটি ভালো কাটে তার। জীবনযাপন, চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া সবই স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আবার ব্রেন টিউমারের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।

নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য দিয়েছেন মোশাররফ রুবেল নিজেই। আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে জাগো নিউজের সাথে আলাপে নতুন করে ব্রেন টিউমার ধরা পড়া এবং নিজের শরীরের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই স্পিনার।

মোশাররফ জানান, গত জুনের পর রেগুলার চেকআপ করাতে গিয়ে ধরা পড়ে ব্রেন টিউমার আবার বেড়েছে। যেখানে তার মূল চিকিৎসা হয়েছে, সেই সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসকের সাথে ভিডিও কনসালটেন্সির মাধ্যমে তার পরামর্শে সেই ব্রেন টিউমারের বৃদ্ধি আটকাতে গত বছরের শেষ দিকে কেমোথেরাপি দেয়া হয় মোশাররফকে।

তবে সেটা ইনজেকশনের মাধ্যমে ছিল না। ওই কেমোটা মুখে খেতে হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য ছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। কিন্তু মুখে খাবারের দুই কেমোতে কাজ হয়নি। এমআরআই করে দেখা গেছে ব্রেন টিউমারের বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

তাই অগত্যা আবার মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে ভিডিও কনসালটেন্সির মাধ্যমে কথা বলা। তিনি এবার আর মুখে খাবার নয়, নতুন করে ৪টি কেমো নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

মোশাররফ জানান, ওই কেমোগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত ঔষধ কোম্পানি ‘ফাইজার’ আর সুইজারল্যান্ডের নামী ঔষধ নির্মাণ ও বাজারজাত সংস্থা ‘রোচ’-এর। প্রতি ডোজে ওই দুই কোম্পানির একটি করে ইনজকেশন পুশ করার কথা বলেছেন মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ।

সেই অনুযায়ী গতকাল (সোমবার) স্থানীয় ডেল্টা হাসপাতালে প্রথম কেমো পুশ করা হয়েছে। আজ দুপুরে তা জানিয়ে মোশাররফ রুবেল বলেন, ‘ডাক্তার আমাকে ফাইজার ও রোচ কোম্পানির যৌথ কেমো নিতে বলেছেন। মোট ৪টি কেমো দিতে হবে। যার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। বাকি তিন ডোজ দুই সপ্তাহ পর পর নিতে হবে। পরের কেমোর তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি। এভাবে ৪টি কেমো নেয়ার পর আবার এমআরআই করে দেখতে হবে ব্রেন টিউমারের বৃদ্ধি রোধ হয়েছে কিনা।’

সবার কাছে দোয়া চেয়ে মোশাররফ রুবেল বলেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের রহমত, দয়া আর সবার দোয়া কামনা করছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যাতে কেমো দেয়ার পর ব্রেন টিউমারের বৃদ্ধিটা বন্ধ হয়ে যায়।’

কারও কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য চাননি। তবে মোশাররফ রুবেলের দেয়া তথ্য থেকেই জানা গেছে, তার এই ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। এর আগে ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে থাকা, মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের ফি, ৬-৭টি কেমো ঔষধ ও আনুষাঙ্গিক খরচ মিলে প্রায় ১ কোটি টাকার মত ব্যয় হয়েছে।

এরপর গত বছরের শেষ দিকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের কেমো খেয়েও কোনো কাজ হয়নি। এখন যে ফাইজার ও রোচ কোম্পানির কেমো দেয়া হয়েছে, সেগুলোও যথেষ্ট দামি।

ফাইজারের একটি কেমোর মূল্য ৫ হাজার মার্কিন ডলার। আর রোচ কোম্পানির একটি কেমোর দাম আড়াই হাজার ডলার করে। দুই কোম্পানির ৪টি করে কেমোর মূল্য দাঁড়াবে ২০ হাজার + ১০ হাজার = ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। মানে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তারপর আবার ভিডিও কনসালটেন্সির মাধ্যমে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে এমআরআই করাতে হবে। সবমিলিয়ে অনেক খরচ।

আগেরবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহযোগিতা পেয়েছেন রুবেল। এবার এখন পর্যন্ত ক্রিকেট বোর্ড, ক্রীড়া সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষক কারো কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন করেননি জাতীয় দলের এ সাবেক ক্রিকেটার। কিন্তু কঠিন সত্য হলো, তার একার পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দেয়াও কঠিন।

সহৃদয় স্বচ্ছল ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যক্তিবর্গ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো মোশাররফ রুবেলের এ ব্যয়বহুল চিকিৎসাটা ভালোভাবে সুসম্পন্ন হতো। তাতে তার দুশ্চিন্তা অনেকখানি কমে যেতো।

সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

এবারও ধুঁকছেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা

এবারও ধুঁকছেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা

 

সিরিজে লড়াই করার শেষ সুযোগ। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা এবারও ধুঁকছেন। আগের দুই ওয়ানডের মতোই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়েছেন তারা।

চট্টগ্রামের সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সফরকারীদের সামনে ২৯৮ রানের বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে ৭৯ রান তুলতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারিয়েছে ৪ উইকেট।

রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে ক্যারিবীয়রা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার বেরিয়ে যাওয়া এক ডেলিভারি বুঝতে না পেরে খোঁচা দিয়ে বসেন ক্যারিবীয় ওপেনার কেজর্ন ওটলে (১), উইকেটের পেছনে সহজ ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহীম।

৭ রানে নিজেদের প্রথম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ৩০ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরেন আরেক ওপেনার সুনিল এমব্রিসও। এই উইকেটও নেন মোস্তাফিজ। ১৪ বলে ১৩ রান করে কাটার মাস্টারের বলে এলডব্লিউ হন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান। এ নিয়ে সিরিজে তিন ম্যাচেই মোস্তাফিজের শিকার এমব্রিস।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে খোলসে ঢুকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে কাজের কাজ হয়নি। তৃতীয় উইকেটে এনক্রোমা বোনারের সঙ্গে ৩৯ বলে মাত্র ১৭ রান যোগ করে আউট হয়ে যান কাইল মায়ার্স।

