আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ইন্দোনেশিয়ায়

ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ইন্দোনেশিয়ায়

 

ইন্দোনেশিয়ার পাবলিক স্কুলগুলোতে ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক খ্রিস্টান ছাত্রীকে ক্লাসে হিজাব পরতে জোর করার ঘটনা আলোচনায় আসার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। খবর বিবিসির।

ওই মেয়েটি যে স্কুলের শিক্ষার্থী সেখানে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক ছিল। এ সংক্রান্ত নিয়ম যেসব স্কুলে রয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করতে স্কুলগুলোকে ৩০ দিন সময় দিয়েছে সরকার।

ইন্দোনেশিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশ যেখানে অন্য ধর্মগুলোকেও স্বীকৃতি দেয়া হয়। গত বুধবার সরকারি ফরমান হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যেসব স্কুল এই নির্দেশ মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নাদিয়েম মাকারিম বলেন, ধর্মীয় পোশাক পরবে কিনা তা ‘একজনের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা’…স্কুল এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।

দেশটির পাদাং শহরের একটি কারিগরি স্কুলের এক ছাত্রীকে হিজাব পরতে বারবার জোর করার পর ঘটনাটি সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে।

ছাত্রীটি হিজাব পড়তে অস্বীকৃতি জানালে তার অভিভাবকদের স্কুলে তলব করা হয়। অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের সেই ভিডিও গোপনে ধারণ করেন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মকর্তারা বলছেন, স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী অমুসলিমসহ সকল নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক।

ওই ছাত্রীর বাবা এলিয়ানু হিয়া বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে বলেন, ‘হিজাব না পরার কারণে প্রায় প্রতিদিন আমার মেয়েকে তলব করা হত। আর তার উত্তর হল সে মুসলিম নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি আমার মেয়েকে হিজাব পরতে বাধ্য করি, তাহলে আমার মেয়ের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে আমাকে মিথ্যা বলতে হবে।’ ‘কোথায় আমার ধর্মীয় স্বাধীনতা? এটি কোনো পাবলিক স্কুলের মধ্যেই পড়ে না,’ যোগ করেন হিয়া।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। ওই ছাত্রীকে তার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরতে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন ৯২ শতাংশ কার্যকর

রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন ৯২ শতাংশ কার্যকর

 

রাশিয়ায় তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি সর্বশেষ ট্রায়ালে ভাইরাসের বিরুদ্ধে ৯২ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে। পিয়ার-রিভিউ জার্নাল দ্য ল্যানসেটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

এটিকে নিরাপদ হিসেবেও গণ্য করা হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি ও করোনায় মৃত্যুর বিরুদ্ধে পূর্ণ প্রতিরোধ প্রদান করবে বলে জানানো হয়েছে।

চূড়ান্ত ট্রায়ালের আগেই ভ্যাকসিনটি অনুমোদন দেয়ায় এটি বেশ বিতর্ক তৈরি করেছিল। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটির উপকারিতা এখন প্রমাণিত। এর ফলে প্রমাণিত ভ্যাকসিনের তালিকায় ফাইজার-বায়োএনটেক, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না ও জ্যানসেনের সঙ্গে স্পুটনিক ভিও যুক্ত হল।

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও বেলজিয়ামে তৈরি জ্যানসেন ভ্যাকসিন যেভাবে কাজ করে, স্পুটনিক ভি সেভাবেই কাজ করে। শরীরে কিঞ্চিৎ মাত্রায় করোনাভাইরাস প্রবেশ করাতে এই ভ্যাকসিনটি প্রকৌশলের মাধ্যমে একটি অক্ষতিকর ও ঠাণ্ডা ধরনের ভাইরাস ব্যবহার করে থাকে।

ভ্যাকসিনটি দেয়ার পর করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে দেহ অ্যান্টিবডি তৈরি করতে থাকে। এর মানে হল, সত্যিকার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তা লড়াই করার মতো যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শরীর অর্জন করবে।

তবে স্পুটনিক ভি এর দ্বিতীয় ডোজটি অন্যান্য ভ্যাকসিনের মতো একই ডোজের পুনরাবৃত্তি করার বদলে কিছুটা আলাদা একটি ধরন ব্যবহার করবে। প্রথম ডোজের ২১ দিন পরে তা প্রয়োগ করা হবে।

দুটি ধরনই ভাইরাসের ‘স্পাইক’কে লক্ষ্য করে কাজ করবে। তবে প্রথম ডোজের পুনরাবৃত্তির ফলে যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হবে তার চেয়েও শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে দ্বিতীয় ডোজে আলাদা ধরন ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভাইরাস থেকে প্রতিরক্ষার পাশাপাশি নিরাপত্তাও দেবে ভ্যাকসিনটি। কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে তবে তা মৃদু মাত্রায়। এর মধ্যে রয়েছে বাহু ফুলে যাওয়া, ক্লান্তি ও শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া।

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

মিয়ানমারে কী হচ্ছে বোঝার চেষ্টা করছে চীন

মিয়ানমারে কী হচ্ছে বোঝার চেষ্টা করছে চীন

 

মিয়ানমারে শীর্ষ নেতাদের আটকের পর সেনাবাহিনী ক্ষমতাগ্রহণের ঘটনা চীনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তবে সেখানে সেনা অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বেইজিং। সোমবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন এক ব্রিফিংয়ে একথা জানিয়েছেন।

চীনের এ কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমারে কী হয়েছে তা আমরা লক্ষ্য করেছি এবং পরিস্থিতি কী হয় তা আরও বোঝার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, চীন মিয়ানমারের বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী। আমরা আশা করি, মিয়ানমারের সব পক্ষই সংবিধান ও আইনি কাঠামোর আওতায় যথাযথভাবে তাদের মতপার্থক্য পরিচালনা করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পারবে।

মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাগ্রহণ করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং। গতমাসেই মিয়ানমার সফরকালে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন চীন সরকারের অন্যতম শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই।

ওয়াং ই’র সফরকালে হ্লেইং মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের কোনো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কি না বা চীন মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের নিন্দা জানাবে কি না প্রশ্ন করলে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তার আগের বক্তব্যই ফের উল্লেখ করেন।

jagonews24

মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে চীনের। দেশটিতে আগের সামরিক স্বৈরশাসকদের পাশে ছিল বেইজিং, আবার অং সান সু চি নেতা হওয়ার পর তার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে চীনারা।

সোমবার সকালে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ শীর্ষ নেতাদের আটকের পর এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ক্ষমতাগ্রহণ করে সেনাবাহিনী।

মিয়ানমারে চীনের যথেষ্ট অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। দেশটির মধ্য দিয়ে তেল-গ্যাস পাইপলাইনের বিশাল প্রকল্প রয়েছে চীনাদের।

তবে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মিয়ানমারে সহিংসতার কারণে শরণার্থীরা মাঝেমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে চীনে প্রবেশ করে বলে কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে বেইজিংয়ের।

রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১

কারা পাবেন আমিরাতের নাগরিকত্ব?

কারা পাবেন আমিরাতের নাগরিকত্ব?

