করোনাভাইরাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
করোনাভাইরাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

করোনায় মানুষের অসচেতনতা দেখে চটলেন মালাইকা

করোনায় মানুষের অসচেতনতা দেখে চটলেন মালাইকা

 

করোনাভাইরাসের মধ্যে মানুষের অসতর্ক অবস্থায় চলাফেরা দেখে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলিউডের জনপ্রিয় আইটেম তারকা মালাইকা অরোরা। আর তিনি ক্ষোভ প্রকাশের জন্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন ইনস্টাগ্রামকে।

মুম্বাইয়ের ব্যান্ডস্ট্যান্ড এলাকায় মানুষের ভিড় দেখে হতবাক তিনি। মানুষের ভিড়ের সেই ছবি ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘করোনা আছে কি নাই।’

মালাইকার শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, গাড়ি ও অসংখ্য মানুষের ভিড় জমেছে ব্যান্ডস্ট্যান্ডে। মহামারির সময়ে বিধিনিষেধ ভুলে এতো মানুষের জমায়েত দেখেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মালাইকা।

কয়েক মাস আগে প্রেমিক অর্জুন কাপুরের সঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন মালাইকা। দীর্ঘ দিন আইসোলেশনে থাকার পর সুস্থ হয়ে উঠেন তিনি। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর নিজের সন্তানদের থেকে দূরে থাকার অভিজ্ঞতা তিনি শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘ভালবাসা সীমানা মানে না। সামাজিক দূরত্ব ও আইসোলেশনকে সঙ্গে নিয়েই, আমরা একে অপরের খোঁজ রেখেছি, দেখেছি এবং কথা বলেছি। আমার দুই সন্তানকে কিছুদিন জড়িয়ে ধরতে পারব না ভেবে কষ্ট হচ্ছে, ওদের মিষ্টি মুখগুলো দেখে আমি মনে জোর পাচ্ছি।’

করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরে রিয়্যালিটি শো-এর বিচারকের আসন থেকেও কিছুদিনের জন্য সরে দাঁড়িয়েছিলেন মালাইকা। তার পরিবর্তে সাময়িকভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন নোরা ফাতেহি।

সুস্থ হয়ে আবার স্ব-মহিমায় শুটিংয়ে ফেরেন তিনি। এছাড়াও কখনো বিকিনি পরে, কখনো অর্জুন কাপুরের সঙ্গে ছবি দিয়ে আলোচনায় থেকেছেন মালাইকা।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন ৯২ শতাংশ কার্যকর

রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন ৯২ শতাংশ কার্যকর

 

রাশিয়ায় তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি সর্বশেষ ট্রায়ালে ভাইরাসের বিরুদ্ধে ৯২ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে। পিয়ার-রিভিউ জার্নাল দ্য ল্যানসেটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

এটিকে নিরাপদ হিসেবেও গণ্য করা হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি ও করোনায় মৃত্যুর বিরুদ্ধে পূর্ণ প্রতিরোধ প্রদান করবে বলে জানানো হয়েছে।

চূড়ান্ত ট্রায়ালের আগেই ভ্যাকসিনটি অনুমোদন দেয়ায় এটি বেশ বিতর্ক তৈরি করেছিল। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটির উপকারিতা এখন প্রমাণিত। এর ফলে প্রমাণিত ভ্যাকসিনের তালিকায় ফাইজার-বায়োএনটেক, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না ও জ্যানসেনের সঙ্গে স্পুটনিক ভিও যুক্ত হল।

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও বেলজিয়ামে তৈরি জ্যানসেন ভ্যাকসিন যেভাবে কাজ করে, স্পুটনিক ভি সেভাবেই কাজ করে। শরীরে কিঞ্চিৎ মাত্রায় করোনাভাইরাস প্রবেশ করাতে এই ভ্যাকসিনটি প্রকৌশলের মাধ্যমে একটি অক্ষতিকর ও ঠাণ্ডা ধরনের ভাইরাস ব্যবহার করে থাকে।

ভ্যাকসিনটি দেয়ার পর করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে দেহ অ্যান্টিবডি তৈরি করতে থাকে। এর মানে হল, সত্যিকার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তা লড়াই করার মতো যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শরীর অর্জন করবে।

তবে স্পুটনিক ভি এর দ্বিতীয় ডোজটি অন্যান্য ভ্যাকসিনের মতো একই ডোজের পুনরাবৃত্তি করার বদলে কিছুটা আলাদা একটি ধরন ব্যবহার করবে। প্রথম ডোজের ২১ দিন পরে তা প্রয়োগ করা হবে।

দুটি ধরনই ভাইরাসের ‘স্পাইক’কে লক্ষ্য করে কাজ করবে। তবে প্রথম ডোজের পুনরাবৃত্তির ফলে যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হবে তার চেয়েও শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে দ্বিতীয় ডোজে আলাদা ধরন ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভাইরাস থেকে প্রতিরক্ষার পাশাপাশি নিরাপত্তাও দেবে ভ্যাকসিনটি। কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে তবে তা মৃদু মাত্রায়। এর মধ্যে রয়েছে বাহু ফুলে যাওয়া, ক্লান্তি ও শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া।