মেহেদি হাসান মিরাজের ঘূর্ণি ডেলিভারি মিস করে এলবিডব্লিউ হন মায়ার্স, ২৩ বলে খেলে করেন ১১ রান। এতেই ৪৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদ আর বোনার অবশ্য চতুর্থ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। ৬৫ বলের জুটিতে তারা যোগ করেন ৩২ রান। শেষ পর্যন্ত ২৪তম ওভারে এই জুটিটি ভেঙেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। মোহাম্মদকে (১৭) উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়েছেন এই পেসার।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২৩.১ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৭৯ রান। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে এসেছেন রভম্যান পাওয়েল। বোনার ২৮ রানে অপরাজিত আছেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চার পাণ্ডব সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাফসেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ২৯৭ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টাইগাররা এগিয়ে আছে ২-০তে। আজ জিতলে হোয়াইটওয়াশ মিশন পূর্ণ হবে। সেই সঙ্গে ওয়ানডে সুপার লিগের পুরো ৩০ পয়েন্ট বগলদাবা করবে তাামিম ইকবালের দল।

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

গাপটিলের ক্যাচ দেখে চোখ ছানাবড়া সবার (ভিডিও)

গাপটিলের ক্যাচ দেখে চোখ ছানাবড়া সবার (ভিডিও)

 

এ কী ক্যাচ নিলেন মার্টিন গাপটিল! কিউই ব্যাটসম্যানের কাণ্ড দেখে চোখ ছানাবড়া সবার। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে তার অবিশ্বাস্য এক ক্যাচের ভিডিও এখন ভাইরাল নেট দুনিয়ায়।

টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সুপার স্প্যাশে গাপটিল নিয়েছেন তাক লাগানো ক্যাচটি। অকল্যান্ড এসেসের ছুড়ে দেয়া ২০০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছিল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের ঘটনা।

অকল্যান্ড বোলার লুইস ডেলপোর্টের মাথার ওপর দিয়ে লং অনের দিকে বল তুলে মেরেছিলেন সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট ওপেনার জর্জ ওয়ার্কার। হয়তো ভেবেছিলেন ছক্কাই হয়ে যাবে।

কিন্তু দূর থেকে দৌড়ে এসে বাজপাখির মতো এক হাতেই ছোঁ মেরে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ নিয়ে নেন গাপটিল। এটা যে ক্যাচ হয়েছে, বিশ্বাস হচ্ছিল না ব্যাটসম্যান ওয়ার্কারেরও।

সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ওটা ছিল দ্বিতীয় উইকেট। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১৮২ রানেই আটকে যায় দলটি, ম্যাচে তারা হেরেছে ১৭ রানে।

পরে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে আলোচনায় আসলেও অবশ্য নিজের আসল দায়িত্ব ব্যাটিংয়ে স্বরূপে দেখা যায়নি গাপটিলকে। ৩১ বলে ২৯ রানের ধীরগতির এক ইনিংস খেলেন অকল্যান্ড এসেস ওপেনার।

হোয়াইটওয়াশ মিশনে চট্টগ্রামে টাইগাররা

হোয়াইটওয়াশ মিশনে চট্টগ্রামে টাইগাররা

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হওয়া সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে সহজ জয়ই পেয়েছে টাইগাররা। এবার হোয়াইটওয়াশ মিশনে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে তামিম বাহিনী।

আজ (শনিবার) দুপুর গড়াতেই বন্দর নগরীতে চলে গেছে টাইগাররা। বেলা পৌনে একটায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে নেমেছেন তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমানরা।

শুধু স্বাগতিক বাংলাদেশই নয়, শনিবার বেলা ১২টার ফ্লাইটে একসঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুর পৌনে ১টায় বন্দর নগরীতে গিয়ে পৌঁছেছে জেসন মোহাম্মদের ওয়েস্ট ইন্ডিজও।

গত ২০ জানুয়ারি (বুধবার) প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে জয়ের পর শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে তামিম ইকবালের দল। আগামী ২৫ জানুয়ারি (সোমবার) চট্টগ্রামের সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।

তবে তামিমের দল এরই মধ্যে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলায় এখন শেষ ম্যাচটি অনেকটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। সেটা এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। এখন স্বাগতিকদের সামনে রয়েছে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করার সুবর্ণ সুযোগ।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দুই দলের শেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। সেবার প্রথম ম্যাচ জিতলেও দ্বিতীয় খেলায় হেরেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। তাই সিরিজ জিততে অপেক্ষায় থাকতে হয় শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। তারপর তৃতীয় ম্যাচে গিয়ে জয় ধরা দেয়।

এবার অবশ্য চিত্র ভিন্ন। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ বিজয়ের উৎসব রাজধানীতেই করে ফেলেছে টাইগাররা। সোমবারের ম্যাচটি জিতলে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করার পাশাপাশি পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট নিয়েই ওয়ানডে সুপার লিগের প্রথম সিরিজ শেষ হবে বাংলাদেশের।

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

বল হাতে নিয়েই বিধ্বংসী রূপে সাকিব আল হাসান

বল হাতে নিয়েই বিধ্বংসী রূপে সাকিব আল হাসান

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের সর্বশেষ উইকেট ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। সেদিন আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি খেলেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে অধিনায়ক সাকিব আল হাসা এলবিডব্লিউতে ফিরিয়েছিলেন আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীকে।

সেই শেষ। এরপর নানা ঘটন-অঘটনে কেটে গেছে ১৬টি মাস। সাকিব আল হাসান অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এলেন এবং শুধু ফিরে আসাই নয়, নিজের স্বমুর্তিতে ফিরে এলেন বলা যায়। কারণ, ১৬ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে বল হাতেই নিজের বিধ্বংসী চেহারা উন্মোচন করে দিয়েছেন তিনি ক্যারিবীয়দের সামনে।

২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শেষ টি-টোয়েন্টি খেলার পর বিসিবির বিরুদ্ধে ক্রিকেটারদের নিয়ে বিদ্রোহ, স্পন্সর সম্পর্কিত বিরোধ এবং শেষ পর্যন্ত ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করার অভিযোগে আইসিসি কর্তৃক ১ বছর নিষেধাজ্ঞা। গত বছর ২৯ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলেও সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠে নামা হয়নি।

করোনার কারণে এমনিকেই গত মার্চ মাস থেকে পুরো বাংলাদেশ দলই মাঠে নামতে পারেনি। মাঝে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের সম্ভাবনা থাকলেও সেই করোনার কারণে সিরিজ স্থগিত হয়ে যায়। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ কিংবা বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরেছিলেন সত্য; কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচ তো খেলা হয়নি।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ দিয়ে মাঠে ফিরেছিলেন সাকিব আল হাসানও। জেমকন খুলনার হয়ে খেললেও ব্যাট কিংবা বল হাতে তেমন কিছু করে দেখাতে পারেননি। যদিও তার দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