 

প্রথমবারের মতো বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। করোনাভাইরাস মহামারি এবং তেলের দাম পড়ে যাওয়ার পর সম্প্রতি দেশটি থেকে কয়েক হাজার বিদেশি চলে গেছে। এর মধ্যেই নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আমিরাতে অবস্থানরত বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুমের ভাষ্যমতে, নতুন এই উদ্যোগে বিনিয়োগকারী, মেধাবী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, চিত্রশিল্পী, লেখক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা নাগরিকত্ব পেতে পারেন।

তবে কোনো নিম্ন-আয়ের শ্রমিকদের এসব মানদণ্ড পূরণের সম্ভাবনা কম। আমিরাতি প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, যারা দেশের উন্নয়নে প্রত্যক্ষ অবদান রাখতে পারবেন, তাদের আকর্ষণ করাই তার সরকারের লক্ষ্য।

এক্ষেত্রে নাগরিকত্বের জন্য কারো সরাসরি আবেদন করার সুযোগ নেই। বরং আমিরাতের রাজ পরিবার ও কর্মকর্তারাই মনোনীত করবেন তারা কাদের নাগরিকত্ব দেবেন। এরপর দেশটির মন্ত্রিসভা চূঢ়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, মনোনীত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে কি না।

jagonews24

আমিরাতের নাগরিত্বপ্রাপ্তরা দ্বৈত জাতীয়তাই রাখতে পারবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের তথ্যমতে, নাগরিকত্ব পেতে হলে বিনিয়োগকারীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্পত্তির মালিক হতে হবে। চিকিৎসকদের এমন কোনো ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হতে হবে যার চাহিদা রয়েছে এবং এক্ষেত্রে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

উদ্ভাবকদের আমিরাত সরকার অথবা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো সংস্থা থেকে পেটেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞানীদের স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা গবেষণাকেন্দ্রে সক্রিয় গবেষণা থাকতে হবে এবং ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা লাগবে। কাজের জন্য কোনো পুরস্কার থাকলে সেটি বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সৃজনশীল ব্যক্তিদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা এবং এক বা একাধিক সম্মাননা থাকতে হবে। তাদের জন্য নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সুপারিশ থাকাও বাধ্যতামূলক।

নতুন পাসপোর্টধারীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই নাগরিকত্ব প্রকল্পের আওতায় যোগ্য বিবেচিত হবেন কি না তা এখনও পরিষ্কার নয়।

শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২১

জনসনের এক ডোজের ভ্যাকসিনে নতুন আশা

জনসনের এক ডোজের ভ্যাকসিনে নতুন আশা

 

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে এক ডোজের ভ্যাকসিন আনছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট জনসন অ্যান্ড জনসন। অন্যগুলোর তুলনায় এটি দামে যেমন সস্তা, পরিবহনও সহজ। এর জন্য কোল্ডচেইন বা অতিশীতল তাপমাত্রার প্রয়োজন পড়বে না, সাধারণ ফ্রিজের তাপমাত্রাতেই সংরক্ষণ করা যাবে মাসের পর মাস।

শুক্রবার জনসন অ্যান্ড জনসন কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্বব্যাপী তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে তাদের করোনা ভ্যাকসিন ৬৬ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তবে গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে এর সাফল্য ৮৫ শতাংশ।

আপাতদৃষ্টিতে ফাইজার এবং মডার্নার তুলনায় জনসনের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বেশ কম মনে হচ্ছে। তারপরও এক ডোজের ভ্যাকসিনে এমন সাফল্যে সন্তুষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া, ভ্যাকসিনটি করোনার পুরনো ধরনের বিরুদ্ধে বেশ ভালো কাজ করেছে। শুধু পিছিয়ে পড়েছে নতুন ধরন মোকাবিলায়। একারণে অঞ্চলভেদে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার হার ভিন্ন ভিন্ন এসেছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রায়ালে তাদের ভ্যাকসিন ৭২ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ৬৬ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে লাতিন আমেরিকায় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এর হার ৫৭ শতাংশ।

Johnson-3.jpg

দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রায়ালে ৯৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারীই ছিলেন করোনার নতুন ধরনের শিকার। এই ধরনটিকে পুরনোটির চেয়ে বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী বলে মনে করছেন গবেষকরা।

জনসন অ্যান্ড জনসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে করোনার সবগুলো ধরনের বিরুদ্ধে গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে গড়ে ৮৫ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে তাদের ভ্যাকসিন। সমযের সঙ্গে সঙ্গে এর হার বাড়তে দেখা গেছে।

ভ্যাকসিন প্রয়োগের ৪৯ দিন পর কারও শরীরে গুরুতর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ভ্যাকসিন নেয়ার পরে যারা মারা গেছেন, তারা সাধারণ প্ল্যাসেবো গ্রুপে ছিলেন, অর্থাৎ তাদের মৃত্যুর কারণ ভ্যাকসিন নয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনসন জানিয়েছে, বিশ্বের আটটি দেশে ৪৪ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত ট্রায়াল থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণার এই ফলাফল এখনও কোনও পিয়ার-রিভিউ জার্নালে প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই সেটি হতে পারে।

Johnson-3.jpg

এছাড়া, জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কাছে আগামী সপ্তাহেই আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনসনের ভ্যাকসিন নিয়ে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা অ্যান্থনি ফউসি। সিএনএন’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, একটি ভ্যাকসিন দামী নয়, একটিমাত্র ডোজ লাগে, আবার কোনও কোল্ডচেইন দরকার হয় না- সেটি অবশ্যই ভালো।

ফাইজার-মডার্নার ভ্যাকসিনের চেয়ে কার্যকারিতা কম থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনসনের যদি ফাইজার-মডার্নার ভ্যাকসিনের ৯৪-৯৫ শতাংশ কার্যকারিতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে না হতো, তাহলে হয়তো বিষয়টি এতটা খারাপ দেখাত না।

ডা. ফউসি বলেন, সমস্যাটা কোথায় জানেন? যদি এটি এমন সময় বের হতো যেখানে মডার্নার ৯৪-৯৫ শতাংশ নেই… আমরা হয়তো বলতাম ‘ওয়াও’। ৭২ শতাংশ কার্যকর, গুরুতর রোগে যার সাফল্য আরও বেশি, সেটা সত্যিই অসাধারণ। কিন্তু এখন আমরা সারাক্ষণ ৯৪-৯৫ শতাংশের সঙ্গে তুলনা করছি।

মার্কিন প্রশাসনের এ উপদেষ্টার মতে, বিশ্বজুড়ে মানুষদের হাসপাতাল থেকে দূরে রাখতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জনসনের ভ্যাকসিন ভালো ফল দিতে পারে।

স্বাধীনতা চাইলেই যুদ্ধ, তাইওয়ানকে হুমকি চীনের

স্বাধীনতা চাইলেই যুদ্ধ, তাইওয়ানকে হুমকি চীনের

 

স্বাধীনতা চাইলে যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়ার কড়া বার্তা দিয়ে তাইওয়ানকে হুমকি দিয়েছে চীন। গত এক সপ্তাহ ধরে তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে চীনের বোমারু ও জেট বিমানকে টহল দিতে দেখা যায়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রকে এই বিষয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অনুরোধ করে তাইওয়ান সরকার। আর তাতেই রুষ্ট হয়ে এমন হুমকি দিল চীন। খবর বিবিসি।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) এ বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়। তাতে বেইজিংয়ের তরফ থেকে হুমকি দিয়ে তাইওয়ানকে জানানো হয়, স্বাধীনতা মানে যুদ্ধ। নিজেদের ভূখণ্ডের বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। চীনা সৈন্যরা এই ধরনের ঘটনার যোগ্য জবাব দেয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত আছে।

এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উ কিয়ান বলেন, ‘তাইওয়ানের অবৈধভাবে নির্বাচিত হওয়া সরকার ওই দ্বীপরাষ্ট্রকে স্বাধীন ঘোষণা করে এই এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকাকে কখনোই অন্যের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব নয়। চীন সরকার এই প্রচেষ্টা আটকানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করবে। সে কারণে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য তাইওয়ানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ওই এলাকায় তৎপর হয়ে উঠেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশি মদদে তাইওয়ানের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্টের কোনো চেষ্টাই সফল হতে দেয়া হবে না। যেসব বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি স্বাধীনতার অর্জনের নামে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে। আগুন নিয়ে খেলতে গেলে নিজেদেরই পুড়তে হবে।’