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১০ মৃত্যু, শনাক্ত ৪৪৩

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১০ মৃত্যু, শনাক্ত ৪৪৩

 

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে জন ৯ জন পুরুষ ও একজন নারী। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ হাজার ১৩৭ জনে।

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৬টি ল্যাবরেটরিতে ১২ হাজার ৫৫৬টি নমুনা সংগ্রহ ও ১২ হাজার ৪৭৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৭টি। এই সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪৪৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮২ জনে দাঁড়াল।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৭২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার ২১৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার হার ৩ দশমিক শূন্য ৫৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক শূন্য ৬৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

গেল বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত এবং ১৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। এ পর্যন্ত মোট মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ১৬৬ জন (৭৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ) ও নারী ১ হাজার ৯৭১ জন (২৪ দশমিক শূন্য ২২ শতাংশ)।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০ জনের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব দুজন এবং ষাটোর্ধ্ব সাতজন রয়েছেন। বিভাগওয়ারী হিসাবে, ১০ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সাতজন, চট্টগ্রাম একজন, বরিশাল একজন ও সিলেট বিভাগে একজন মারা গেছেন।

রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১

সিঙ্গাপুরে আজও ২৯ জনের করোনা শনাক্ত

সিঙ্গাপুরে আজও ২৯ জনের করোনা শনাক্ত

 

সিঙ্গাপুরে আজও নতুন করে ২৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত মোট ৫৯ হাজার ৫৩৬ জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি (দুপুর ১২টা পর্যন্ত) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রোববার আক্রান্তদের মধ্যে সবাই বিদেশফেরত। যারা সিঙ্গাপুরে ফেরার পর স্টেহোম নোটিশে ছিলেন। কমিউনিটি এবং ডরমেটরি থেকে কোনো ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়নি।

এদিকে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১০ কোটি ৩১ লাখ ৩২ হাজার ৩৮১ জন। মৃত্যু হয়েছে ২২ লাখ ২৯ হাজার ৪০৫ জনের আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন সাত কোটি ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৭ জন।

রোববার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২২১টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন দুই কোটি ৬৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৪০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন চার লাখ ৫০ হাজার ৩৮১ জন আর সুস্থ হয়েছেন এক কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার ৯৫০ জন।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটিতে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এক কোটি সাত লাখ ৪৭ হাজার ৯১ জনের শরীরে। এর মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ৫৪ হাজার ৩১২ জন আর সুস্থ হয়েছেন এক কোটি চার লাখ ২২ হাজার ১০৯ জন।

করোনা সংক্রমণের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন দুই লাখ ২৩ হাজার ৯৭১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৯ লাখ ৯৮ হাজার ২৪৬ জন।

তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ, যুক্তরাজ্য পঞ্চম, ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম ও জার্মানি রয়েছে দশম অবস্থানে। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম। এছাড়া ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯ হাজার ৫২২ জন। এর মধ্যে চার হাজার ৬৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয় গত বছরের বছরের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। এরপর ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২১

জনসনের এক ডোজের ভ্যাকসিনে নতুন আশা

জনসনের এক ডোজের ভ্যাকসিনে নতুন আশা

 

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে এক ডোজের ভ্যাকসিন আনছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট জনসন অ্যান্ড জনসন। অন্যগুলোর তুলনায় এটি দামে যেমন সস্তা, পরিবহনও সহজ। এর জন্য কোল্ডচেইন বা অতিশীতল তাপমাত্রার প্রয়োজন পড়বে না, সাধারণ ফ্রিজের তাপমাত্রাতেই সংরক্ষণ করা যাবে মাসের পর মাস।

শুক্রবার জনসন অ্যান্ড জনসন কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্বব্যাপী তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে তাদের করোনা ভ্যাকসিন ৬৬ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তবে গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে এর সাফল্য ৮৫ শতাংশ।

আপাতদৃষ্টিতে ফাইজার এবং মডার্নার তুলনায় জনসনের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বেশ কম মনে হচ্ছে। তারপরও এক ডোজের ভ্যাকসিনে এমন সাফল্যে সন্তুষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া, ভ্যাকসিনটি করোনার পুরনো ধরনের বিরুদ্ধে বেশ ভালো কাজ করেছে। শুধু পিছিয়ে পড়েছে নতুন ধরন মোকাবিলায়। একারণে অঞ্চলভেদে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার হার ভিন্ন ভিন্ন এসেছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রায়ালে তাদের ভ্যাকসিন ৭২ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ৬৬ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে লাতিন আমেরিকায় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এর হার ৫৭ শতাংশ।

Johnson-3.jpg

দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রায়ালে ৯৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারীই ছিলেন করোনার নতুন ধরনের শিকার। এই ধরনটিকে পুরনোটির চেয়ে বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী বলে মনে করছেন গবেষকরা।

জনসন অ্যান্ড জনসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে করোনার সবগুলো ধরনের বিরুদ্ধে গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে গড়ে ৮৫ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে তাদের ভ্যাকসিন। সমযের সঙ্গে সঙ্গে এর হার বাড়তে দেখা গেছে।