কিন্তু বরাবরের মত আন্তর্জাতিক মঞ্চেই যেন সাকিবের নিজস্ব জায়গা। এই মঞ্চে ফিরলেই নিজেকে মেলে ধরার বাড়তি অনুপ্রেরণা পেয়ে যান তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজকের ম্যাচ দিয়ে করোনা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছে বাংলাদেশ। ফিরেছেন সাকিব আল হাসানও।

টস হেরে ব্যাট করতে নোম ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শুরুতেই চেপে ধরেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, ২৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিয়ে। রুবেল-মোস্তাফিজ এবং অভিষিক্ত হাসান মাহমুদের পর অধিনায়ক তামিম ইকবাল বল তুলে দিলেন সাকিবের হাতে। নেতৃত্ব এবং বন্ধুত্বের আস্থার প্রতিদান পুরোপুরি দিলেন সাকিব।

শুরুতেই আন্দ্রে ম্যাকার্থিকে সরাসরি বোল্ড করে দিলেন সাকিব। প্রথম ওভারে দিয়েছিলেন কেবল দুই রান। পরের ওভারে এসে চতুর্থ বলে ফুল লেন্থের বলটি অফ স্ট্যাম্পের হালকা বাইরে রাখেন সাকিব। সুইপ খেলতে চেয়েছিলেন ম্যাকার্থি। কিন্তু ব্যাট বল মিস করে গেলো। হালকা টার্ন নিয়ে স্ট্যাম্পই ভেঙে দেয় ম্যাকার্থির। ১২ রান করে আউট হন এই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান।

একই সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটে ঘরের মাঠে ১৫০তম উইকেটের মালিক হয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান। তবে ওয়ানডেতে সাকিবের মোট উইকেট সংখ্যা কিন্তু ২৬৩টি। সর্বোচ্চ ২৬৯টি উইকেট রয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজার।

নিজের চতুর্থ ওভারে এসে পেলেন দ্বিতীয় উইকেটের দেখা। এবার ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদের উইকেট নিলেন সাকিব। সাকিবের অফসাইডে রাখা বলটি এগিয়ে এসে খেলতে গেলেন জেসন। কিন্তু মিস করেন। উইকেটরক্ষক মুশফিক বলটি ধরেই স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেন। টিভি আম্পায়ারের কাছ থেকে রিপ্লে দেখে আউট ঘোষণা করেন আম্পায়ার।

নিজের পঞ্চম ওভারে নিলেন তৃতীয় উইকেট। এবার শিকার হলেন এনক্রুমাহ বোনার। সাকিবের ঘূর্ণি বলটি ব্যাট-প্যাড এগিয়ে দিয়েও রক্ষা করতে পারেননি। আউটের আবেদনে আম্পায়ার আঙ্গুল তুললে ডিআরএস কল করেন বোনার। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। আউট হলেন তিনি।

এ রিপোর্ট লেখার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ২২.৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান। ১৪ রান নিয়ে কাইল মায়ারস এবং ১৩ রান নিয়ে ব্যাট করছেন রোভম্যান পাওয়েল।

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

সাকিব-সৌম্যর ব্যাটিং অর্ডার বদল নিয়ে ব্যাখ্যা হেড কোচের

সাকিব-সৌম্যর ব্যাটিং অর্ডার বদল নিয়ে ব্যাখ্যা হেড কোচের

 

জাগো নিউজের পাঠকরা আগেই জেনে গেছেন, বিশ্বকাপে তিন নম্বরে খেলে তাক লাগানো সাকিব আল হাসান নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এই পজিশনে খেলবেন তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত। আর কখনও ওপেনিং, কখনও তিন নম্বরে খেলার অভ্যাস গড়া সৌম্য সরকারের ব্যাটিং অর্ডার হবে সাত নম্বরে।

সোমবার বিকেলে কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে ঠিক সে কথাই বলেছেন। কি কারণে ব্যাটিং অর্ডারে এমন রদবদল? জাতীয় দলের হেড কোচ দিয়েছেন সে ব্যাখ্যাও।

ডোমিঙ্গো বলেন, ‘আমি মনে করি দলে এখন একজন তরুণ ক্রিকেটার আছে, যার নাম শান্ত। যে বর্তমান সময়ে খুবই ভালো ফর্মে আছে। সে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে সিরিজে ছিল দলে। আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা কজন তরুণ উইলোবাজকে তুলে আনতে চাচ্ছি। আর উপমহাদেশে তরুণ ব্যাটসম্যানদের গড়ে তোলার সেরা জায়গা হলো তিন নম্বর।’

সাকিবে চারে খেলানোর চিন্তা কেন? টাইগার হেড কোচের ব্যাখ্যা, ‘সাকিব দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে। সেক্ষেত্রে চার নম্বরে নামলে সে একটু থিতু হয়ে খেলার সুযোগ পাবে। আমরা জানি সাকিব বিশ্বমানের ক্রিকেটার। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের ব্যাটিং অর্ডার পাথরের টুকরো নয় যে তা ভাঙা যাবে না। বিশ্বকাপের এখনো অনেক দেরি। তার আগে আমাদের বিভিন্ন বিকল্প খুঁটিয়ে দেখতে হবে।’

সৌম্যকে নিচে খেলানোর যৌক্তিকতা দেখাতে গিয়ে ডোমিঙ্গো জানান, আসলে মারকুটে এই ব্যাটসম্যানকে ফিনিশারের ভূমিকায় দেখার ইচ্ছে টিম ম্যানেজম্যান্টের।

ডোমিঙ্গো বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার মনে হয়, আমাদের টপ অর্ডার একদম সাজানো গোছানো ও প্রতিষ্ঠিত। তামিম-লিটন ওপেন করে। আর তাই আমরা সৌম্যকে মিডল অর্ডারে খেলানোর চিন্তা ভাবনা করছি। আমরা এমন একজনকে খুঁজছি, যে নিচের দিকে হাত খুলে খেলতে পারে।’

টাইগার কোচ যোগ করেন, ‘সৌম্যকে পাওয়ার হিটার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া সে কয়েক ওভার জেন্টাল মিডিয়াম পেস বোলিংও করে দিতে পারে। আমি জানি সৌম্য ওপরের দিকে খেলেই বেশ কিছু ভালো ইনিংস উপহার দিয়েছে। তবে এখন আমরা সৌম্যকে ফিনিশারের ভূমিকায় দেখতে চাই। আমাদের প্রত্যাশা, রিয়াদের সাথে সে ইনিংস শেষ করে আসবে।’