এদিকে, চীনের এই হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তাইওয়ানও। তাদের তরফ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়, ‘চীনের উচিৎ এই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়া। আর এই নিয়ে চিন্তার সময় তারা যেন দ্বীপরাষ্ট্রের মানুষের আবেগকে কম শক্তিশালী না মনে করে। নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যেকোনো লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে তাইওয়ানের নাগরিকরা।’

বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১

ইন্দোনেশিয়ার ক্যাম্প থেকে কয়েকশ’ রোহিঙ্গা ‘গায়েব’

ইন্দোনেশিয়ার ক্যাম্প থেকে কয়েকশ’ রোহিঙ্গা ‘গায়েব’

 

ইন্দোনেশিয়ার একটি শরণার্থী শিবির থেকে হঠাৎ করেই গায়েব কয়েকশ’ রোহিঙ্গা। তারা কোথায় আছেন, কবে গেছেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউই। ধারণা করা হচ্ছে, এই রোহিঙ্গারা হয়তো সুযোগ বুঝে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪০০ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে লোকসুমাওয়ে এলাকার একটি শরণার্থী শিবিরে রেখেছিল ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ।

তবে চলতি সপ্তাহে দেখা গেছে, সেখানে এখন মাত্র ১১২ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন। বাকিরা কবে কোথায় গেছেন তা জানে না শরণার্থীদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘ কিংবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষও। এসব রোহিঙ্গা মালাক্কা প্রণালী দিয়ে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যেতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে।

লোকসুমাওয়ের রোহিঙ্গা টাস্কফোর্সের প্রধান রিদওয়ান জলিল বলেন, ‘আমরা এখনো জানি না তারা (রোহিঙ্গা) কোথায় গেছে। তবে তারা সুযোগ পেলেই পালাবে, কারণ ওটাই তাদের লক্ষ্য।’

jagonews24

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাদের দমন-পীড়নে অন্তত সাড়ে সাত লাখ মুসলিম রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেও পাচারকারীদের সাহায্য নিয়ে কেউ কেউ সাগরপথে ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়া পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।

কিছুদিন আগে লোকসুমাওয়ে শিবিরের ১৮ রোহিঙ্গা ও প্রায় এক ডজন সন্দেহভাজন পাচারকারীকে মেদান শহর থেকে কয়েকশ’ কিলোমিটার দূর থেকে গ্রেফতার করেছে ইন্দোনেশীয় পুলিশ। অবৈধপথে মালয়েশিয়া প্রবেশের অন্যতম রুট হিসেবে বিবেচিত হয় এ শহরটি।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র মিত্র সূর্যনো বলেছেন, ‘আশ্রয় শিবিরের বাইরে বিপদ ও ঝুঁকির কথা জানিয়ে শরণার্থীদের বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও তারা যাচ্ছে।’

jagonews24

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, তাদের (রোহিঙ্গা) অনেকেরই মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। তাদের যাত্রা করার অন্যতম কারণ হয়তো এটি।’

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের দেখভালের দায়িত্ব গতমাসে ইউএনএইচসিআর নেয়ার পর আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে ইন্দোনেশীয় সরকার। এর কারণেই রোহিঙ্গারা সহজে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

করোনায় মৃত্যু ২১ লাখ ৬৭ হাজার ছাড়াল

করোনায় মৃত্যু ২১ লাখ ৬৭ হাজার ছাড়াল

 

মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী ১০ কোটি আট লাখ ২৫ হাজার ১১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে মারা গেছেন ২১ লাখ ৬৭ হাজার ১৮ জন আর সুস্থ হয়েছেন সাত কোটি ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৯ জন মানুষ।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৯টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই কোটি ৬০ লাখ ১১ হাজার ২২২ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন চার লাখ ৩৫ হাজার ৪৫২ জন আর সুস্থ হয়েছেন এক কোটি ৫৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৩ জন।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন এক কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার ২৭৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৭৫১ জন আর সুস্থ হয়েছেনে এক কোটি ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৮ জন।

করোনা সংক্রমণের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। সেখানে করোনায় সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন দুই লাখ ১৮ হাজার ৯১৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৭ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৫ জন।

তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ, যুক্তরাজ্য পঞ্চম, ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম ও জার্মানি রয়েছে দশম অবস্থানে। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম। এছাড়া ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯ হাজার ২৭২ জন। এর মধ্যে চার হাজার ৬৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয় গত বছরের বছরের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। এরপর গত ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করছে ভারত

প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করছে ভারত

 

আজ ভারতের ৭২ তম প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৫০ সালে আজকের এই দিনেই সংবিধান কার্যকর হয়েছিল। তারপর থেকে প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি ধুমধাম করে পালিত হয় প্রজাতন্ত্র দিবস। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সব অনুষ্ঠানেই কিছুটা কাটছাঁট আনা হয়েছে। দিল্লিতে ছোটো করা হয়েছে কুচকাওয়াজের দৈর্ঘ্যপথ। অন্যবারের মতো এবারও বিজয় চক থেকে শুরু হয়েছে কুচকাওয়াজ। তবে লালকেল্লার পরিবর্তে কুচকাওয়াজ শেষ হয়েছে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে।

এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে অংশগ্রহণকারী জওয়ানের সংখ্যাও কমানো হয়েছে। করোনা সুরক্ষা বিধির জন্য কমেছে দর্শক সংখ্যাও। এবার দর্শক সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। ১৫ বছরের নীচে শিশু এবং প্রবীণ লোকজনকে অনুষ্ঠানে হাজির থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এবার প্রথমবার প্রজাতন্ত্র দিবসে রাফায়েল যুদ্ধবিমানের মহড়া দেখা গেছে। একটি রাফায়েল, দুটি জাগুয়ার এবং দুটি মিগ-২৯ বিমান ছিল। ৩শ মিটার উচ্চতায় এবং ঘণ্টায় ৭৮০ কিলোমিটার বেগে মহড়া চলেছে।

এবার সিলকা সমরাস্ত্র সিস্টেমের নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৪০ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্টের (সেলফ প্রপেলড) ক্যাপ্টেন প্রীতি চৌধুরী। চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একমাত্র নারী কমান্ডার তিনি।

মঙ্গলবার সকালে দিল্লির রাজপথে শুরু হয় কুচকাওয়াজ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রজাতন্ত্র দিবসের সকাল থেকেই নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়ে দিল্লি। বিভিন্ন প্রান্তে কড়া নজর রেখেছে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর। পরীক্ষা করা হচ্ছে বিভিন্ন গাড়ির নথিপত্র। প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালেই দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘দেশবাসীকে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা। জয় হিন্দ।’

jagonews24

গণতান্ত্রিক ভারত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পথ খুব একটা সহজ সরল ছিল না। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ভারতবর্ষ। কিন্তু সে সময় ভারতের নিজস্ব কোনও স্থায়ী সংবিধান না থাকায় ব্রিটিশ সরকার প্রণোদিত ১৯৩৫ সালের গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্টের সংশোধিত সংস্করণ অনুযায়ী স্বাধীন ভারত শাসিত হত।

ক্রমশই প্রয়োজন দেখা যায় ভারতের নিজস্ব সংবিধানের। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধান সভার ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন ভারতের রাজ্য সভার নির্বাচিত সদস্যের দ্বারা সংবিধান সভার সদস্যদের নির্বাচন করা হয়। ড. বি. আর আম্বেদকর, জওহরলাল নেহরু, ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ এই সংবিধান সভার সদস্য ছিলেন। স্বাধীনতার দু'সপ্তাহ পর ২৯ আগস্ট ড. বি. আর আম্বেদকরের অধ্যক্ষতায় ভারতে স্থায়ী সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশে একটি খসড়া কমিটি গড়ে তোলা হয়। ১৯৪৭ সালের ৪ নভেম্বর ড. বি. আর আম্বেদকরের নেতৃত্বকারী খসড়া কমিটি সংবিধান সভায় ভারতীয় সংবিধানের খসড়া জমা দেয়।