ভ্যাকসিন প্রয়োগের ৪৯ দিন পর কারও শরীরে গুরুতর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ভ্যাকসিন নেয়ার পরে যারা মারা গেছেন, তারা সাধারণ প্ল্যাসেবো গ্রুপে ছিলেন, অর্থাৎ তাদের মৃত্যুর কারণ ভ্যাকসিন নয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনসন জানিয়েছে, বিশ্বের আটটি দেশে ৪৪ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত ট্রায়াল থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণার এই ফলাফল এখনও কোনও পিয়ার-রিভিউ জার্নালে প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই সেটি হতে পারে।

Johnson-3.jpg

এছাড়া, জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কাছে আগামী সপ্তাহেই আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনসনের ভ্যাকসিন নিয়ে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা অ্যান্থনি ফউসি। সিএনএন’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, একটি ভ্যাকসিন দামী নয়, একটিমাত্র ডোজ লাগে, আবার কোনও কোল্ডচেইন দরকার হয় না- সেটি অবশ্যই ভালো।

ফাইজার-মডার্নার ভ্যাকসিনের চেয়ে কার্যকারিতা কম থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনসনের যদি ফাইজার-মডার্নার ভ্যাকসিনের ৯৪-৯৫ শতাংশ কার্যকারিতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে না হতো, তাহলে হয়তো বিষয়টি এতটা খারাপ দেখাত না।

ডা. ফউসি বলেন, সমস্যাটা কোথায় জানেন? যদি এটি এমন সময় বের হতো যেখানে মডার্নার ৯৪-৯৫ শতাংশ নেই… আমরা হয়তো বলতাম ‘ওয়াও’। ৭২ শতাংশ কার্যকর, গুরুতর রোগে যার সাফল্য আরও বেশি, সেটা সত্যিই অসাধারণ। কিন্তু এখন আমরা সারাক্ষণ ৯৪-৯৫ শতাংশের সঙ্গে তুলনা করছি।

মার্কিন প্রশাসনের এ উপদেষ্টার মতে, বিশ্বজুড়ে মানুষদের হাসপাতাল থেকে দূরে রাখতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জনসনের ভ্যাকসিন ভালো ফল দিতে পারে।

করোনা : প্রায় ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যু

করোনা : প্রায় ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যু

 

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত প্রায় নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যু। এর আগে গত বছরের ৮ মে সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ হাজার ৯৪ জনে। 

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৪টি ল্যাবরেটরিতে ১২হাজার ২৭৯টি নমুনা সংগ্রহ ও ১২হাজার ৭৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬ লাখ ২৭ হাজার ৪১৩টি।

একই সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হন আরও ৪৫৪ জন। দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৭ জন।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হন ৪১৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬০ জন।

মৃত ৭ জনের মধ্যে পুরুষ ছয়জন ও নারী একজন। এদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয়জন ও বাসায় একজন মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা তুলনায় শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

মোট মৃত ৮ হাজার ৯৪ জনের মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ১৩৩ (৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ) ও নারী ১ হাজার ৯৬১ জন (২৪ দশমিক শূন্য ২৩ শতাংশ)।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত সাতজনের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন এবং ষাটোর্ধ্ব পাঁচজন রয়েছেন।

বিভাগওয়ারী হিসাবে মৃত সাতজনের মধ্যে ঢাকায় তিনজন, চট্টগ্রামে দুইজন, রাজশাহী ও খুলনায় একজন করে মারা যান।

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

করোনায় মৃত্যু ২১ লাখ ৬৭ হাজার ছাড়াল

করোনায় মৃত্যু ২১ লাখ ৬৭ হাজার ছাড়াল

 

মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী ১০ কোটি আট লাখ ২৫ হাজার ১১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে মারা গেছেন ২১ লাখ ৬৭ হাজার ১৮ জন আর সুস্থ হয়েছেন সাত কোটি ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৯ জন মানুষ।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৯টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই কোটি ৬০ লাখ ১১ হাজার ২২২ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন চার লাখ ৩৫ হাজার ৪৫২ জন আর সুস্থ হয়েছেন এক কোটি ৫৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৩ জন।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন এক কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার ২৭৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৭৫১ জন আর সুস্থ হয়েছেনে এক কোটি ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৮ জন।

করোনা সংক্রমণের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। সেখানে করোনায় সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন দুই লাখ ১৮ হাজার ৯১৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৭ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৫ জন।

তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ, যুক্তরাজ্য পঞ্চম, ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম ও জার্মানি রয়েছে দশম অবস্থানে। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম। এছাড়া ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯ হাজার ২৭২ জন। এর মধ্যে চার হাজার ৬৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয় গত বছরের বছরের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। এরপর গত ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

লেবাননে করোনায় বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু

লেবাননে করোনায় বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু

 

লেবাননে করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাবিয়া বেগম নামে এক বাংলাদেশি নারী কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর দুইটায় বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে মরদেহ হিমঘরে আছে।

রাবিয়া বেগমের মেয়ে লেবানন প্রবাসী তানজিনা আক্তার জানান, তার মা ছয় বছর আগে গৃহকর্মীর ভিসায় লেবাননে আসেন। দুই সপ্তাহ আগে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে তার মেয়ে শুক্রবার সকালে তাকে রফিক হারিরি হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করার কয়েক ঘণ্টা পরেই রাবিয়া বেগমের মৃত্যু হয়।