সৌম্যর অভিজ্ঞতা এবং ক্লিন হিট এবিলিটি সাত নম্বর পজিশনে কাজে আসবে, বিশ্বাস ডোমিঙ্গোর। তিনি বলেন, ‘তার প্রতি আমাদের বিশ্বাস ও আস্থা আছে। আশা করছি সে ভালো পারফরম করবে। আসলে ৬-৭ নম্বরে খেলা সহজ নয়। কখনও কখনও শেষ দিকে ওভার পিছু ১০ রান করে তুলতে হয়।’

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১

দু’তিনদিন পর মাঠে ফেরার আশা তাসকিনের

দু’তিনদিন পর মাঠে ফেরার আশা তাসকিনের

 

আগের দিন (সোমবার) নেটে বোলিং করতে গিয়ে ফলো থ্রু’তে বল থামাতে গিয়ে বাঁ-হাতের কব্জিতে ব্যাথা পেয়েছিলেন। সন্ধ্যার পর রাতে ক্রিকেট পাড়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে তাসকিনের হাতের আঙ্গুল ফেটে গেছে। সেলাইও দিতে হয়েছে।

যদিও বিষয়টা সত্য ছিল না। এ মুহূর্তে জৈব সুরক্ষা বলয় মেনে জাতীয় প্রাথমিক বহরের সাথে হোটেল সোনারগাঁ প্যান প্যাসিফিকে থাকা বিসিবি মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম সোমবার রাতেই জানান, ‘ব্যাথা খুব গুরুতর কিছু নয়। হাতে সেলাই দিতে হয়নি। ফ্র্যাকশ্চার হবার প্রশ্নই আসে না। ৪৮ ঘণ্টা নিবিঢ় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে।’

এদিকে গতকাল মধ্যরাতে জাগো নিউজের কাছে তাসকিন নিজেই তার অবস্থার কথা জানিয়েছেন। তাসকিনের দেয়া ভাষ্যমতে, তার তেমন কিছুই হয়নি। ব্যাটসম্যানের খেলা স্ট্রোক ফলো থ্রু’তে থামাতে গেলে বাঁ-হাতের বুড়ো আঙ্গুল আর তর্জনির মধ্যখানে গিয়ে লাগে।

তাতে করে ওই স্থানের ওপরের চামড়া খানিকটা ছিলে গেছে। যা দুই-তিন দিনের মধ্যে সেরে যাবে বলে তাসকিনের বিশ্বাস।

এদিকে আজ মঙ্গলবার তাসকিনের ব্যাপারে জাগো নিউজের সাথে কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও। তিনি জানান, ‘হ্যাঁ, বল থামাতে গিয়ে হাতে ব্যাথা পেয়েছে খানিকটা। হয়ত একটু ছিড়ে গেছে।’

তবে নান্নুর কথা, ‘আমরা চিন্তিত নই। কারণ, এখনো ওয়ানডে সিরিজ শুরুর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় বাকি। তাসকিন হয়তো দুই-তিন দিনেই নেটে ফিরতে পারবে।’

রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১

পাঁচ পেসারের মূল স্কোয়াডে মোস্তাফিজ-সাইফের সঙ্গী হবেন কারা?

পাঁচ পেসারের মূল স্কোয়াডে মোস্তাফিজ-সাইফের সঙ্গী হবেন কারা?

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য ঘোষিত ২৪ জনের প্রাথমিক স্কোয়াডে পেসার সাত জন- রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, আলআমিন হোসেন, সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ। এই প্রাথমিক দল দেখেই জেগেছিল প্রশ্ন, মূল স্কোয়াডেও কি একঝাঁক পেসার দেখা যাবে?

এ প্রতিবেদকের সে প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু আগেভাগেই জানিয়ে রেখেছেন, মূল স্কোয়াডে থাকবে ৫ পেসার। শেরে বাংলার ইনডোর কমপ্লেক্সের খোলা আকাশের ন্যাচারাল টার্ফে নেট প্র্যাকটিস দেখেও তাই মনে হলো। বোঝাই গেল, স্পিন নির্ভরতা তুলনামূলক কমই থাকবে।

নেট সেশনের শুরুতে ৪ পেসারকে একনাগারে বোলিং করতে দেখে তাই মনে হলো। আচ্ছা বলুন তো, কোন ৪ পেসার একসঙ্গে নেটে বোলিং শুরু করেছেন? জাতীয় দলের সিনিয়র বোলারদের আলোকে চিন্তা করে নিশ্চয়ই ভাবছেন রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, আলআমিন হোসেন আর তাসকিন আহমেদের কথা? নাহ মোটেও তা নয়।

রোববার সকালে শেরে বাংলার ইনডোরের নেটে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম ও সাকিব আল হাসানকে বোলিং করলেন তাসকিন, শরিফুল আর হাসান মাহমুদ। এর পাশে লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেললেন মোস্তাফিজুর রহমান ও সাইফউদ্দিনের বল। তিন স্পিনার সাকিব, মেহেদি মিরাজ ও মেহেদি হাসান বোলিং করলেন ডান দিক থেকে তিন নম্বর পিচে।

হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর শরীরী অভিব্যক্তি আর নেটে পেসারদের বোলিং করা দেখে একটি প্রশ্নই উঁকি দিয়েছে উপস্থিত সাংবাদিকদের মনে? তবে কি ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পেসাররাই হবেন টিম বাংলাদেশের বোলিংয়ের মূল অস্ত্র? সেখানে অভিজ্ঞতা ও সিনিয়রিটির চেয়ে কি তারুণ্য ও তুলনামূলক গতিসম্পন্ন বোলাররা অগ্রাধিকার পাবেন?

তাই যদি না পাবেন, তাহলে তিন দ্রুতগতির বোলার তাসকিন, শরিফুল আর হাসান মাহমুদকে একসঙ্গে বোলিং করানো কেন? আর কেনই বা ঐ নেটে আম্পায়ারের জায়গায় দাঁড়িয়ে তা পাখির চোখে পরখ করলেন হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো?

যদিও অনুশীলন শুরু হয়েছে সবে। প্রথম দিনের নেট দেখেই জের টানা কঠিন। তবে কোচের পরিকল্পনা দেখে মনে হয় কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ-সাইফউদ্দিনের সঙ্গে তাসকিন, শরিফুল আর হাসান মাহমুদের কম্বিনেশনের দিকেই তার ঝোঁক বেশি। তাই যদি হয়, তাহলে এ মুহূর্তে সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেন আর অপর সিনিয়র পেসার আলআমিন হোসেনের কী হবে? তারা কি বিবেচনায় থাকবেন না?