এরপর দু'বছরেরও অধিক সময় ধরে জনগণের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও নানান চিন্তাভাবনার পর প্রস্তাবিত সংবিধানে কিছু সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তন আনা হয়। ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর সংবিধান সভায় ভারতীয় সংবিধানের খসড়া গৃহীত হয়।

অবশেষে সভার ৩০৮ জন সদস্য ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের দুটি হস্তলিখিত কপিতে সাক্ষর করেন। এর একটি ছিল ইংরেজিতে ও অপরটি হিন্দিতে। এর ঠিক দু'দিন পর ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় সংবিধান কার্যকরী হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ভারত। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ হয়েছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি। নতুন সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, সংবিধান সভা ভারতীয় সংসদের ভূমিকা গ্রহণ করে।

২৬ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পিছনেও একটি ইতিহাস রয়েছে। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বর মাসে লাহোরে জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে কংগ্রেস অধিবেশনের ডাক দেওয়া হয়। এই অধিবেশনে একটি প্রস্তাব পেশ করে ঘোষণা করা হয় যে, ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারির মধ্যে ব্রিটিশ সরকার যদি ভারতকে ডোমিনিয়নের মর্যাদা না দেয়, তাহলে ভারতের পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা করা হবে।

ওই সময়সীমার মধ্যে ব্রিটিশ সরকার দ্বারা ডোমিনিয়নের মর্যাদা লাভ না করায় কংগ্রেস ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা লাভের ঘোষণা করে সক্রিয় আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ২৬ জানুয়ারির গুরুত্ব বজায় রাখতে, তাই ১৯৫০ সালে এ দিনই ভারতের সংবিধান গৃহীত হয় ও এই দিনটি গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

যুক্তরাজ্যে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে ৪ হাজারের বেশি রোগী

যুক্তরাজ্যে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে ৪ হাজারের বেশি রোগী

 

এদিকে, দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। শনিবার দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫২ জন এবং মারা গেছে ১ হাজার ৩৪৮ জন।

ডাউনিং স্ট্রিট থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্যাট্রিক ভ্যালেন্স বলেন, ‘মৃত্যুহার ভয়াবহ ভাবে বাড়ছে এবং এটা স্থায়ী হতে চলেছে। আমি এ বিষয়ে ভীত হয়ে পড়েছি।’

সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গুরুতর রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে একজনকে ইন্টেন্সিভ কেয়ারে সেবা দিতে হচ্ছে।

রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালের ১৫ তলা ভবনের ১২ তলাতেই কোভিড রোগী দিয়ে পূর্ণ এবং হাসপাতালের স্টাফদের রীতিমত লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

নিজের স্ত্রীকে হারানো মার্টিন ফ্রিবর্ন লোকজনকে এই ভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন না যে কি ঘটতে পারে। কেউ এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে চায় না। সবকিছু এভাবে হারাবেন না।’

গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে প্রায় প্রতিদিনই ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সে সময় ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল ১ হাজার ৩৬৪ জনকে। এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৬ জনে।

এদিকে, সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া করোনার নতুন ধরন নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, করোনার নতুন ধরনটি আগের ধরনের চেয়ে আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তবে এ বিষয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া দেশজুড়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রমও চলছে। যদিও ভ্যাকসিন কতটা কাজ করছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

করোনার পুরোনো এবং নতুন ধরনের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার গবেষণা করে নতুন নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য থেকেই জানা যাচ্ছে যে, পুরোনো ধরনের চেয়ে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যেই করোনার নতুন ধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে। ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেন, দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে এই নতুন ধরনটির কারণে মৃত্যু হারও বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। লন্ডন এবং দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে প্রথম করোনার এই নতুন ধরনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

করোনায় মানসিক সমস্যায় ভুগছেন ৪০ শতাংশ কানাডিয়ান

করোনায় মানসিক সমস্যায় ভুগছেন ৪০ শতাংশ কানাডিয়ান

 

মহামারি করোনাভাইরাসের শুরুর দিকে কানাডিয়ানদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপনের সমস্যা না হলেও ধীরে ধীরে এর নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটতে শুরু করে। বিশেষ করে ঘরবন্দি কানাডিয়ানরা কর্মহীন থাকায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

গবেষকরা বলছেন— করোনাকালীন সময়ে কানাডায় কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নাগরিক মানসিক স্বাস্থ্য, আসক্তি বা অ্যালকোহলজনিত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

ইপসসের জরিপ অনুযায়ী মহামারিকালে কর্মসংস্থান হারানো, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের ফলে কানাডিয়ানদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মহামারি শুরুর আগের তুলনায় এখন কানাডিয়ানদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপ। এতে অ্যালকোহলে ব্যয় বেড়েছে। সমীক্ষায় প্রতি পাঁচজনে দু'জন কানাডিয়ান জানিয়েছেন— করোনাকালে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য মহামারি শুরুর আগের চেয়ে খারাপ। মানসিক বিষন্নতা এড়াতে অ্যালকোহলের ব্যয় বেড়েছে।

অন্যদিকে বাচ্চাদের পড়ালেখা কেবল নয়, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য ইনপার্সন ক্লাসে (হাইস্কুল এবং ইলিমেন্টারি স্কুল) বিকল্প কিছু নেই। বাচ্চাদের জন্য ইনপার্সন ক্লাস এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে যখন আর কোনো উপায় নেই কেবল তখনি ক্লাস বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত।

কানাডার অন্যতম প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র সিক কিডস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল পুরো প্রভিন্সের বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপ করে তৈরি করা প্রতিবেদনে এই মতামত দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ প্যানেল বলেছে, ব্যাপক টেস্টিং সুবিধা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে স্কুলগুলো খুলে দেয়ার পক্ষে তারা।

স্কুল খুলে দেয়ার পর বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সংক্রমিত হওয়ার তথ্য থাকলেও সিক কিড হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন— কমিউনিটিতে যে পরিমাণ সংক্রমণ ঘটেছে, সেটি বিচেনায় নিলে স্কুলগুলোর অবস্থা খুবই ভালো ছিল।

বিশেষজ্ঞরা স্কুল বন্ধ রাখার কারণে ছেলে-মেয়েদের শরীর এবং মনে যে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে সেটি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

কানাডায় ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন করোনার থাবা শুধু অর্থনীতিই নয়, মানুষের মনের অবস্থাকেও ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে। কানাডিয়ানরা আগে কখনও এ ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়নি। তবে সাময়িক অবস্থায় ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বপ্রথম ট্রুডোকে ফোন করবেন বাইডেন

সর্বপ্রথম ট্রুডোকে ফোন করবেন বাইডেন

 

বিদেশি নেতৃবৃন্দের মধ্যে সবার আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ফোন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য দায়িত্ব গ্রহণকারী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিতর্কিত কিস্টোন পাইপলাইনের বিষয়ে কথা বলতে তিনি ট্রুডোকে ফোন করবেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি। খবর এএফপির।

হোয়াইট হাউসে সাকির প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো হবেন তার (বাইডেনের) প্রথম বৈদেশিক কল।’ তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কিস্টোন এক্সএল তেল পাইপলাইন নির্মাণে বাইডেনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তারা কথা বলবেন।