রাবিয়া বেগমের বাড়ি বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সাতপুকুরিয়া গ্রামে। বাবার নাম হারুনুর রশীদ।

লেবাননে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে নয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি পাঠের নতুন গাইডলাইন

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি পাঠের নতুন গাইডলাইন

 

করোনার কারণে বন্ধ থাকা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা বলা হলেও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিখন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার চাহিদা পূরণের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) এ গাইডলাইন প্রকাশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

নির্দেশিকা প্রণয়নে অনুসরণ করা মূলনীতির মধ্যে রয়েছে-

>> শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া।

>> জাতীয় পর্যায়ের সব স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা মেনে এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে হবে

>> এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় স্বাস্থ্য ও প্রশাসন এবং কমিউনিটি) সম্পৃক্ত করতে হবে

>> স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুকরণ এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি, বাছাই ও তা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রাসঙ্গিক করতে হবে।

>> দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত, জেন্ডার, নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধিতা বিবেচনা করে সবার জন্য প্রযোজ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

>> প্রতিটি শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আনন্দঘন শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

>> প্রতিটি শিক্ষার্থীর পুষ্টি উন্নয়নের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পুষ্টি শিক্ষা এবং পুষ্টিসেবা প্রদান নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

>> কোভিড-১৯ পরিস্থিতিকে নতুন স্বাভাবিকতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

>> শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (সরকারি/বেসরকারি, আবাসিক/অনাবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) জন্য বিবেচনা করতে হবে।

>> সর্বোপরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সক্ষমতা, জনবল ও দক্ষতা ইত্যাদি বিবেচনায় বাস্তবসম্মতভাবে নির্দেশনা প্রণয়ন করতে হবে।

নির্দেশিকা প্রণয়নে যেসব স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সূচককে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো-

>> শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবার সর্বদা মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা।

>> প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমে নির্দেশিত (৩ ফুট) শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

>> একসঙ্গে অধিক সংখ্যক মানুষের জমায়েতকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

>> প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দিষ্ট সময় পর পর নিয়ম মেনে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও পরিষ্কারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

>> হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার পালন করা ও উৎসাহিত করতে হবে।

>> শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেঝেসহ সব এলাকা প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

>> শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পানি, স্যানিটেশন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা রাখা এবং পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

>> শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা এবং কেউ অসুস্থ/আক্রান্ত থাকলে/হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার পাশাপাশি কন্টাক্ট ট্রেসিং করে অন্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

>> শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে গুজবের আতঙ্ক ও মহামারির বিস্তার রোধে শিক্ষার্থীসহ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও গাইডলাইনে বলা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (সরকারি/বেসরকারি, আবাসিক/অনাবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) এই নির্দেশিকা ব্যবহার করতে পারবে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে থেকে পুনরায় চালু হবে তা কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করবে সরকার। তবে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশকিছু উদ্যোগ (বিশেষ করে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন, অর্থসংস্থান এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ) গ্রহণ করবে। প্রতিষ্ঠান খোলার সরকারি ঘোষণা অনুসরণের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নিয়ে এলাকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হবে। পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার বিষয়ে সবাইকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, করোনা সংক্রমণের বিস্তার বিবেচনায় নিরাপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে দেখার কথা বলা হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারবে কিনা, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার প্রভাব সেখানকার শিক্ষার্থীদের ওপর কীভাবে পড়েছে এবং প্রতিষ্ঠান খোলা হলে এবং চালু রাখলে, তা ওই এলাকায় সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে কিনা ইত্যাদি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে।

সব পরিস্থিতি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান চালু রাখতে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

ট্রাম্পের শেষদিনে করোনায় মৃত্যু ৪ লাখ ১১ হাজার ছাড়াল

ট্রাম্পের শেষদিনে করোনায় মৃত্যু ৪ লাখ ১১ হাজার ছাড়াল


 বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্বের শেষদিনে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা চার লাখ ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাসের পর মাস এই অবস্থান ধরে রেখেছে দেশটি। এখন পর্যন্ত কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ধারে-কাছেও নেই।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৪২ লাখের বেশি। এর মধ্যে মারা চার লাখের বেশি মানুষ।

এদিকে, ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৪৮ লাখ ৯ হাজার ৮৪১। এর মধ্যে মারা গেছে ৪ লাখ ১১ হাজার ৫২০ জন। ইতোমধ্যেই দেশটিতে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৬ জন। দেশটিতে বর্তমানে করোনার অ্যাক্টিভ কেস ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৪৩৪। অপরদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে ২৮ হাজার ৪১৮ জন।

করোনা মহামারির প্রথম থেকেই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকলেও প্রশাসন কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনেক দেশই যখন শুরু থেকেই কঠোর লকডাউন এবং বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে তখন ট্রাম্প ভিন্ন পথে হেঁটেছেন। তিনি করোনাকে একেবারেই পাত্তা দেননি। এমনকি তিনি নিজে এবং তার স্ত্রী-সন্তান করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরেও এ বিষয়ে তাকে তেমনভাবে গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি।

করোনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপর্যস্ত পরিস্থিতির পুরো দায় ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের। আর এই দায় নিয়েই হোয়াইট হাউস ছাড়তে হচ্ছে তাকে। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে দেশে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যুতেও সামান্যতম বিচলিত নন এই বিদায়ী প্রেসিডেন্ট।

বুধবার দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন জো বাইডেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইতোমধ্যেই করোনা-বিধ্বস্ত মার্কিন অর্থনীতির জন্য এক দশমিক নয় ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। কংগ্রেসে এই প্রণোদনা প্যাকেজ অনুমোদন হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দ থাকছে এক ট্রিলিয়ন ডলার। যেখানে প্রত্যেক মার্কিনিকে সরাসরি দেয়া হবে এক হাজার ৪০০ ডলার করে। ত্রাণ প্যাকেজের আওতায় করোনা মোকাবিলায় খরচ করা হবে ৪১২ বিলিয়ন ডলার আর ছোট ব্যবসার থাকছে ৪৪০ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া করোনার টিকাদান কর্মসূচিকে আরও বেগবান করে তুলতে চান জো বাইডেন। সে লক্ষ্যে সিরিঞ্জসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

এক সপ্তাহে বেড়েছে নমুনা পরীক্ষা, কমেছে শনাক্ত-মৃত্যু

এক সপ্তাহে বেড়েছে নমুনা পরীক্ষা, কমেছে শনাক্ত-মৃত্যু

 

দেশে গত এক সপ্তাহে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার হার ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত ১২ দশমিক ৫২ শতাংশ, সুস্থ ২৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও মৃত্যুহার ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়েছে। করোনা সংক্রমণকালে ৫৩ তম সপ্তাহের তুলনায় ৫৪ তম সপ্তাহের পরিসংখ্যানে এ পরিবর্তন দেখা যায়।

৫৩ তম সপ্তাহে ৯০ হাজার ১৪২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ সময়ে ৭ হাজার ৮৫ জন শনাক্ত এবং ৯ হাজার ১৩২ জন সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং মৃত্যু হয় ১৭১ জনের। ৫৪ তম সপ্তাহে ৯৪ হাজার ৯৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ সময়ে ৬ হাজার ১৯৮ জন শনাক্ত, ৬ হাজার ৪৪৪ জন সুস্থ ও ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়।

শনিবার (৯ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ হাজার ৭৫৬ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮১টি ল্যাবরেটরিতে ১২ হাজার ৫২৩টি নমুনা সংগ্রহ ও ১২ হাজার ৯০৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৯টি। এই সময়ের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৯২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৩৮২ জন।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭৮৫ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার হার ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক শূন্য ৩৯ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

গেল বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত এবং ১৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। শনিবার (৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৭৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৮৯৫ জন (৭৬ দশমিক ০১ শতাংশ) ও নারী ১ হাজার ৮৬১ জন (২৩ দশমিক শূন্য ৯৯ শতাংশ)।

রবিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২১

করোনা প্রাণ কাড়ল আরও ২৭ জনের

করোনা প্রাণ কাড়ল আরও ২৭ জনের


 করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ২৭ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ ও নারী ১১। এদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাত হাজার ৬২৬ জনে।

শনিবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮০টি ল্যাবরেটরিতে ১০ হাজার ৮৬৭টি নমুনা সংগ্রহ ও ১০ হাজার ৯২৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হছে। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৩২ লাখ ৬০ হাজার ৩২৭টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৩৫ জন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৯ জন।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৯৭৮ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৬০ হাজার ৫৯৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার হার ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২৭ জনের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচজন এবং ষাটোর্ধ্ব ১৯ জন রয়েছেন। এছাড়া বিভাগ হিসেবে ঢাকায় ১৫ জন, রাজশাহীতে চারজন, খুলনায় একজন, সিলেটে দু’জন, রংপুরে তিনজন এবং ময়মনসিংহে দু’জন রয়েছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮মার্চ প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট মৃত্যু ৭ হাজার ৬২৬ জনের মধ্যে পুরুষ পাঁচ হাজার ৭৯৭ জন (৭৬ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ) ও নারী এক হাজার ৮২৯ জন (২৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ)।

এমইউ/এসজে/এমকেএইচ

বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

ফাইজারের ভ্যাকসিন নেয়ার পরেও করোনায় আক্রান্ত নার্স

ফাইজারের ভ্যাকসিন নেয়ার পরেও করোনায় আক্রান্ত নার্স

 

যুক্তরাষ্ট্রে ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি ভ্যাকসিন নেয়ার পরেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক নার্স। ভ্যাকসিন গ্রহণের এক সপ্তাহ পরেই করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন তিনি। বুধবার এবিসি নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ম্যাথিউ ডব্লিউ. নামে ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ক্যালিফোর্নিয়ার দু’টি হাসপাতালে কাজ করেন। গত ১৮ ডিসেম্বর ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি জানান, ফাইজারের ভ্যাকসিন নেয়ার পর গোটা দিন তার হাতে ব্যথা ছিল। কিন্তু এই ছাড়া আর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুভব করেননি।

এর ছয়দিন পরেই বড়দিনের আগ মুহূর্তে হাসপাতালে দায়িত্বপালনকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ম্যাথিউ। তার শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসে। একসময় পেশিতে ব্যথা এবং ক্লান্তিবোধ করতে থাকেন তিনি।