তারা থাকবেন কি থাকবেন না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছিল অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক সাফল্যের বিবেচনায় মোস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিন অটোমেটিক চয়েজ। সাথে তাসকিন ও রুবেল হোসেনও থাকবেন। আর দুই তরুণ শরিফুল-হাসান মাহমুদের যে কোনো একজন।

আজকের অনুশীলনে রুবেলকে টেস্টের অপর তিন পেসার আবু জায়েদ রাহী, ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদকে পরের ধাপে বোলিং করতে দেখে একটু খটকা লাগল। তামিম, লিটন, মুশফিক, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর মত তারকা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে প্রথম ধাপে ছিলেন না রুবেল এবং আলআমিন।

পরে টেস্টের তিন বোলার আবু জায়েদ রাহী, ইবাদত আর খালেদের সঙ্গে রুবেলকে বল হাতে দেখে বারবার মনে হলো, তবে কি কোচের গেম প্ল্যানে মাশরাফির মত রুবেলও নেই?

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

মাশরাফি গ্রেট ক্রিকেটার, তার অভাব বোধ করবে দল : আকরাম খান

মাশরাফি গ্রেট ক্রিকেটার, তার অভাব বোধ করবে দল : আকরাম খান

 

মাশরাফি বিন মর্তুজা বিসিবির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় নেই। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যে লক্ষ্য ও পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তাতে নেই টাইগারদের গত বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেয়া অধিনায়ক।

মাশরাফিকে বাইরে রেখেই ঘোষিত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগারদের প্রাথমিক ওয়ানডে স্কোয়াড। ২৪ জনের প্রাথমিক দলে মাশরাফিকে না রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানান, আসলে বিসিবির ভবিষ্যত লক্ষ্য ও পরিকল্পনায় নেই মাশরাফি। তাই সবার মতামত নিয়েই তাকে বাইরে রাখা হয়েছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৪ জনের প্রাথমিক ওয়ানডে দল ঘোষণার সময় আরও অনেক কথাই বলেছেন প্রধান নির্বাচক। তবে কোথাও এমন কথা বলা নেই যে, দলে মাশরাফির অভাব অনুভূত হবে। বরং বলেছেন, ‘২০২৩ সালের বিশ্বকাপের কথা ভেবে বোর্ড, টিম ম্যানেজম্যান্ট ও সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই মাশরাফিকে বাদ দিতে হয়েছে। আমরা মনে করি, এটা একটা নতুন করে পথ চলা। মাশরাফির জায়গায় যেই খেলবে, তার জন্য এটা অনেক বড় সুযোগ। একজন খেলোয়াড়কে আমাদের গড়ে তুলতে হবে এর মাধ্যমে।’

নান্নু আরও যোগ করেন, ‘এখানে (মাশরাফিকে বাদ দেয়া) অনেক ইস্যুই এসেছে। সবকিছু মিলিয়েই এ সিদ্ধান্ত। টিম ম্যানেজম্যান্ট আমাদের একটা প্ল্যান দিয়েছে। আমরাও আমাদের প্ল্যান নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি। যেটা বললাম, সিদ্ধান্তটা অনেক আলোচনার পরই এসেছে। এ সিদ্ধান্তটা আমাদের দেশের ক্রিকেটের জন্য, সামনের দিনগুলোর কথা চিন্তা করেই নেয়া।’

প্রধান নির্বাচকের শেষ কথা ছিল, ‘তরুণ খেলোয়াড়দের তো সুযোগটা দিতে হবে। তাই ২০২১ সালে আমরা নতুনভাবে পরিকল্পনা শুরু করছি, প্রায় দশ মাস পর ক্রিকেট সিরিজ শুরু হচ্ছে।’

ওপরের কথাবার্তায় একটি লাইনও নেই যেখানে অধিনায়ক কিংবা পেসার মাশরাফিকে মিস করার কথা উল্লেখ আছে। আসলে প্রধান নির্বাচকের কথা শুনে বরং মনে হয়েছে, মাশরাফির অভাব বোধ করা নয়, বরং তার জায়গায় নতুন কাউকে সুযোগ দেয়াটাকেই সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করছেন তারা।

তবে অনেক দেরিতে হলেও আজ (শনিবার) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান স্বীকার করেছেন, মাশরাফির অভাব বোধ করবে দল। খেলোয়াড় মাশরাফি এবং অধিনায়ক মাশরাফি দুই জায়গায়ই দলে একটা শূন্যতা তৈরি হবে মনে করেন আকরাম।

টাইগার দলের সাবেক অধিনায়কের ভাষায়, ‘মাশরাফি একজন গ্রেট খেলোয়াড়, কোনো সন্দেহ নেই। সে আমাদের অন্যতম সেরা অধিনায়কও। ওর মত একজন খেলোয়াড় স্কোয়াডে না থাকাটা দলের শক্তি কমিয়েছে। ওর যে অভিজ্ঞতা সেটার অভাব কিন্তু সবাই অনুভব করবে।’

বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২১

‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের খারাপ দল হলেই জিতব এমন তো নয়’

‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের খারাপ দল হলেই জিতব এমন তো নয়’

 

বড় তারকারা বলতে গেলে কেউই নেই। এক নামে সবাই চেনেন, এমন প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারের সংখ্যাও হাতে গোনা। বেশিরভাগই তরুণ ও স্বল্প পরিচিতির এক ঝাঁক ক্রিকেটার নিয়ে বাংলাদেশে খেলতে আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ফলে এই সিরিজ নিয়ে দর্শক-সমর্থকদের আগ্রহ কিছুটা কমে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু কঠিন সত্য হলো- যে সব খেলোয়াড়ই আসুন না কেন, দলটির নাম ওয়েস্ট ইন্ডিজই থাকবে। তাদের শক্তি ও সামর্থ্য যেমনই থাকুক না কেন, লড়াই হবে দুই টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে।

বাংলাদেশ জিতলে পয়েন্ট পাবে। হারলে খোয়াবে। রেকর্ড হলে সেটিও বড় করেই লেখা থাকবে পরিসংখ্যানে। কাজেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্বল দল আসছে বলে সিরিজটিকে হেলাফেলার চোখে দেখার সুযোগ নেই।

আকরাম খান মনে করিয়ে দিলেন সেই কথাটাই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশে আসার ঠিক ৭২ ঘন্টা আগে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান শোনালেন সাবধানবাণী।

তিনি বলেন, ‘এখানে হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিছু নামকরা খেলোয়াড় আসছে না। হয়তো প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারও নেই তেমন। তার মানে এটা না যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্য খেলোয়াড়রা ওই পর্যায়ের না। ওদের স্ট্যান্ডার্ডও কিন্তু অনেক ভালো। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনি কিভাবে খেলছেন, আপনার দলের খেলোয়াড়েরা কিভাবে খেলছে। ওদের অ্যাপ্রোচ কেমন, ওরা ফর্মে আছে, এসবই গুরুত্বপূর্ণ।’

সবাই ধরে নিয়েছেন, খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে টাইগারদের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। যদিও আকরাম খান এমনটা মনে করেন না। নিজেদের দলকে ফেবারিট মানতে নারাজ তিনি। আকরাম বলেন , ‘এটা বলা খুবই কঠিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভালো টিমের সঙ্গেও আমরা জিতেছি। কিন্তু খারাপ দলের সঙ্গে যে জিতব, এমন কোনো কথা নেই।’

আকরামের তাই সতর্ক ও সাবধানী উচ্চারণ, ‘জরুরী হচ্ছে আমাদেরকে ভালো খেলতে হবে। সেদিকেই আমরা মনোযোগ দিচ্ছি। যেন আমরা ব্যাটিং বোলিং ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই ভালো খেলতে পারি।’

করোনার কারণে দীর্ঘ একটা বিরতি ছিল টাইগারদের। এটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন আকরাম। তার ভাষায়, ‘আমাদের কিন্তু মাথায় রাখতে হবে যে অনেকদিন পর আমরা টেস্ট এবং ওয়ানডে খেলব। তাই দুই পক্ষের জন্যই বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং। ওদের জন্যও যেমন চ্যালেঞ্জ, আমাদেরও। ওদের নতুন খেলোয়াড়রা সুযোগ পেয়েছে, ওরা নিজেদের শতভাগের চেয়েও বেশি দেবে। সেটা আমাদের জন্য আরও বড় একটা চ্যালেঞ্জ।’

আরেকটা ব্যাপার হলো, করোনার মধ্যে জৈব সুরক্ষা বলয় ঠিক রেখে সফলভাবে সিরিজটি আয়োজন করা। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজটা সব দিক দিয়েই চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন আকরাম।

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২১

তিনদিনেই হেরে হোয়াইটওয়াশ শ্রীলঙ্কা

তিনদিনেই হেরে হোয়াইটওয়াশ শ্রীলঙ্কা

 

আগের টেস্টে ইনিংস পরাজয়। এবার আরও একটি লজ্জার হার সঙ্গী হলো শ্রীলঙ্কার। জোহানেসবার্গে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে লঙ্কানদের ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, মাত্র তিনদিনেই।

এতে দুই ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করল স্বাগতিকরা। কোচ মার্ক বাউচারের অধীনে এটিই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সিরিজ জয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেয়া বাউচার কোচ হিসেবে তার প্রথম টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে দেখেছিলেন ৩-১ ব্যবধানে হার।

২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন দিমুথ করুনারত্নে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তার লড়াকু সেঞ্চুরির পরও ২১১ রানে গুটিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে তারা পিছিয়ে ছিল ১৪৫ রানে।

ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৬৭ রানের। এইডেন মার্করাম আর ডিন এলগার দলের বড় জয়ে কোনো ধরনের আপোস করেননি। মার্করাম ৩৬ আর এলগার ৩১ রান নিয়ে বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছাড়েন।

৪ উইকেটে ১৫০ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। লিড ছিল মাত্র ৫ রানের। করুনারত্নে ৯১ রান নিয়ে খেলতে নেমে ঠিকই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। কিন্তু লঙ্কান অধিনায়ক ১২৮ বলে ১৯ বাউন্ডারিতে ১০৩ রান করে নর্টজের শিকার হওয়ার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সফরকারিদের ইনিংস।

KORUNA.jpg

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন লুঙ্গি এনগিদি। ৪৪ রান খরচায় ৪টি উইকেট নেন এই পেসার। এছাড়া লুথো সিপামলা ৩টি আর এনরিচ নর্টজে পান ২টি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা : ১৫৭/১০ (কুশল পেরেরা ৬০; এনরিচ নর্টজে ৬/৫৬) এবং ২১১/১০ (দিমুথ করুনারত্নে ১০৩; লুঙ্গি এনগিদি ৪/৪৪)
দক্ষিণ আফ্রিকা : ৩০২/১০ (ডিন এলগার ১২৭, রসি ডাসেন ৬৭; বিশ্ব ফার্নান্ডো ৫/১০১) এবং ৬৭/০ (এইডেন মার্করাম ৩৬*, ডিন এলগার ৩১*)।

ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ ব্যবধানে জয়ী।

এমএমআর/এমএস

সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১

মাশরাফির সম্মানজনক ও স্মরণীয় বিদায়ের ব্যবস্থা কি করা যেত না?

মাশরাফির সম্মানজনক ও স্মরণীয় বিদায়ের ব্যবস্থা কি করা যেত না?

 

তবে কি শেষ হয়ে গেল মাশরাফি-উপাখ্যান? গত বছর মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়ার পর দেশের মাটিতে পরের ওয়ানডে সিরিজেই দলে জায়গা হারালেন পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজা।

বলা হচ্ছে, মাশরাফি বিসিবির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় নেই, তাই তাকে বিবেচনায় রাখা হয়নি। খুব স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে প্রশ্ন, তবে কি মাশরাফির আর মাঠ থেকে বিদায় নেয়া হবে না?

এদিকে মাশরাফি দলে না থাকায় অগনিত ভক্ত ও সমর্থক হতাশ। ক্ষুব্ধ, মনোক্ষুণ্ন। তাদের দাবি, মাশরাফি গত মাসে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপেও সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছেন। তাই তাকে দলে নেয়াই যেত। বিশ্বকাপ ২০২৩ পর্যন্ত না হোক, বিসিবির দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনায় না থাকুন, তার পক্ষে তো আরও কিছু দিন খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই তাকে দলে রাখাই যেত।

সচেতন ক্রিকেট অনুরাগীদের পক্ষের মত, মাশরাফি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক প্রবাদপ্রতিম চরিত্র। দেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ও সফলতম পেসার। তাকে সম্মানজনক বিদায়ের ব্যবস্থা করা যেত। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এ জীবন্ত কিংবদন্তি যাতে মাঠ থেকে অবসর নিতে পারেন, সে সুযোগ করে দেয়া যেত।

দেশের ক্রিকেটের নামী ব্যক্তিত্ব নাজমুল আবেদিন ফাহিমও তাই মনে করেন। বিকেএসপির জন্মলগ্ন থেকে অনেক দেশ বরেণ্য অনেক ক্রিকেটারের গুরু, মেন্টর , শিক্ষক এবং ক্রিকেটারদের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ফাহিম মনে করেন, মাশরাফির মত ক্রিকেটারের বিদায়টা সম্মানজনক হওয়া বাঞ্চনীয়।

আজ (সোমবার) জাগো নিউজের সাথে একান্ত আলাপে ফাহিম বলেন, ‘আমি জানি না মাশরাফির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ব্যাপারে বোর্ডের সাথে কোনো কথাবার্তা হয়েছে কি না। যেহেতু আমি বিষয়টি নিশ্চিত নই, তাই নেতিবাচক কিছু বলার আগে ভাবতে হচ্ছে।’

তবে তার সোজা-সাপ্টা কথা, ‘মাশরাফি সন্দোহতীতভাবেই আমাদের দেশের ক্রিকেটে অনেক বড় তারকা। দক্ষ ও সফলতম অধিনায়ক। দুর্দান্ত পারফরমারও। দেশের সব সময়ের অন্যতম সেরা বোলার। এত বড় তারকা ও সফলতম পারফরমারের মাঠের বাইরে থেকে অবসর মোটেই ভালো দেখায় না। তার মেধা, প্রজ্ঞা, প্রাপ্তি, অর্জন আর জাতীয় দলের জন্য অবদানের কথা চিন্তা করলে সেটা বেমানান।’

‘তাই মাশরাফি যদি জাতীয় দল থেকে অবসরের ইচ্ছে প্রকাশ করে থাকে, তাহলে তাকে সম্মানের সাথে মাঠ থেকে বিদায় নেয়ার সুযোগ করে দেয়া উচিত। তাতে করে একজন অনেক বড় মাপের ও সফল ক্রিকেটার তার সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারটা সম্মানের সাথে শেষ করতে পারবে।’

মাশরাফি কি কখনো বোর্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন? এমন প্রশ্ন করা হলে জাতীয় দলের ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যান আকরাম জাগো নিউজকে জানান, ‘নাহ , আমার জানা মতে মাশরাফি বোর্ডের কাছে কখনই অবসরের ইচ্ছে প্রকাশ করে কোনো চিঠিও দেয়নি। আমাদের বা নির্বাচকদের কাছেও অবসরের কথা বলেনি। বললে অবশ্যই একটা পথ বের করা যেত, যাতে সে মাঠ থেকে অবসর নিতে পারে।’

নাজমুল আবেদিন ফাহিমও মানছেন, মাশরাফির যা বয়স, তাতে করে আর বেশিদিন জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব না। তবে তাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে অন্তত একটি বা দুটি ম্যাচ খেলিয়ে অবসরে যাবার সুযোগ করে দেয়া যেত বলে মনে করেন তিনি।

নামী ক্রিকেট বোদ্ধা ও কুশলী টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার নাজমুল আবেদিন ফাহিম একা নন, মাশরাফির অগনিত ভক্ত ও শুভাকাঙ্খী মনে করেন, মাশরাফি বিসিবির দীর্ঘ পরিকল্পনায় না থাকলেও তাকে অল্প কয়েকটা ম্যাচ সুযোগ দেয়া যেত।

দলের অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন আজ অকপটে স্বীকার করেছেন, ‘বোলার মাশরাফি স্টিল গুড (এখনও যথেষ্ট ভালো)।’ তাহলে তাকে দল থেকে এত তাড়াতাড়ি ছেঁটে ফেলা হলো? প্রশ্ন উঠতেই পারে।

এদিকে ভেতরের খবর অন্য, মাশরাফি নিজে থেকে নাকি অবসরে যেতে অনিচ্ছুক। তার কথা, ‘আমি কেন যেচে অবসরের ঘোষণা দেব? কেন বলবো আমি অমুক দিন খেলা ছেড়ে দিতে চাই!’

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট চলাকালীন বোর্ড পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথে একান্ত আলাপে মাশরাফি বলেছেন, তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চান। নির্বাচকরা তাকে যোগ্য মনে করলে বিবেচনা করবেন, না হলে করবেন না।

মাশরাফির অবস্থান থেকে তিনি অবশ্য ঠিক। বোর্ড কেন তাকে সময় বেঁধে দেবে? অবসর নেয়া, না নেয়া একান্তই তার ব্যাপার। সচেতন ক্রিকেট অনুরাগীরা মনে করেন, বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন এবং বিসিবির শীর্ষ কর্তারা মাশরাফির সাথে বসে বিষয়টির ইতিবাচক সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারতেন। তাতে করে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ক তার অবদানের স্বীকৃতি পেতেন।

প্রসঙ্গত, গত বিশ্বকাপ শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, মাশরাফির বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সব কিছুই করা হবে। দেশের ক্রিকেটের সব সময়ের সেরা ও সফলতম অধিনায়ক যাতে সম্মানের সাথে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করতে পারেন, তার বিদায়টা যেন হয় ঘটা করে, বিসিবি সেই ব্যবস্থা করবে।

কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে প্রশ্ন উঠছেই- মাশরাফির ভাগ্যে কি অমন রাজকীয় বিদায় জুটবে? নাকি পূর্বসূরীদের মত মনের দুঃখ-কষ্ট আর অব্যক্ত যন্ত্রণা নিয়ে মাঠের বাইরে থেকেই ইতি ঘটবে এত বড় ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার?

বাংলাদেশে বড় ক্রিকেটারদের ঘটা করে বিদায় দেয়ার রীতি খুব একটা নেই। আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আকরাম খান, হাবিবুল বাশার সুমন, নাইমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাসুদ পাইলট আর খালেদ মাহমুদ সুজনের মত জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা ক্রিকেটারও মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারেননি। এছাড়া অনেক মেধাবী ও যোগ্য ক্রিকেটারের বিদায়টাও সুখকর ছিল না। মাশরাফির শেষটাও কি এমন আক্ষেপময় হবে?

রবিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২১

নেইমারদের নতুন কোচ আর্জেন্টিনার পচেত্তিনো

নেইমারদের নতুন কোচ আর্জেন্টিনার পচেত্তিনো

 

অবশেষে গুঞ্জনই সত্য হলো। ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আর্জেন্টাইন মাউরিসিও পচেত্তিনো। চলতি মৌসুম থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নেইমার জুনিয়র, কাইলিয়ান এমবাপেদের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন ৪৮ বছর বয়সী পচেত্তিনো।

ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে ব্যর্থতার দায় দিয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর বহিষ্কার করা হয়েছিল প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর কোচ থমাস টুখেলকে। তার বদলে এখন নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে টটেনহ্যাম, সাউদাম্পটন এবং এসপানিওলের সাবেক ম্যানেজার মাউরিসিও পচেত্তিনো।

২০০০ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত সময়ে প্রায় আড়াই মৌসুম পিএসজিতে খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন পচেত্তিনো। এসময় ৯৫ ম্যাচ খেলে তিনি জিতেছেন ২০০১ সালের ইন্টার টোটো কাপ। পরে যোগ দেন স্প্যানিশ ক্লাব এসপানিওলে। সেই ক্লাবে থেকেই ২০০৬ সালে অবসর নেন খেলোয়াড়ি জীবন থেকে।

এরপর ২০০৯ সালে এসপানিওলকে দিয়েই শুরু হয় পচেত্তিনোর কোচিং ক্যারিয়ার। পরে চলে যান ইংল্যান্ডে। সেখানে তিনি দায়িত্ব নেন সাউদাম্পটন ও টটেনহ্যামের। গতবছরের নভেম্বরে টটেনহ্যামের দায়িত্ব থেকে অপসারিত হন তিনি। এবার নতুন মিশনে কাজ শুরু করবেন পিএসজির ডাগআউটে।

বর্তমানে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে পিএসজি। ওপরে থাকা দুই দল লিয়ন এবং লিলের চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা। তবে এরই মধ্যে হেরে গেছে ৪টি ম্যাচ। অথচ গত মৌসুমে তারা হেরেছিল মাত্র ৩টি ম্যাচে। এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা ধরে রাখাই এখন পচেত্তিনোর মূল চ্যালেঞ্জ।

আজ (রোববার) থেকেই কাজে নেমে পড়ছেন পচেত্তিনো। বুধবার রাতে সেইন্ট এতিয়েনের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য আজ থেকেই দলকে অনুশীলন করাবেন। পিএসজির দায়িত্ব নিয়ে পচেত্তিনো বলেছেন, ‘প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের নতুন কোচ হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্লাব ম্যানেজম্যান্টের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমার প্রতি ভরসা রেখেছে। এই ক্লাব সবসময়ই আমাদের হৃদয়ের খুব কাছে। এখানে আমার অনেক মধুর স্মৃতি রয়েছে। আজ ক্লাবে ফিরেছি সুনির্দিষ্ঠ কিছু লক্ষ্য নিয়ে। বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করতে মুখিয়ে রয়েছি।’

ভারতকে হুঁশিয়ারি, ‘নিয়ম না মানলে খেলার দরকার নেই’

ভারতকে হুঁশিয়ারি, ‘নিয়ম না মানলে খেলার দরকার নেই’

 

রোহিত শর্মা, রিশাভ পান্তসহ পাঁচ ক্রিকেটার করোনাবিধি ভঙ্গ করায় বিপাকে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলতি বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির চতুর্থ ম্যাচ ঘিরে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। করোনা বাস্তবতায় খেলোয়াড়দের নিয়ম ভঙ্গ করার বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেয়নি অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় প্রশাসন।

আগামী ৭ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। মাঠের খেলায় দুই দল যখন ১-১ সমতায়, তখন বাকি দুই ম্যাচের উত্তেজনা থাকার কথা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে মাঠের বাইরের ঘটনায় বারবার বদলাচ্ছে অবস্থা।

অস্ট্রেলিয়ার করোনা পরিস্থিতি নতুন করে খারাপের দিকে এগুতে থাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার। যে কারণে এখন শেষ ম্যাচ খেলতে ব্রিসবেনে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়দের থাকতে হবে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে। অথচ পূর্ব ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, সিডনি টেস্ট শেষে ১৫ জানুয়ারিতেই ব্রিসবেনে খেলার কথা দুই দলের।

করোনা সতর্কতার কারণে নিজেদের সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে কুইন্সল্যান্ড সরকার। অন্য কোনো শহর থেকে সেই প্রদেশে গেলে কোয়ারেন্টাইনের নিয়মও রাখা হয়েছে। যা প্রযোজ্য হবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের জন্যও। ভারতীয় ক্রিকেট দলকে এখনও এ বষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

তবে ভারতের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, যদি কুইন্সল্যান্ড গিয়ে আবারও হোটেলে বন্দী অবস্থায় থাকতে হয়, তাহলে তারা সেখানে চতুর্থ ম্যাচ খেলতে রাজি নয়। এর চেয়ে বরং সিডনি বা অন্য কোথাও চতুর্থ ম্যাচ খেলে সিরিজটি শেষ করার পক্ষে তারা।

জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে ভারতীয় দলের এক সূত্র জানিয়েছেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়া আসার আগে দুবাইয়ে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন করেছি। বন্দী অবস্থায় থাকা খুবই কঠিন বিষয়। আমরা ব্রিসবেনে খেলার পক্ষে নই, যদি আবারও মাঠে নামার বদলে হোটেলে আটকা থাকতে হয়। অন্য কোথাও সিরিজটি শেষ করে নেয়া যায়।’

ভারতীয় দলের এমন মন্তব্যের পরও কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি কুইন্সল্যান্ড সরকার। উল্টো তারা আরও শক্তভাবে বলে দিয়েছে, প্রাদেশিক সরকারের নিয়ম মানতে না পারলে ভারতের খেলার কোনও দরকার নেই। প্রয়োজনে ব্রিসবেনে খেলা হবে না, তবু নিয়মে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

কুইন্সল্যান্ড সরকারের স্বাস্থ্য ছায়া মন্ত্রী রস বেটস বলেছেন, ‘ভারতীয় যদি নিয়ম মেনে খেলতে রাজি না হয়, তাহলে তাদের আসার দরকার নেই।’ একই কথা ক্রীড়া ছায়া মন্ত্রী টিম মেন্ডারের মুখেও। তিনি বলেছেন, ‘ভারতীয় দল যদি নিয়ম অমান্য করতে চায় এবং কোয়ারেন্টাইন বিধি না মানে, তাহলে তাদের চতুর্থ টেস্ট খেলতে আসার দরকার নেই। একই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য।’