বাইডেন অফিসে দায়িত্ব নেয়ার পরপরই যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হল কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের এই বিতর্কিত পাইপলাইন নির্মাণ বন্ধের সিদ্ধান্ত। জাস্টিন ট্রুডো বাইডেনের এই পদক্ষেপকে ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এক বিবৃতিতে ট্রুডো বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমরা প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতিকে যেমন স্বাগত জানাই, তেমনি প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তেও আমরা হতাশ। যদিও নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন সেগুলো পূরণের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টিও আমাদের মাথায় আছে।’

‘দূষণ কমাতে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়, কভিড-১৯ মোকাবিলায়, মধ্যবিত্তদের জন্য চাকরি তৈরি ও টেকসই অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে আমি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে কাজ করব’, বলেন ট্রুডো।

বাইডেনের আদেশের পরে পাইপলাইন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান টিসি এনার্জি বুধবার তাদের চলমান নির্মাণকাজ বুধবার বন্ধ করে দেয়। এর ফলে কয়েক হাজার মানুষ তাদের চাকরি হারাবেন বলে জানায় তারা।

কানাডা ২০১০ সালে কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৫ এই প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে ২০১৭ তে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন।

কানাডা সবসময় এই প্রকল্পের পক্ষে সমর্থন দিলেও পরিবেশবাদী সংস্থা ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো এর তীব্র বিরোধীতা করে আসছে।

ট্রাম্পের শেষদিনে করোনায় মৃত্যু ৪ লাখ ১১ হাজার ছাড়াল

ট্রাম্পের শেষদিনে করোনায় মৃত্যু ৪ লাখ ১১ হাজার ছাড়াল


 বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্বের শেষদিনে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা চার লাখ ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাসের পর মাস এই অবস্থান ধরে রেখেছে দেশটি। এখন পর্যন্ত কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ধারে-কাছেও নেই।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৪২ লাখের বেশি। এর মধ্যে মারা চার লাখের বেশি মানুষ।

এদিকে, ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৪৮ লাখ ৯ হাজার ৮৪১। এর মধ্যে মারা গেছে ৪ লাখ ১১ হাজার ৫২০ জন। ইতোমধ্যেই দেশটিতে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৬ জন। দেশটিতে বর্তমানে করোনার অ্যাক্টিভ কেস ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৪৩৪। অপরদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে ২৮ হাজার ৪১৮ জন।

করোনা মহামারির প্রথম থেকেই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকলেও প্রশাসন কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনেক দেশই যখন শুরু থেকেই কঠোর লকডাউন এবং বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে তখন ট্রাম্প ভিন্ন পথে হেঁটেছেন। তিনি করোনাকে একেবারেই পাত্তা দেননি। এমনকি তিনি নিজে এবং তার স্ত্রী-সন্তান করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরেও এ বিষয়ে তাকে তেমনভাবে গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি।

করোনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপর্যস্ত পরিস্থিতির পুরো দায় ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের। আর এই দায় নিয়েই হোয়াইট হাউস ছাড়তে হচ্ছে তাকে। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে দেশে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যুতেও সামান্যতম বিচলিত নন এই বিদায়ী প্রেসিডেন্ট।

বুধবার দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন জো বাইডেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইতোমধ্যেই করোনা-বিধ্বস্ত মার্কিন অর্থনীতির জন্য এক দশমিক নয় ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। কংগ্রেসে এই প্রণোদনা প্যাকেজ অনুমোদন হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দ থাকছে এক ট্রিলিয়ন ডলার। যেখানে প্রত্যেক মার্কিনিকে সরাসরি দেয়া হবে এক হাজার ৪০০ ডলার করে। ত্রাণ প্যাকেজের আওতায় করোনা মোকাবিলায় খরচ করা হবে ৪১২ বিলিয়ন ডলার আর ছোট ব্যবসার থাকছে ৪৪০ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া করোনার টিকাদান কর্মসূচিকে আরও বেগবান করে তুলতে চান জো বাইডেন। সে লক্ষ্যে সিরিঞ্জসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

‘নির্বাচনী ফায়দার জন্যই বালাকোটে হামলা চালিয়েছিল মোদি সরকার’

‘নির্বাচনী ফায়দার জন্যই বালাকোটে হামলা চালিয়েছিল মোদি সরকার’

 

নির্বাচনী ফায়দার জন্যই ভারতের বিজেপি সরকার বালাকোটে বিমান চালিয়েছিল বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। প্রতিবেশী দেশটির এধরনের ‘বেপরোয়া সামরিক এজেন্ডা’ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার একাধিক টুইটে ইমরান খান দাবি করেছেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের ‘বর্ণবাদী’ সরকার নির্বাচনী ফায়দায় বালাকোট হামলাকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করেছে।

২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বালাকোট সীমান্ত পার হয়ে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালায় ভারত। এর সপ্তাহ দুয়েক আগে পুলওয়ামায় কাশ্মীরি বিদ্রোহীদের হামলায় ৪০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এ হামলায় সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে প্রতিশোধ হিসেবে বালাকোটে হামলা চালায় ভারত। যদিও, ইসলামাবাদ বরাবরই ভারতের এধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সোমবারের টুইটে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ভারতের ডানপন্থী ইন্ডিয়ান টিভির উপস্থাপক অর্ণব গোস্বামী এবং রেটিংস বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিলের (বার্ক) প্রধান পার্থ দাশগুপ্তের ফাঁস হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ আলাপের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন।

ভারতে টেলিভিশন রেটিংস দুর্নীতির বিষয়ে চলমান তদন্তে প্রমাণ হিসেবে কয়েকশ’ পাতার ওই আলাপের নথিপত্র জমা দিয়েছিল মুম্বাই পুলিশ। আলাপে স্পষ্ট বোঝা যায়, বালাকোটে হামলার আগেই এ বিষয়ে জানতেন অর্ণব গোস্বামী ও পার্থ দাশগুপ্ত।

jagonews24

‘নোংরা যোগসূত্র’
ভারতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই হোয়াটসঅ্যাপ আলাপে দেখা যায়, বালাকোটে হামলার তিনদিন আগে, অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন ভারতের গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি।

মেসেজে দেখা যায় পার্থ দাশগুপ্ত বলছেন, ‘বড় কিছু হতে চলেছে। ভালো। এই মৌসুমে এটা বড় মানুষটির পক্ষে ভালো। তিনি জরিপে এগিয়ে যাবেন।’

এরপরই বার্ক প্রধান সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, ‘স্ট্রাইক? নাকি আরও বড়?’

জবাবে অর্ণব গোস্বামী বলেন, ‘সাধারণ স্ট্রাইকের চেয়ে বড়। আর একইসঙ্গে কাশ্মীরেও বড় কিছু।’

তিনি বলেন, ‘সরকার পাকিস্তানে এমনভাবে আঘাত করতে আত্মবিশ্বাসী যে, জনগণ তাতে গর্ববোধ করবে। ঠিক শব্দটাই ব্যবহৃত হয়েছে।’

পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী এই আলাপকে ভারতের সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে ‘নোংরা যোগসূত্রের উন্মোচন’ বলে মন্তব্য করেছেন।

২০১৯ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপির বড় হাতিয়ার ছিল বালাকোটের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। সেই বছর ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়ে আরও বড় ব্যবধানে জয় পায় নরেন্দ্র মোদির দলটি।

তবে বিজেপির মুখপাত্র সৈয়দ জাফর পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বরং পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসের কারখানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিজেপি নেতা বলেছেন, ২০১৯ সালের নির্বাচনে জিততে বালাকোটে বিমান হামলাকে কখনোই ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করেনি তাদের দল।

সূত্র: আল জাজিরা

রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১

লকডাউনের মধ্যেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আবারও বিক্ষোভ শুরু

লকডাউনের মধ্যেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আবারও বিক্ষোভ শুরু