পরে একটি অস্থায়ী হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করান ম্যাথিউ। এর ফলাফল আসে বড়দিনের পর। দেখা যায়, তিনি করোনা পজিটিভ।

jagonews24

এ বিষয়ে সান দিয়েগোর পারিবারিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান রেমার্স বলেছেন, ফাইজারের ভ্যাকসিন নেয়ার পরেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মতো দৃশ্য অপ্রত্যাশিত নয়।

তিনি বলেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল থেকে আমরা জানি, ভ্যাকসিনের সুরক্ষা তৈরি হতে সেটি গ্রহণের পর অন্তত ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে।

তাছাড়া, প্রথম ডোজ ৫০ শতাংশের মতো সুরক্ষা দেয় বলে ধারণা করা হয়। সেক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা পেতে দু’টি ডোজ নিতে হবে।

করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে যাতে বাণিজ্য না হয় : জেবেল-মোস্তফা

করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে যাতে বাণিজ্য না হয় : জেবেল-মোস্তফা

 

করোনার ভ্যাকসিন আমদানি ও বণ্টন নিয়ে কোনো দুর্নীতি ও বাণিজ্য যাতে না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

তারা বলেন, কোনো ধরনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো গোষ্ঠী, অসৎ ব্যবসায়ী বা সিন্ডিকেট যেন করোনার ভ্যাকসিন বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে না পারে, দেশে আসার পর যাতে ভ্যাকসিন ভেজাল হয়ে ছড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারেও সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) দলের দফতর সম্পাদক মো. নুরুল আমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন।

ন্যাপ নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের সকল মানুষের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেশের মানুষের হাতে তা পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও সরকারের এবং তা নিশ্চিত করতে হবে।

তার আরও বলেন, একটা নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন করোনার গ্রাস থেকে মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রধান হাতিয়ার। এটির সঠিক প্রয়োগ ও জনগণের কাছে সময়মতো পৌঁছলে এনে দিতে পারে স্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বাচ্ছন্দ্য। এখানে যাতে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক মানসিকতার সৃষ্টি না হয়। করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে ব্যবসা শুরু হলে আরও ভয়ংকর হবে উঠতে পারে মহামারি বিপর্যয়।

তারা বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করোনার ভ্যাকসিন যথাযথভাবে মানুষের নিকট পৌঁছে দিতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টাও বিবেচনা করতে পারে সরকার।

শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

ভ্যাকসিন প্রদান শুরু করেছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো

ভ্যাকসিন প্রদান শুরু করেছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো


 লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রদান শুরু হয়েছে। মেক্সিকোর একজন নার্স লাতিন আমেরিকার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ গ্রহণ করেছেন।

বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মেক্সিকো ফাইজার-বায়োএনটেকের ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন কিনেছে। এর মধ্যে গত বুধবার প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ হাজার ভ্যাকসিন ডোজ দেশটিতে এসে পৌঁছেছে। করোনায় মৃতের সংখ্যায় বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ দেশ মেক্সিকো। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভারতের পরেই সবচেয়ে মৃত্যু হয়েছে মেক্সিকোতে।

চিলি ও কোস্টা রিকাও ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন প্রদান শুরু করেছে। লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ আর্জেন্টিনাও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রদানের পরিকল্পনা করেছে। প্রথম ধাপে তারা রাশিয়ায় তৈরি স্পুটনিক ৫ ভ্যাকসিনটি দেবে। বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে স্পুটনিকের ৩ লাখ ডোজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

করোনায় লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া দেশ ব্রাজিল অবশ্য এখনো ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের আগে তারা ভ্যাকসিন প্রদান শুরু করতে পারছে না। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

মেক্সিকো সিটির রুবেন লেনেরো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের প্রধান ৫৯ বছর বয়সী মারিয়া ইরিন রামিরেজ মেক্সিকোর প্রথম স্বেচ্ছাসেবী, যিনি করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন। রামিরেজ বলেন, ‘আমরা একটু ভয়ে আছি, কিন্তু আমাদেরকে এগোতে হবে। আর আগুনের শিখার সামনেই আমি থাকতে চাই।’

মেক্সিকান সরকার জানায়, মহামারির সঙ্গে লড়াই করা সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের তারা ২০২১ সালের প্রথম তিন মাসের মধ্যে ভ্যাকসিন দিতে চায়। জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য মতে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লাখ আর মৃতের সংখ্যা অন্তত ১ লাখ ২১ হাজার।

এদিকে লাতিন আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার স্পুটনিক ৫ ভ্যাকসিনের অর্ডার দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। পশ্চিমের বিভিন্ন দেশসহ রাশিয়াতেও এই ভ্যাকসিন নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রায়াল না দিয়েই রাশিয়া এই ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়ে দেয়।

এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনার ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্যান্টিয়াগো ক্যাফিয়েরো বলেন, ‘কিছুটা সংশয় ছিল। তবে আমরা সবসময় যেমনটা বলি- আর্জেন্টিনাবাসীর স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আলোচনায় আমরা ঝুলে থাকতে চাই না।’ আর্জেন্টিনায় করোনায় সর্বশেষ আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি এবং মৃত্যু হয়েছে ৪২ হাজারেরও বেশি।