 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ শুরু করেছেন দেশটির হাজারো জনতা। দুর্নীতি ও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে বিক্ষোভ করছেন তারা। খবর আল জাজিরার।

রোববার হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে জনতা বিক্ষোভে নামেন। এগুলোতে লেখা ছিল, ‘যাও’, ‘বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম), আমাদের জনগণকে যেতে দাও।’

নেতানিয়াহুর বাসভবনের কাছাকাছি জেরুজালেম স্কয়ারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয়। ইসরায়েলে বর্তমানে তৃতীয় জাতীয় লকডাউন চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মাধ্যমে লকডাউন সেখানে আরও কঠোর করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিক্ষোভ করছেন ইসরায়েলিরা। তবে জনগণের মাঝে ভ্যাকসিন প্রয়োগে এ মুহূর্তে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে রয়েছে দেশটি।

নেতানিয়াহুর বিচার কার্যক্রম এ সপ্তাহে আবার চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে লকডাউনের কারণে তা আবার পিছিয়ে দেয়া হয়।

৭১ বছরের নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে আসছেন। শত্রুতাপূর্ণ গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারিক কর্মকর্তাদের ‘উইচ হান্ট’ এর শিকার বলে নিজেকে দাবি করেছেন তিনি। জেরুজালেম জেলা আদালতে গত বছরের ২৪ মে থেকে তার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে ইসরায়েলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বিক্ষোভ হচ্ছে।

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ৯ জানুয়ারি ২০২১

সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ৯ জানুয়ারি ২০২১

 

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে ঘটে চলেছে কতশত ঘটনা। এর মধ্যে হয়তো আলোচনায় আসে হাতেগোনা কিছু। তবে সময় ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বেশকিছু বিষয়। এগুলো জানা না থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়তে হয়। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা থেকে সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংবাদ থাকছে জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য-

অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় বিমান নিখোঁজ
অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমান নিখোঁজ হয়েছে। অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে বিমানটি শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে জাকার্তা থেকে উড্ডয়ন করেছিল। উড্ডয়নের মাত্র চার মিনিট পর বিমানটির সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে ওই বিমানে থাকা আরোহীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

‘অতীত ভুলে’ বাংলাদেশে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায় পাকিস্তান

বাংলাদেশকে অতীত, অর্থাৎ স্বাধীনতার আগে দমন-পীড়নের ইতিহাস ভুলে নতুন করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শুরুর আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটি জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য সবধরনের ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে ইসলামাবাদ, বিনিময়ে বাংলাদেশের কাছ থেকেও একই সুবিধা চায় তারা। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ দাবি জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের নতুন রাষ্ট্রদূত ইমরান আহমেদ সিদ্দিকি।

বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন না ট্রাম্প
বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার উত্তরসূরি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথগ্রহণ আনুষ্ঠানে যাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প এ তথ্য জানান। বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘জানুয়ারির ২০ তারিখের শপথগ্রহণ আনুষ্ঠানে আমি যাচ্ছি না।’

স্থায়ীভাবে বন্ধ হলো ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট
‘সহিংসতায় উসকানি দেয়ার আশঙ্কায়’ বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে টুইটার। টুইটারে ট্রাম্পের উসকানিমূলক বক্তব্যের পর শ্বেতাঙ্গ দাঙ্গাবাজরা ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায় এবং এর ফলে এক নারী ও এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে।

মহারাষ্ট্রে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১০ নবজাতকের মৃত্যু
ভারতের মহারাষ্ট্রের ভান্ডারা জেলা হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১০ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইট করে মৃত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিচ্ছে তুরস্ক
দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যিক-কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশকে পাশে পেতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। আধুনিক মুসলিম বিশ্বে ক্রমেই প্রভাবশালী হয়ে ওঠা দেশটি বরাবরই ভারতীয়দের শত্রুভাবাপন্ন পাকিস্তানকে সমর্থন-সহযোগিতা দিয়েছে। এবার বাংলাদেশকেও সেই কাতারে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টায় নেমেছে আঙ্কারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের চীন সফরে আর বাধা নেই
করোনাভাইরাসের উৎসের সন্ধান করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞ দলকে উহানে যেতে দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে চীন। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের উপমন্ত্রী জেং ইজিন শনিবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান। উপমন্ত্রী জেং ইজিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা হয়েছে এবং আমরা এখানে প্রস্তুত আছি। তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা যখন তাদের প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করবেন ও সফরের সময় নির্ধারণ করবেন, আমরাও তখন তাদের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনার জন্য উহানে যাব।’

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সবচেয়ে বড় শত্রু’ বললেন কিম
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার দেশের ‘সবচেয়ে বড় শত্রু’ এবং প্রেসিডেন্ট যে-ই হোক না কেন, পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতি পরিবর্তন হবে এমনটা তিনি আশা করেন না। কংগ্রেসে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কারস পার্টির উদ্দেশে কিম এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন আমদানি নিষিদ্ধ করল ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। শুক্রবার এক টেলিভিশন ভাষণে খামেনি বলেন, ‘যদি মার্কিনিরা ভ্যাকসিন বানাতে পারত তাহলে তাদের নিজেদের দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তারা ব্যর্থ হত না।’ করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ৪ হাজার করে মানুষ মারা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গেও লাভ জিহাদ বিরোধী আইন হবে : বিজেপির মন্ত্রী
লাভ জিহাদ নিয়ে কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছে ভারতজুড়ে। এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাও করেছে উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার। রাজ্য দুটিতে বিয়ের নামে ধর্মান্তর রোধ আইনও হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতায় এলেই ‘লাভ জিহাদ’ আইন চালু করা হবে বলে ফের হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র।

বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২১

সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ৬ জানুয়ারি ২০২১

সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ৬ জানুয়ারি ২০২১

 

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে ঘটে চলেছে কতশত ঘটনা। এর মধ্যে হয়তো আলোচনায় আসে হাতেগোনা কিছু। তবে সময় ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বেশকিছু বিষয়। এগুলো জানা না থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়তে হয়। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা থেকে সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংবাদ থাকছে জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের প্রবেশে অনুমতি দেয়নি চীন
করোনাভাইরাসের উৎপত্তি অনুসন্ধানে চীনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি বিশেষজ্ঞ দলের দেশটিতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দলটিকে এখনও দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি চীন। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রস আধানম গেব্রেয়েসুস হতাশা প্রকাশ করেন। ১০ জনের বিশেষজ্ঞ দলটির চলতি মাসের প্রথমেই চীন সফরে যাওয়ার কথা ছিল।

ব্রিটেনে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের জামিন আবেদন নাকচ
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের ‘আত্মগোপনে যাওয়ার অভিপ্রায় রয়েছে’ এমন আশঙ্কায় তার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন লন্ডনের একটি আদালত। বুধবার ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জেলা জজ ভেনেসা ব্যারাইস্টার এ রায় দেন। ফলে অ্যাসাঞ্জকে লন্ডনের উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন বেলমার্শ কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। আদালতে ব্যারাইস্টার বলেন, ‘অ্যাসাঞ্জকে যদি আজ ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে আপিল প্রক্রিয়ার সময় তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে ব্যর্থ হবেন।’

জ্যাকব ব্লেককে গুলি করেও নিস্তার পেল পুলিশ
গত বছরের আগস্টে জ্যাকব ব্লেক নামে এক কৃষ্ণাঙ্গকে গুলি করার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ওই ঘটনার শুনানিতে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। ফলে অপরাধ করেও পুলিশ কর্মকর্তারা নিস্তার পেয়ে গেলেন। ঘটনার দিন উইসকনসিনের কেনোশায় জ্যাকব ব্লেক তার গাড়িতে ওঠার মুখে পুলিশের গুলিতে আহত হন। তার পিঠে একাধিক গুলি লাগে। তিনি সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গেলেও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

প্রকাশ্যে ব্যর্থতা স্বীকার করলেন কিম
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন কোনও বিষয়ে ভুল স্বীকার করেছেন- এ ঘটনা এতটাই বিরল যে, তেমন কিছু হলে বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সেখানে প্রকাশ্যে ব্যর্থতা স্বীকার করছেন তিনি- এ দৃশ্য অনেকটা অভাবনীয়ই বটে! এবার সেটাই ঘটেছে। উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যর্থ হওয়ার কথা স্বীকার করেন কিম জং উন। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে যে অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা পূরণ হয়নি।

হংকংয়ে নিরাপত্তা আইনে অর্ধশত গণতন্ত্রপন্থী গ্রেফতার
বিতর্কিত নিরাপত্তা আইনে হংকংয়ে অর্ধশত গণতন্ত্রপন্থী ও বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। গত জুনে চীনের পার্লামেন্টে পাস হওয়া বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইনে বুধবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ট্রাম্প না মানলেও বাইডেনের জয় নিশ্চিত করছে কংগ্রেস
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের বিক্ষোভ সত্ত্বেও বুধবার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয়কে নিশ্চয়তা দিতে যাচ্ছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। কংগ্রেসের একটি যৌথ সেশনে আজ ইলেক্টোরাল ভোটগুলো গণনা করে ফলাফল নিশ্চিত করা হবে। ফলাফল বদলাতে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কিছু রিপাবলিকান। সেশনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধিতা করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। যদিও তাদের এ প্রস্তাব সফল হবে না তা প্রায় নিশ্চিত।

আলিপেসহ ৮ চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প
আলিপে ও উইচ্যাট পেসহ চীনা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত আটটি মোবাইল অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) এই সফটওয়্যার অ্যাপ দিয়ে লেনদেন নিষিদ্ধের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । আদেশে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যারা চীনা সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ ও বিকশিত করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সিনেট নির্বাচন : জর্জিয়ায় এগিয়ে ডেমোক্র্যাট
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের দুই আসনের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। ইতোমধ্যে ডেমোক্র্যাট দল জয়ের একেবারে কাছাকাছি আছে বলেই আভাস পাওয়া গেছে। ফলে বুধবার সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হাতে পেতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ডেমোক্র্যাটরা। এদিকে আজ কংগ্রেসে জো বাইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চীন
করোনাভাইরাসের উৎস সন্ধানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞ দলকে প্রবেশের অনুমতি না দেয়াকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উল্লেখ করেছে বেইজিং। তবে কবে এই অনুমতি দেয়া হবে সে ব্যাপারেও কিছু জানায়নি তারা। বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, ‘কোথাও সম্ভবত ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জনাব তেদ্রস ও ডব্লিউএইচওকে বুঝতে পারছি।’ ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণে দুই পক্ষ এখন আলোচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্রলের মুখে সরানো হলো সৌরভের বিজ্ঞাপন
অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। তার বুকে যন্ত্রণা বা অস্বস্তির ভাব এখন নেই। শিগগিরই হাসপাতাল থেকে ছুটি মিলতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েও ট্রলের শিকার হয়েছেন কলকাতার ‘দাদা’ সৌরভ গাঙ্গুলি। সৌরভ ট্রলের শিকার হয়েছেন মূলত একটি বিজ্ঞাপন নিয়ে। অসুস্থতা আজব বিড়ম্বনায় ফেলেছে বিখ্যাত রাইস ব্র্যান তেলের সংস্থা ফরচুনকে। টিভি এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে সেই তেলের বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিয়েছে ফরচুন।

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২১

কাতার বিরোধের অবসান, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংহতি চুক্তি সই

কাতার বিরোধের অবসান, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংহতি চুক্তি সই

 

কাতারের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন বছরের বিরোধ মিটিয়ে অবশেষে ‘সংহতি ও স্থিতিশীলতা’ চুক্তিতে সই করেছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো। মঙ্গলবার সৌদি আরবের আল-উলা শহরে অনুষ্ঠিত ৪১তম জিসিসি সম্মেলনে এ চুক্তিতে সই করেছেন জোটের ছয় সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা। এর ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের ভূরাজনৈতিক সংকটের অবসান হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, এসব প্রচেষ্টা আমাদের আল-উলা চুক্তিতে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে, যেখানে আমরা উপসাগরীয়, আরব্য এবং ইসলামী সংহতি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি নিশ্চিত করছি।

এসময় চুক্তিতে মধ্যস্থতার জন্য কুয়েত এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান সৌদি যুবরাজ।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের উন্নতি এবং চারপাশের চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে ইরান সরকারের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং নাশকতার পরিকল্পনা মোকাবিলায় সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার নিদারুণ প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

এবারের জিসিসি সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো আল-উলা ঘোষণার দু’টি নথিতে সই করেছেন। তবে এর বিষয়বস্তুগুলো এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

jagonews24

সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও ইরান-ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে ২০১৭ সালের জুনে কাতারের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর। বন্ধ করে দেওয়া হয় সব ধরনের যোগাযোগ। যদিও, তাদের এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে কাতার।


অবরোধের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর গত সোমবার কাতার অবরোধ তুলে নেয় সৌদি আরব। তবে ঘোষণাটি এসেছে মধ্যস্থতাকারী কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ নাসের আল-সাবাহর মুখ থেকে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে আল-সাবাহ বলেন, কুয়েতের আমির শেখ নওয়াফের প্রস্তাবে সম্মত হয়ে সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যবর্তী আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র সীমান্তগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হচ্ছে।

তার এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই জিসিসি সম্মেলনে যোগ দিতে সৌদি আরব পৌঁছান কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল-থানি। বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান যুবরাজ সালমান।

এর কিছুক্ষণ আগেই জানা যায়, সৌদি আরবের মতো কাতারের ওপর অবরোধ তুলে নিচ্ছে মিসরও। তবে সীমান্ত খোলার আগে বেশ কিছু দাবি-দাওয়া পূরণ করতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে দেশটি।

সূত্র: আল জাজিরা

সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়েছে মহামারি

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়েছে মহামারি

 

করোনা মহামারির এক বছর হয়ে এলো। এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীর ভিন্ন রূপ দেখেছে মানুষ। পর্যটনকেন্দ্রগুলো ছিল জনমানব শূণ্য, দোকান-পাট, শপিংমলে ছিল না মানুষের কোলাহল, মাসের পর মাস বিমান চলাচল বন্ধ থেকেছে। এমন ঘটনার সঙ্গে মানুষ একেবারেই অভ্যস্ত ছিল না। কিন্তু মহামারি আতঙ্কে সেটাই যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল।

বার্ক্লেকার্ড পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যয় পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তাদের হিসেবে মহামারির বছরে মানুষের ব্যয় ৭.১ শতাংশ কমেছে। তবে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে ব্যয় ৪.১ শতাংশ বেড়েছে। এ বছর বেশিরভাগ মানুষ বাসায় বসে কেনাকাটা করায় অনলাইন ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়েছে।

অ্যাল্ডারমোর ব্যাংকের আরেকটি জরিপ অনুসারে, বাসায় বসে কাজ করার কারণে ব্রিটেনের একজন মানুষের সপ্তাহে গড়ে ১১০ পাউন্ড কম ব্যয় হয়েছে। এই মহামারির কারণে ২০২০ সালে প্রায় পুরো বছরই বিনোদনকেন্দ্র এবং শপিংমলগুলো বন্ধ ছিল। ফলে মানুষের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় অনেক কমেছে।