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

৭,৯৮,২৭,৮০২
আক্রান্ত

করোনায় আরও ২০ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৬৩

করোনায় আরও ২০ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৬৩

 

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ জন ও বাড়িতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে এই মহামারিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ হাজার ৩৯৮ জনে। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৬৩ জন।

শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩টি ল্যাবরেটরিতে ১৩ হাজার ৫১০টি নমুনা সংগ্রহ ও ১৩ হাজার ৬৯৫টি নমুনা পরীক্ষা করে এসব তথ্য জানা গেছে। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৩১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮টি।

এই সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৬৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৭ হাজার ২৬৫ জন।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১১৩ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার হার ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক শূন্য ৪৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও ১৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট মৃত্যু ৭ হাজার ৩৯৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৬৩৬ জন (৭৬ দশমিক ১৮ শতাংশ) ও নারী ১ হাজার ৭৬২ জন (২৩ দশমিক শূন্য ৮২ শতাংশ)।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২০ জনের মধ্যে দশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব চারজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচজন এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ১০ জন রয়েছেন।

বিভাগীয় হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২০ জনের মধ্যে ঢাকায় ১২ জন, চট্টগ্রামে তিনজন, খুলনায় দুইজন, রংপুরে দুইজন এবং ময়মনসিংহের একজন রয়েছেন।

এমইউ/এসএস/জেআইএম

বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও কোয়ারেন্টিনে

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও কোয়ারেন্টিনে

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কোয়ারেন্টিনে গেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার এ তথ্য জানায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত কোনো এক ব্যক্তির সংস্পর্শে (কন্ট্যাক্ট) এসেছিলেন পম্পেও। এরপরই তিনি কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

খবরে বলা হয়, করোনা পরীক্ষায় পম্পেওর নেগেটিভ আসা সত্ত্বেও তিনি কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, পম্পেও করোনা পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষায় তাঁর নেগেটিভ এসেছে। কিন্তু রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের চিকিৎসা দল তাঁকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখবে।

পম্পেও কখন কীভাবে করোনা সংক্রমিত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন, সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

এ ছাড়া পম্পেওর কোনো উপসর্গ দেখা দিয়েছিল কি না, তা–ও জানানো হয়নি।

করোনা সংক্রমিত ঠিক কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে পম্পেও এসেছিলেন, তা বলতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা বলেছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে তারা সেই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানাতে পারছেন না।

এদিকে বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকে পম্পেও অংশ নেননি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একটি হলিডে পার্টি বাতিল করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ তাঁর প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইতিমধ্যে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন।

এখনো চুপচাপ স্বাস্থ্যের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি

এখনো চুপচাপ স্বাস্থ্যের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির পর গত ৩১ মে থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু খুলে দিয়েছে সরকার। এখনো সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও প্রায় সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ব্যতিক্রম শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তারা এখনো নীরব। অথচ করোনা মহামারির এই সময়ে তাদেরই সবচেয়ে বেশি তৎপর থাকার কথা ছিল। কিন্তু এই কমিটি একটি বৈঠকও করেনি।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সংসদীয় কমিটির কাজ হলো কমিটির আওতাধীন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা, অনিয়ম ও গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করা এবং সংসদ থেকে পাঠানো বিল বা যেকোনো বিষয় পরীক্ষা করা। নিয়ম অনুযায়ী, কমিটিকে মাসে অন্তত একটি বৈঠক করতে হবে।

গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি বৈঠক করেছে স্বাস্থ্যের সংসদীয় কমিটি। অথচ দেশে গত মার্চে করোনার সংক্রমণের শুরু থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা চললেও এই কমিটির নীরব থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা বা অনিয়মের কোনো অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নেয়নি এই কমিটি।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, গত ২৪ মার্চ সর্বশেষ বৈঠক করেছিল স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৈঠকে দেশে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই বৈঠকে করোনায় আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) সরবরাহে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, আইসোলেশনের (বিচ্ছিন্ন রাখা) পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা এবং হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধা কতটা রয়েছে, তা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। করোনাকালে কার্যত এটুকুই এই কমিটির ভূমিকা।


করোনার সংক্রমণের আগে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। কমিটির সূত্র জানায়, গত বছরের ২০ নভেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মালামাল কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি উপকমিটি গঠন করেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটি তাদের তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিয়েছে। কিন্তু মূল কমিটির বৈঠক না হওয়ায় এখনো প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়নি।

ওই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সাংসদ মুহিবুর রহমান (মানিক)। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা অনেক আগেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। মূল কমিটির বৈঠক হলে তা নিয়ে কমিটিতে আলোচনা হবে, কমিটি সুপারিশ দেবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির এই সদস্য বলেন, করোনার এই সময়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠক হওয়াটা জরুরি ছিল। কিন্তু নানা কারণে বৈঠক হয়নি। তাঁরা আশা করছেন, দ্রুত কমিটির বৈঠক ডাকা হবে। তিনি বলেন, বৈঠক না হলেও কমিটির সদস্যরা বর্তমান প্রেক্ষাপটে যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানানো হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় মাস্ক, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী, চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং করোনার পরীক্ষায় অনিয়মের একাধিক ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানানো হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় মাস্ক, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী, চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং করোনার পরীক্ষায় অনিয়মের একাধিক ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ ধরনের অভিযোগে একাধিক মামলা করেছে। কিন্তু বৈঠক না হওয়ায় স্বাস্থ্যের সংসদীয় কমিটিতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়নি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ছিল। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ থেমে ছিল না। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনীয় মন্ত্রণালয়গুলোর কাজও সীমিত পরিসরে চলেছে। ছুটির ওই দুই মাসে কোনো সংসদীয় কমিটির বৈঠক হয়নি। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, ছুটির পর জুন মাসে আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ছাড়া আর কোনো সংসদীয় কমিটি বৈঠক করেনি। মূলত জুলাই মাস থেকে সংসদীয় কমিটিগুলো আবার বৈঠক শুরু করে। করোনার সংক্রমণের মধ্যেই জাতীয় সংসদের তিনটি অধিবেশন বসেছে। কিন্তু বসেনি স্বাস্থ্যের সংসদীয় কমিটি।

কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি বৈঠক আহ্বান করে থাকেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস কমিটির কোনো বৈঠক না হওয়ার কারণ জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির এই নিষ্ক্রিয়তা হতবাক করেছে। স্বাস্থ্যে দুর্নীতির বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। সেখানে সংসদীয় কমিটি কীভাবে একেবারে নীরব থাকতে পারে? তারা নিয়মিত বৈঠকও করছে না।
ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

জাতীয় সংসদ ও সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করে আসছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির এই নিষ্ক্রিয়তা হতবাক করেছে। স্বাস্থ্যে দুর্নীতির বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। সেখানে সংসদীয় কমিটি কীভাবে একেবারে নীরব থাকতে পারে? তারা নিয়মিত বৈঠকও করছে না। তিনি বলেন, হতে পারে তারা এসব বিধিবিধান গুরুত্ব দেয় না। অথবা দুর্নীতি অনুসন্ধান করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে। কারণ অনেকের যোগসাজশে দুর্নীতি হয়েছে। অথবা এমনও হতে পারে, যারা বিভিন্ন দুর্নীতির মূলে রয়েছে, তাদের কাউকে কাউকে সুরক্ষা দিতে কমিটি নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে।

রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

করোনায় আক্রান্ত শিক্ষামন্ত্রী

করোনায় আক্রান্ত শিক্ষামন্ত্রী

 করোনায় আক্রান্ত শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। রোববার (৬ ডিসেম্বর) রাতে পাওয়া কোভিড-১৯ রিপোর্ট থেকে বিষয়টি জানা যায়। বর্তমানে তিনি সরকারি বাসভবনে আইসোলেশনে আছেন।

সোমবার (৭ ডিসেম্বর) জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের।আবুল খায়ের বলেন, ‘গতকাল (রোববার) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। বর্তমানে তিনি বাসভবনে আইসোলেশন আছেন।’

এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় দোয়া করেছেন শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন এডুকেশন রিপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন (ইরাব) নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকেও তার সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এমএইচএম/এসএস/এমকেএইচ

শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০

করোনায় প্রায় ৭৩ শতাংশ মৃত্যু দুই বিভাগে

করোনায় প্রায় ৭৩ শতাংশ মৃত্যু দুই বিভাগে

 করোনায় প্রায় ৭৩ শতাংশ মৃত্যু দুই বিভাগে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ছয় হাজার ৭৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ১৮৪ জন (৭৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ) ও নারী এক হাজার ৫৮৮ জন (২৩ দশমিক শূন্য ৪৫ শতাংশ)। দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে মাত্র দুটি বিভাগেই (ঢাকা ও চট্টগ্রাম ) এই মৃত্যুর হার ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ২৪ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রামে দুইজন, রাজশাহীতে একজন, বরিশালে দুইজন, সিলেটে একজন, রংপুরে একজন এবং ময়মনসিংহে তিনজন রয়েছেন।বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনায় মোট মারা যাওয়া ছয় হাজার ৭৭২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ সংখ্যক তিন হাজার ৬৫৪ জন (৫৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ), চট্টগ্রাম বিভাগে এক হাজার ২৭১ জন (১৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ), রাজশাহী বিভাগে ৪১০ জন (ছয় দশমিক ০৫ শতাংশ), খুলনা বিভাগে ৪৯৯ জন (৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ), বরিশাল বিভাগে ২২২ জন (৩ দশমিক ২৮ শতাংশ), সিলেট বিভাগে ২৬৭ জন (৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ), রংপুর বিভাগে ৩০৭ জন (৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ) এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪২ জন (২ দশমিক ১০ শতাংশ) রয়েছেন।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৮টি ল্যাবরেটরিতে ১৫ হাজার ৫২৭টি নমুনা সংগ্রহ ও ১৫ হাজার ৪৩০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪১টি। এ সময়ে করোনা আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হন আরও দুই হাজার ২৫২ জন। এতে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৯৯১ জনে দাঁড়াল।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫৭২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক শূন্য ৫৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮২ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এমইউ/এমআরআর/জেআইএম