বার্ক্লেকার্ডের ভোগ্য পণ্য বিষয়ক প্রধান রাহেল আহমেদ বলেন, ২০২০ সালে অনলাইন ব্যবসা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ বেশিরভাগ মানুষ বাড়িতে বসে কাজ করেছে, বাড়িতে বসেই কেনাকাটা করেছে। অনেক কাজ বাড়িতে বসে করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে মানুষ। যেমন অনেকেই জিমে যাওয়ার বদলে এখন বাড়িতেই বিভিন্ন অ্যাপ ও ভিডিও ইন্সট্রাকশন দেখে ব্যায়াম করছেন। মহামারির ঝুঁকি কেটে গেলেও এই অভ্যস্ততা থেকে যাবে।

অনলাইনে মুদি পণ্যের বিক্রি এ বছর বেড়েছে ৭০.৩ শতাংশ। অনেকেই দিনের কাঁচাবাজারের কেনাকাটাও অনলাইনে সেরে ফেলছেন। করোনা মহামারি কেটে গেলেও এই অভ্যাস মানুষের মধ্যে থেকে যাবে।

এ বছর জ্বালানী ব্যয় কমেছে ২০.৩ শতাংশ অর্থাৎ অন্য সময়ের তুলনায় এক্ষেত্রে এক পঞ্চমাংশেরও কম খরচ হয়েছে। কারণ মানুষ যানবাহনে কম চড়েছে আর পেট্রোলের দামও কম ছিল। অপরদিকে পোশাকের ব্যয় কমেছে ১৫.৬ শতাংশ। বেশিরভাগ মানুষ বাড়িতে বসে কাজ করেছেন, নতুন পোশাক পরে যাওয়ার মতো অনুষ্ঠানও তেমন হয়নি।

তবে বার্কলেকার্ডের রেকর্ড বলছে, এ বছর গোশত, বেকারি জাতীয় খাবার ও পানীয়ের ক্ষেত্রে মানুষ ২৮.৬ শতাংশ বেশি খরচ করেছে। সৌখিনপণ্য ও উপহার-সামগ্রী বিক্রয়ের দোকানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে মানুষের ব্যয় কমেছে ১৭.২ শতাংশ। পোশাক বিক্রি ১৫.৬ শতাংশ কমে যাওয়ায় পোশাক ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অ্যাল্ডারমোর ব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী, করোনা মহামারির কারণে ব্রিটেনের একজন অধিবাসীর প্রতি সপ্তাহে যানবাহনে খরচ কমেছে ২৯ পাউন্ড, প্রাতরাশ ও মধ্যাহ্নভোজনে খরচ কমেছে ২০ পাউন্ড, সহকর্মীদের উপহার দেয়া-খাওয়ানো ইত্যাদি বাবদ খরচ কমেছে ২২ পাউন্ড। এছাড়া কফি শপে না যাওয়ায় ১৮ পাউন্ড এবং সপ্তাহ শেষে ঘুরতে বের না হওয়ায় ২২ পাউন্ড কম খরচ হয়েছে।

মূল্য যাচাইয়ের ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মানিসুপারমার্কেট ডটকমের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২০ সালে ব্রিটেনের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতি মাসে গড়ে ৫৮৬ পাউন্ড সাশ্রয় করেছে যার পরিমাণ এক বছরে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৩২ পাউন্ড।

অ্যাল্ডারমোরের সঞ্চয়ী হিসাব বিভাগের পরিচালক ইয়ান এডওয়ার্ডস বলেন, মহামারি কেটে গেলেও এই সাশ্রয়ের অভ্যাস হয়তো মানুষের মধ্যে থেকে যাবে। ২০২০ সালে অনেকেই প্রচণ্ড অর্থকষ্টে ভুগেছেন। অনেকের চাকরি চলে গেছে, অনেকের বেতন কমে গেছে। নিজের ও পরিবারের মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণ করতেই হিমশিম খেয়েছেন অনেক মানুষ। ফলে আয় বাড়ানোর চিন্তাও মানুষের মধ্যে বেড়েছে।

রবিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২১

বাইডেনের জয় ঠেকাতে রিপাবলিকানদের শেষ চেষ্টা

বাইডেনের জয় ঠেকাতে রিপাবলিকানদের শেষ চেষ্টা

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় ঠেকাতে সব উদ্যোগ বিফলে যাওয়ার পর সর্বশেষ চেষ্টা শুরু করেছেন রিপাবলিকান দলের নেতারা। নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির তদন্ত না হলে জো বাইডেনের জয়ের পক্ষে ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন একদল রিপাবলিকান সিনেটর। বর্ষীয়ান রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজের নেতৃত্বে ১১ জন সিনেটর ও নবনির্বাচিত সিনেটর অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য ১০ দিন দেরির দাবি জানিয়েছেন।

তাদের এই পদক্ষেপ সফল হবে না বলেই ধরা হচ্ছে কারণ অধিকাংশ সিনেটর আগামী ৬ জানুয়ারির ভোটে বাইডেনকে সমর্থন দেবেন। এদিন ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটগুলো অফিসিয়াল ভাবে গণনা করা হবে এবং গণনার ফলাফল মেনে নেয়ার পক্ষে-বিপক্ষে সিনেটররা ভোট দেবেন।

টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজের নেতৃত্বে এক বিবৃতিতে ১১ সিনেটরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি, নির্বাচন আইন লঙ্ঘন ও ভোটদানের অন্যান্য অনিয়মের নজিরবিহীন অভিযোগ এসেছে।

১৮৭৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনটি অঙ্গরাজ্যেই উভয় দল জয় দাবি করলে তদন্তের জন্য একটি দ্বিদলীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই উদাহরণ টেনে তারা কংগ্রেসকে একটি কমিশন নিয়োগের দাবি জানান যেন বিতর্কিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে ১০ দিনের জরুরি অডিট পরিচালনা করা হয়।

তারা আরও বলেন, ‘অডিট শেষে প্রতিটি অঙ্গরাজ্য কমিশনের ফলাফলগুলি মূল্যায়ন করবে এবং তাদের ভোটের পরিবর্তনের সত্যতা প্রমাণের জন্য একটি বিশেষ আইনসভার অধিবেশন ডাকবে।’

তবে তাদের সফলতার সম্ভাবনা কম স্বীকার করেন সিনেটররা বলেন, ‘আমরা বোকা নই। আমাদের ধারণা প্রায় সকল ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান এর বিপক্ষে ভোট দেবেন।’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ভোটের ফলাফল মেনে নেননি। তিনি বারবার অভিযোগ করেছেন নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল বদলানোর যেসব আইনি পরক্ষেপ তিনি নিয়েছিলেন সেগুলোও আদালতে ব্যাপকভাবে খারিজ হয়ে যায়। এসব লড়াইয়ে শুধুমাত্র পেনসিলভেনিয়ায় কিছু ডাকযোগের ব্যালটে তিনি জয় পান। এই অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে বাইডেন জয় লাভ করেন।

ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স অবশ্য ভোট জালিয়াতি সংক্রান্ত ট্রাম্পের দাবির পক্ষে কথা বলা বন্ধ করেছেন। যদিও শনিবার তার প্রধান কর্মকর্তা মার্ক শর্ট বলেছেন, ৬ জানুয়ারি আইনপ্রণেতাদের আপত্তি তোলার সর্বশেষ পদক্ষেপকে পেন্স স্বাগত জানিয়েছেন।

ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে বাইডেন ট্রাম্প থেকে ৩০৬-২৩২ ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্রিয়া অনুযায়ী এই ফলাফলে কংগ্রেসের সম্মতি আসতে হবে। এর সর্বশেষ ধাপে সিনেটের প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জো বাইডেনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করবেন। এরপর বাইডেন ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন।