বিশ্বজুড়ে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিশ্বজুড়ে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

গোপালপুরে আ.লীগ-বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১

গোপালপুরে আ.লীগ-বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১

 

টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। নিহত মো. খলিল (৩৫) বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হওয়া ব্যক্তি উপজেলার ডুবাইল আটাপাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী রকিবুল হক ছানার নির্বাচনী প্রচারণায় জেলা আওয়ামী লীগের একটি দল সন্ধ্যার দিকে গোপালপুর পৌঁছান। তারা থানার মোড়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন ও তার সমর্থকরা ওই এলাকায় আসেন। এ সময় আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের সাথে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের সমর্থকরা ওই এলাকায় নৌকা প্রতীকের একটি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে। পরে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা গিয়াস উদ্দিনের বাসায় হামলা করে। তারা গিয়াস উদ্দিনের ভাইয়ের দোকানও ভাঙচুর করে। গিয়াস উদ্দিনের গ্রাম ডুবাইল এলাকায় হামলার এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। তার সমর্থকরা মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের দিকে রওনা হয়।

পথে সোমেশপুর এলাকায় তাদের উপর নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা হামলা চালায়। এ সময় খলিল নামের ওই যুবক মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, ‘নিহতের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। এ ঘটনায় রাত সোয়া নয়টা পর্যন্ত মামলা হয়নি।

শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

পাথরঘাটায় এক কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

পাথরঘাটায় এক কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

 

বরগুনার পাথরঘাটায় এক কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ বাবুল হাওলাদার (২০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। তিনি উপজেলার কাটাখালি এলাকার সগীর হাওলাদারের ছেলে।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১ টার দিকে বিষখালীর কাটাখালি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাথরঘাটা উপজেলার বিষখালী নদীর কাটাখালি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কোস্টগার্ডের একটি টিম। এসময় বাবুল হাওলাদারকে আটক কর হয়। পরে তার শরীর তল্লাশি করে এক কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা ও সাড়ে তিন হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

কোস্টগার্ডের পাথরঘাটার স্টেশন কমান্ডার লে. ফাহিম শাহরিয়ার জানান, মাদকসহ বাবুলকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মাদক কারবারিতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

সুনামগঞ্জে ছবি তোলায় সাংবাদিককে গাছে বেঁধে মারধর

সুনামগঞ্জে ছবি তোলায় সাংবাদিককে গাছে বেঁধে মারধর

 

ছবি তোলায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে স্থানীয় এক সাংবাদিককে বেদম মারধর করা হয়েছে। মারধরের পর তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা নিজের ফেসবুক আইডিতে এই ভিডিও ছেড়ে দিয়ে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে পাড় কেটে বালু-পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল। সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক শুভ প্রতিদিনের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন পাড় কেটে বালু-পাথর উত্তোলনের ছবি তুলতে যান। ছবি তুলতে দেখে পাথর কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা তাকে মারধর করেন এবং ঘাগটিয়া চকবাজারে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

ভাইরাল ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের পর সাংবাদিক কামাল হোসেনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। তার মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন। চারপাশ ঘিরে রেখেছে মানুষ। একপর্যায়ে তার বাঁধন খুলে দেয়া হয়। তবে হামলাকারীদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা জাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে পাড় কেটে বালু-পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তাদের অভিযোগ, চক্রটির কারণে জাদুকাটা নদী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়ারুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘জনসম্মুখে সাংবাদিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসি।’

হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা জাগো নিউজকে বলেন, ‘এক সাংবাদিক জাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে পাড় কেটে বালু-পাথর উত্তোলন করার ছবি তুলতে যান। তাকে ছবি তুলতে দেখে প্রকাশ্যে পাথরখেকোরা গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। আমি জোর দাবি জানাই, এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’

তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শনিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২১

দুধের শিশুকে গলা কেটে হত্যা করলো মা

দুধের শিশুকে গলা কেটে হত্যা করলো মা

 

ভোলায় তাইয়েবা ইসলাম মাওয়া নামে দেড় বছরের এক শিশুকে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যার কাজে ব্যবহৃত দাসহ ঘাতক মা তানিয়াকে (২৮) আটক করেছে।

নিহত শিশু ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চেওয়া খালী গ্রামের মো. সবুজ সাজির মেয়ে।

রোববার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে ওই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালের দিকে তানিয়ার স্বামী সবুজ প্রতিদিনের মত রাজমিস্ত্রীর কাজ করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। পরে তানিয়া তার দেড় বছরের শিশু তাইয়েবা ইসলাম মাওয়াকে বুকের দুধ খাওয়ান। এরপর দা দিয়ে গলা কেটে শিশুটিকে হত্যা করেন।

পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে গলা কাটা রক্তাত শিশুটির লাশ ও লাশের পাশে তানিয়াকে দা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনায়েত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, খবর পেয়ে তানিয়াকে আটক করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। হত্যার কাজের ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়। তবে হত্যার মূল রহস্য উদ্ধারের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তিনি আরো জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এছাড়াও এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২১

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বরগুনায় দেয়া হবে করোনা ভ্যাকসিন

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বরগুনায় দেয়া হবে করোনা ভ্যাকসিন

 

বরগুনায় প্রথম ধাপে ২৪ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পেল। টিকা প্রথমে উপজেলায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।

শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ফ্রিজার ভ্যানে করে ভ্যাকসিন বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আসলে সিভিল সার্জন ড. মারিয়া হাসান তা গ্রহন করেন।

Barguna-(2).jpg

এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- বরগুনা ১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গির মল্লিকসহ অন্যান্যরা।

পরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি কক্ষে ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভ্যাকসিন রাখা হয়।

সিভিল সার্জন ড. মারিয়া হাসান, বরগুনায় প্রথম ধাপে ২৪ হাজার ডোজ করোনা টিকা পেয়েছি। এই টিকা দেয়া হবে ১২ হাজার মানুষকে।

একটি হারোনো বিজ্ঞপ্তি

একটি হারোনো বিজ্ঞপ্তি

 

একটি হারোনো বিজ্ঞপ্তি
নাম মো; রিফাত মন্ডল
বয়স ; ১২থেকে ১৪
গ্রাম " কাবিলপুর খিয়ারপাড়া
থানা "পীরগন্জ
জেলা" রং পুর
আমার ছোট ভাই আগামী কাল ১০ টায় হারিয়ে গেছে। যদি কোনো হৃদয়বান লোক খোজ পেয়ে থাকেন piz যোগাযোগ করুন
01701538500
01305132348








বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১

বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা বহিষ্কার

বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা বহিষ্কার

 

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা মিঠুকে দলীয় সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

jagonews24

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠিতব্য কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে উপজেলা তাঁতী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম হানিফ সরদারকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা মিঠু বিদ্রোহী প্রার্থী হন। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে দলীয় সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান শাহিন বলেন, পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মিঠু নিজে প্রার্থী হয়েছে। সে গঠনতন্ত্রবিরোধী কাজ করেছে। তাই তাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। 

উল্লেখ্য, আগামী ১৪ জানুয়ারি কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে এবার মোট ভোটার ৩৩ হাজার ১২২ জন। পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৭৬১জন ও  নারী ভোটার ১৬ হাজার ৩৬১ জন।

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

১৬ বছরেও এগুলো না সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যার বিচার

১৬ বছরেও এগুলো না সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যার বিচার

 

আজ ভয়াল ২৭ জানুয়ারি। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার ১৬ বছর। দফায় দফায় তদন্তের বেড়াজালে আটকে থাকা ভয়ানক এ হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও আলোর মুখ দেখেনি। সাক্ষী না আসা, আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় ঠিকমতো আদালতে হাজির না হতে পারাসহ বিভিন্ন জটিলতায় বিচার কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রিতায় পড়েছে।

এ অবস্থায় বিচার নিয়ে হতাশা কাটছে না নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মনে। রায়ে গড়াতে কতদিন লাগতে পারে তাও অনিশ্চিত।

এদিকে তদন্ত সঠিক হয়নি দাবি করছেন শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া।

তিনি বলেন, আমার বাবা দেশে বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দেশের জন্য কাজ করেছেন। অর্থমন্ত্রী হয়েছেন। সংসদ সদস্য হয়েছেন। এমপি থাকা অবস্থায় গ্রেনেড হামলায় তিনি মারা যান। ১২ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। কিন্তু এখনও আমরা সুষ্ঠু বিচারের কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছিল। উক্ত মামলায় ৩টি চার্জশিট দেয়া হয়েছে। অথচ একটির সঙ্গে অপরটির কোনো সম্পর্ক নেই। ৩টি চার্জশিটের প্রত্যেকটি আমরা বার বার প্রত্যাখ্যান করেছি এবং করে যাব। যতদিন একটি সুষ্ঠু তদন্ত না হয়, ততদিন সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

মামলার আইনজীবী সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর সরওয়ার আহমেদ আবদাল জানান, হত্যা মামলায় ১৭১ জন সাক্ষীর মাঝে ১২৮ জনই এখনও সাক্ষী দিতে বাকি রয়েছেন। তাদের উপর সমনও জারি করা হয়েছে। আশা করা যায় তারা আসবেন।

তবে মামলার রায় কবে হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। কারণ মামলার সাক্ষীর সংখ্যা অনেক বেশি। সাক্ষ্য নেয়ার পর যুক্তিতর্কে যাবে। তাই এখনও বলা যাবে না কবে রায় হবে।

মামলার বাদী বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান জানান, কখনো সাক্ষী না আসা, আবার কখনো গুরুত্বপূর্ণ আসামির বিভিন্ন মামলার আসামি থাকায় ঠিকমতো আদালতে হাজির করা সম্ভব হয় না। এমন জটিলতায় মামলাটির সুরাহা হচ্ছে না।

তবে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার একদিন সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। সভা শেষে ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় তিনি ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ মোট ৫ জন নিহত হন।

এতে আহত হন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরসহ ৪৩ জন। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। দফায় দফায় তদন্তের বেড়াজালে আটকে থাকা রোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়েছে প্রায় ৫ বছর আগে। কিন্তু নানান কারণে বিচারকার্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে।

হায়রে এনজিও, এক বছরের শিশুকেও করাল হাজতবাস

হায়রে এনজিও, এক বছরের শিশুকেও করাল হাজতবাস

 

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সালাম তার স্ত্রী নিলুফা খাতুনের নামে বেসরকারি ঋণ দান সংস্থা ‘বীজ’ এনজিও থেকে গতবছর এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন সময়ে কাজ না পেয়ে আব্দুস সালামের সংসারে অভাব অনটন দেখা দেয়। এ কারণে কিস্তির টাকা বকেয়া পড়ে যায় এনজিওর কাছে।

সরকারের তরফ থেকে করোনাকালীন সময়ে কিস্তির টাকা আদায়ে বিরত থাকার জন্য এনজিওগুলোকে নির্দেশ দিলেও সরকারের সেই নির্দেশনা মোটেও আমলে নেয়নি এনজিও বীজ। ঋণ খেলাপি দেখিয়ে আব্দুস সালামের স্ত্রীর নামে মামলা দায়ের করে এনজিওটি।

ওই মামলায় আদালত আব্দুস সালামের স্ত্রীর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। রোববার রাতে দুর্গাপুর থানার পুলিশ আব্দুস সালামের স্ত্রীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। সঙ্গে যেতে হয় এক বছর বয়সী শিশুটিকেও।

মাত্র এক বছর বয়সে অবুঝ শিশুটিকে হাজতে যেতে হবে তা হয়ত কখনোই ভাবেননি শিশুটির মা-বাবা। এনিয়ে সোমবার দিনভর দুর্গাপুর সদরে চলে নানা আলোচনা সমালোচনা। এনজিওর মানবিকতা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝেও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত নিলুফা বেগমের স্বামী আব্দুস সালাম জানান, সাংসারিক নানা দায়দেনার কারণে প্রায় দুই বছর আগে দুর্গাপুর উপজেলা থেকে পরিচালিত ‘বীজ’ নামক এনজিও থেকে নিলুফা বেগমের নামে মাসিক কিস্তিতে একলাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণ নেয়ার পর থেকে নিয়মিতভাবে এনজিওর মাস্টারের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা মাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে থাকেন।

একদিকে ঋণের বোঝা আরেক দিকে সংসারের ঘানি। সবই অর্থ ছাড়া অনর্থ। এনজিওর কিস্তির টাকার জোগাড় করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম ও মানসিক টেনশনের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপতালে ভর্তিও হতে হয় সালামকে। হাসপাতালে প্রায় দেড়মাস চিকিৎসাধীন থাকেন আব্দুস সালাম।

জমানো কিছু টাকা, প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়েও চিকিৎসার টাকা জোগাড় হয়নি। আবারও কয়েকজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয় তাকে। পরে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি।

কিন্তু বাড়িতে ফেরা মাত্রই এনজিওর কর্মী ও ম্যানেজার মহিরুল ইসলাম এসে কিস্তির টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। সেইসঙ্গে হুমকি দেন দ্রুত টাকা পরিশোধ না করলে মামলা করে জেলের ভাত খাওয়াবে।

এনজিওর কিস্তি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন আব্দুস সালাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ‘বীজ’ এনজিওর দুর্গাপুর শাখার ব্যবস্থাপক মহিরুল ইসলাম আব্দুস সালামের স্ত্রী নিলুফার বেগমের জমা রাখা জনতা ব্যাংকের চেক ডিজনার করে নিলুফা বেগমকে আসামী করে রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল আদালতে মামলা করেন।

এ বিষয়ে ‘বীজ’ এনজিওর দুর্গাপুর শাখার ব্যবস্থাপক মহিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, যা করা হয়েছে এনজিওর মালিক ও দেশের আইনের নির্দেশনা অনুযায়ী করা হয়েছে। এর বেশি কিছু বলার নেই।

এ বিষয়ে দূর্গাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাশমত আলী বলেন, আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা আসায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে আসামির এক বছরের দুধের শিশু থাকায় পুলিশ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গ্রেফতারের পর শিশুকন্যাসহ আসামি নিলুফা বেগমকে রাতে থানা হাজতে না রেখে অফিসারদের ডিউটি কক্ষে। পরে সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

আবাদি জমিতে পুকুর কেটে মাটি ইটভাটায় বিক্রি

আবাদি জমিতে পুকুর কেটে মাটি ইটভাটায় বিক্রি

 

‘জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না’- এমন সরকারি নির্দেশ থাকলেও বগুড়ার ধুনটে তিন ফসলি জমিকে পরিণত করা হচ্ছে গভীর পুকুরে। এতে করে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় তিন ফসলি জমিতে মেশিন দিয়ে ৮-১০ ফুট গভীর করে জমির চারদিকে বাধ দিয়ে পুকুর খননের মহোৎসব চলছে। দিনরাত বিরতিহীনভাবে পুকুর খনন করে সে মাটি আবার বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী পুকুর ব্যবসায়ীর।

শ্রেণিভেদে উপজেলার প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোনো না কোনো ধরনের ফসল হয়। কিন্তু কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত ধানের যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে ৫-১০ বছর মেয়াদের চুক্তি করছে কৃষকরা।

চুক্তির আওতায় তাদের ফসলি জমি পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। জমির এই মাটি প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) ৭০০ টাকায় বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রয় করছে পুকুর ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন বেলকুচি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জেকেবি ব্রিকস নামে ইটভাটার মালিক জুয়েল সরকার তিন ফসলি জমি থেকে গর্ত করে মাটি কেটে নিচ্ছেন। ফলে চারপাশের ফসলি জমি চাষাবাদে হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় আছেন ভূমি মালিকরা।

ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধের জন্য গ্রামবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রায় এক মাস আগে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জেকেবি ব্রিকস নামে ইটভাটার মালিক জুয়েল সরকার জানান, জমি থেকে যেভাবে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে তাতে চাষাবাদের কোনো ক্ষতি হবে না। তারপরও গ্রামের কতিপয় ব্যক্তি মিথ্যা অভিযোগ করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক বলেন, ‘জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না’- ভূমি মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করে এক্সকেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি পুকুর খনন থেকে বিরত থাকার জন্য’।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, বেলকুচি গ্রামে আবাদি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কর্তনের অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মনিরুল রহিমার মতো ১৫৫৬ গৃহহীনের স্বপ্ন পূরণ করলেন শেখ হাসিনা

মনিরুল রহিমার মতো ১৫৫৬ গৃহহীনের স্বপ্ন পূরণ করলেন শেখ হাসিনা

 

জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মনিরুল ইসলাম (৪৮)। এক চোখে মাত্র কয়েক হাত দূর পর্যন্ত আবছা ছায়ার মতো দেখতে পান। অসচ্ছল পরিবারে জন্ম নেয়ায় শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মনিরুল। পরিবারের সদস্যদের দু’মুঠো খাবার জোগাড়ে যখন যে কাজ পেয়েছেন, করেছেন। মনিরুল ইসলামের স্ত্রী জাহানারা খানমও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

এই দম্পতির দুই ছেলে। বড় ছেলে জাহিদুল ইসলামও জন্মান্ধ। সংসারে নিত্যঅভাব, তারপরও বহু কষ্টে সংসারের হালধরে রেখেছেন।

মনিরুল ইসলাম তার পরিবার নিয়ে থাকতেন বরিশালের সদর উপজেলার উত্তর লামছড়ি গ্রামের পৈত্রিক ভিটায়। জরাজীর্ণ টিনের দোচালা একটি ঘরে ছিল তাদের বসবাস। সামান্য বৃষ্টি হলে চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ত। সন্তানদের নিয়ে সারারাত জেগে থাকতেন। টাকার অভাবে ঘর মেরামত করার সামর্থ্য ছিল না।

মনিরুল ইসলাম স্বপ্ন দেখতেন লেখাপড়া করে দুই ছেলে ভালো চাকরি করবে। তাকে কাজ করতে হবে না। সংসারে থাকবে না অভাব- অনটন। আর জরাজীর্ণ ঘরটির জায়গায় নির্মাণ হবে পাকা দালান। কিন্তু হঠাৎ করে সব এলোমেলো হয়ে গেল। গতবছর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মনিরুল ইসলামের বসতভিটা ও ৩০ শতাংশ ফসলি জমি কীর্তনখোলা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে অন্ধকার জীবনে বাড়তে থাকে আঁধারের গাঢ়তা।

পরিবারের সদস্যদের দু’মুঠো খাবার জোগাড়ে যেখানে তাকে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে জমি কিনে ঘর বানানো তার কাছে অসাধ্য ব্যাপার। বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর তার স্ত্রী দুই ছেলেকে নিয়ে আশ্রয় নেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। আত্মীয়ের বাড়িতে বেশিদিন থাকার উপায় নেই। কারণ আত্মীয়-স্বজনদের অবস্থা অনেকটাই তাদের মতো। তাদের সংসারেও অভাব-অনটন। তাই কিছুদিন পরপর এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

মনিরুল ইসলামের আশ্রয় হয় জাতীয় অন্ধ সংস্থার বরিশাল জেলা শাখার কার্যালয়ে। রাতে কাজ শেষ করে সবাই চলে গেলে ওই অফিসের মেঝেতে ঘুমানোর সুযোগ হয় তার।

barisal2

এভাবে বসবাসই যখন তার পরিবারের নিয়তি ভাবা শুরু করলেন, তখন উপজেলা প্রশাসন সহায়তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এল। মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জমিসহ টিনের ছাউনি দেয়া পাকা ঘর পেয়েছেন তিনি। ঘর পেয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছে মনিরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘর না থাকায় গত একবছর স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। এখন আর আলাদা থাকা লাগবে না। থাকার জায়গা নিয়ে আর কোনো চিন্তা নেই। এ আনন্দের কথা আমি কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। আজকের দিনটি আমার জন্য স্মরণীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে ঘর পেয়েছি। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা আর শ্রদ্ধা জানানোর ভাষা নেই।’

মনিরুল ইসলামের মতো ঘর পেয়েছেন সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকার রহিমা বেগম (৫০)। তার জীবন সংগ্রামের গল্প আরও করুণ। বাবার সংসারে অভাব-অনটনের কারণে কিশোরী বয়সে তার বিয়ে দেয়া হয়। স্বামী ইউনুস গাজীর এক সময় চরবাড়িয়া এলাকায় ভিটেবাড়ি ও ফসলি জমি ছিল। নিজের জমিতে চাষাবাদ ও ছোটখাটো ব্যবসা করে তাদের সংসার ভালোই চলছিল।

চার মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল তাদের। এভাবেই কেটে যায় প্রায় দুই যুগ। এরই মধ্যে অনুষ্ঠান করে চার মেয়েকে বিয়ে দেন।

বছর দশেক আগে তাদের সংসারে শনি ভর করে। স্বামী ইউনুস গাজী ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তার চিকিৎসার খরচ চালাতে কৃষিজমি বিক্রি করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে চিকিৎসা। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে রহিমা বেগম তার গয়না এবং জমানো সব টাকা খরচ করে ফেলেন। সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। এরপর অভাব-অনটন বেড়েছে ক্রমশ। সংসার চালানোর দায়িত্ব এসে পরে তার কাঁধে। মানুষের বড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। মানুষের বাড়িতে কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়ে দুই বেলা দুমুঠো খাবার জুটতো না তদের। মায়ের কষ্ট দেখে দুই ছেলে দিন মজুরিতে কাজে নেমে পড়েন।

এসবের মধ্যেই তাদের বসতবাড়িটি নদীভাঙনের কবলে পড়ে। কয়েক বছরের মধ্যে রাক্ষুসে নদী বসতবাড়িসহ আশপাশের জমি গিলে ফেলে। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবারটি। একমাত্র বসতঘরটি হারিয়ে সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়ির বাগানে টিন দিয়ে ঘর তুলে বসবাস করছিলেন। জমির মালিকের বাড়ি দেখাশোনা ছাড়াও প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে দিতে হতো রহিমা বেগমকে। এর পরের ঘটনা অনেক করুণ।

প্রায় দুই মাস আগে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয় রহিমা বেগমের পরিবারকে। গত ১৯ নভেম্বর তাদের থাকার ঘরটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অল্পের জন্য রহিমা বেগম ও তার স্বামী ইউনুস গাজী রক্ষা পেলেও মেয়ের ঘরের নাতি রেজাউল (৮) আগুনে পুড়ে মারা যায়। ঘরে যেটুকু মালামাল ছিল সবই পুড়ে যায় ওই আগুনে। অগ্নিকাণ্ডের পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা সাহায্য করা হয়েছিল। পাশাপাশি একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। অবশেষে একটি পাকাঘর পেয়েছেন রহিমা বেগম।

barisal2

রহিমা বেগম বলেন, ‘অনেক কষ্টে ছিলাম আমরা। খোলা আকাশের নিচে পলিথিন টানিয়ে অনেক দিন পার করতে হয়েছে। একটি পাকাঘর পেয়ে আমার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই খুশি। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর উপহার দিয়েছেন। স্বপ্নেও ভাবিনি ঘর পাব। তার জন্য অনেক দোয়া করি। আল্লাহ তারে সুখে রাখুক।’

দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত বিধবা রঞ্চিতা বেপরীর (৫৫) জীবন সংগ্রামের কাহিনিও প্রায় অভিন্ন। সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকায় বসবাসকারী রঞ্চিতা বেপরী স্বামীকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে। সংসারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর পর দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। উলট-পালট করে দেয় সব হিসাব-নিকাশ। স্বামী চিত্ত রঞ্জন বেপারী মারা যাওয়ায় কিছুটা ভেঙে পড়েন। এরপর শুরু হয় সন্তানদের নিয়ে বেচে থাকার লড়াই। কখনো হোগল পাতা দিয়ে পাটি তৈরি, কখনো মাছ ধরে, কখনো গৃহকর্মীর কাজ করে কোনোমতে তার সংসার চলে।

তাদের সম্পদ বলতে ছিল নদীর কূল ঘেঁষে ৩ শতাংশ জমি ওপর বসতবাড়িটি। রঞ্চিতা বেপরীর বসতভিটার কোনো চিহ্নই নেই এখন। কয়েক বছর আগে ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরপর নদীর তীরে অন্যের জমিতে সন্তানদের নিয়ে ছাপরা ঘর তুলে থাকছেন তিনি। সেই জরাজীর্ণ ঘরটিই কোনোরকম মাথাগোঁজার আশ্রয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছিদ্র দিয়ে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে বসে থাকতে হয়। এছাড়া বর্ষাকালে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে তার ঘরে। উপজেলা প্রশাসন তার কষ্ট-সংগ্রামের কথা জানতে পেরে জমিসহ একটি পাকাঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

রঞ্চিতা বেপরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্বপ্ন ছিল একটা ছোট্ট জমি কিনে ঘর বানাবো। দু’বেলা খাবারই জোটে না, সেখানে জমি কিনে ঘর বানানো ছিল অবাস্তব ব্যাপার। আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমার নিজের পক্ষে কখনো এমন বাড়ি বানানো সম্ভব হতো না। ঘর পেয়ে আমার ছেলেমেয়ে দারুণ খুশি।’

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমান জানান, মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নগরীসহ সদর উপজেলার মোট এক হাজার ৫৭টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে জমি ও ঘর দেয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে দুই শতাংশ জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘর দুই রুমের। সঙ্গে রয়েছে রান্নাঘর, বারান্দা, বাথরুম। এসব ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। সুপেয় পানির জন্য থাকছে ১৮ গভীর নলকূপ।

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি ধাপে প্রকৃত গৃহহীন ও ভূমিহীন বাছাই করা হয়েছে। এরপর পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার জন্য চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা গৃহহীন ও ভূমিহীনদের বিষয় খোঁজ নিয়েছেন। পরে প্রকৃত গৃহহীন ও ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আজ তাদের হাতে জমির দলিল তুলে দেয়া হয়েছে। একটি ভালো ঘর তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। ঘর পেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে খুশি বন্যা বয়ে গেছে। তাদের চোখে-মুখে যে আনন্দ দেখেছি, সেই অনুভূতি বলে প্রকাশ করা যাবে না। এ স্মৃতি সারাজীবন মনে থাকবে আমার।’

বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে জেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীন ১ হাজার ৫৫৬টি পরিবার ঘর পেয়েছে। নির্দিষ্ট নকশা অনুযায়ী ভালো মানের উপাদান দিয়ে জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গৃহহীনদের জন্য প্রতিটি ঘর বানানো হয়েছে। খাসজমিতে প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। জেলায় এক হাজার ৫৫৬টি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা।’

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

চাকরি জীবনে এমন নৃশংস ঘটনা দেখিনি : আরএমপি কমিশনার

চাকরি জীবনে এমন নৃশংস ঘটনা দেখিনি : আরএমপি কমিশনার

 

মোটরসাইকেলের কাগজ দেখতে চাওয়ায় ট্রাফিক সার্জেন্টের ওপর হামলা প্রসঙ্গে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেছেন, ২২ বছরের চাকরি জীবনে এমন নৃশংস ঘটনা দেখিনি।

হামলাকারী যুবক বেলাল হোসেনকে (২৬) গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় আরএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বুধবার রাত ১টার দিকে নাটোর মাদরাসা মোড় এলাকা থেকে বেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে আরএমপির একটি দল এ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। বেলাল হোসেন একটি বাসে চড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

তিনি বলেন, আমার ২২ বছরের চাকরি জীবনে একজন অফিসারকে এমন নৃশংসভাবে মারপিটের ঘটনা দেখিনি। আমি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে চাকরি করেছি দীর্ঘদিন। এটা ব্যতিক্রমধর্মী। আসলে অস্বাভাবিক ব্যাপার। সে পলাতক ছিল। একটা মামলা হয়েছে। আরএমপির বোয়ালিয়া জোনের উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে একটা টিম গঠন করি। সেই টিম রাত ১টার সময় বেলালকে গ্রেফতার করেছে।

jagonews24

পুলিশ কমিশনার জানান, হামলাকারী বেলালের মোটরসাইকেলের কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। বিআরটিএতে খোঁজ নিয়ে তারা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এছাড়া তার হেলমেটও ছিল না। এ কারণে সার্জেন্ট আটকালে তিনি উত্তেজিত হয়ে চেলাকাঠ নিয়ে এসে মারপিট করেন। সার্জেন্টের মাথায় মেরে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তাকে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং তাকে মেরে ফেলার চেষ্টার জন্য হত্যাচেষ্টাসহ অন্যান্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। আমাদের অফিসার খুব খারাপ অবস্থায় ছিল। যেসব ধারা কাভার করে আমরা সেসব ধারায় মামলা করেছি। এখন আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করব, তার উত্তেজিত হওয়ার পেছনে কারণটা কী। সে মাদকাসক্ত ছিল কিনা। তার অতীতে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আছে কী না সেটা দেখব।

সংবাদ সম্মেলনে আরএমপির বোয়ালিয়া জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজদ হোসেন, শাহমখদুম জোনের ডিসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিয়ন্ত্রণহীন বাস উল্টে ৩ যাত্রী নিহত

নিয়ন্ত্রণহীন বাস উল্টে ৩ যাত্রী নিহত

 

ফরিদপুরের ভাঙ্গা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বগাইল টোলপ্লাজা এলাকায় ‘দূরন্ত পরিবহন’ নামে একটি লোকাল বাস উল্টে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন বাসের আরও ১৫ যাত্রী। বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ। নিহত পুরুষের পরিচয় জানা গেলেও এখনও ২ নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত আ. রশীদ(৫৫) চুয়াডাঙ্গা জেলার পেয়ারাতলা এলাকার মো. আলমাসের ছেলে।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মাহাতাব উদ্দিন জানান, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযানে বাসের নিচ থেকে দুইজনের ও ভেতর থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে আহত ৭ জনকে এবং অন্যান্য আহত যাত্রীদের স্থানীয় পরিবহনে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অন্তত ১৫ আহত যাত্রীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে যার মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর।

বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোলপ্লাজার সড়ক বিভাজনের ওপর উঠে গেলে মহাসড়কের ওপরই বাসটি উল্টে যায়। আর এতেই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানান।

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশী চাচার যাবজ্জীবন

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশী চাচার যাবজ্জীবন

 

বরিশালের মুলাদী উপজেলার ডিক্রিরচর এলাকায় ছোট ভাইকে হত্যার ভয় দেখিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে তার প্রতিবেশী চাচা ইদ্রিস হাওলাদারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তার আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ইদ্রিস হাওলাদার ডিক্রিরচর এলাকার বাসিন্দা।

মামলার রায়ের বরাত দিয়ে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মো. আজিবর রহমান জানান, বেশ কয়েক বছর আগে ওই স্কুলছাত্রীর মা মারা যান। ওই ছাত্রীর বাবা ঢাকায় কাজ করেন। স্ত্রী মারা যাওয়ার কারণে তার ছেলে-মেয়ে গ্রামে একা হয়ে পড়ে। সন্তানদের দেখাশোনার জন্য স্কুলছাত্রীর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর কাজের সুবাদে তিনি ঢাকায় যান। প্রথম দিকে সৎ মা তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। তবে কয়েক মাস পর কারণে-অকারণে নির্যাতন চালাতে শুরু করে সৎ ছেলে-মেয়ের ওপর।

তিনি আরও জানান, সৎ মায়ের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে মাঝেমধ্যে স্কুলছাত্রী তার ভাইকে নিয়ে প্রতিবেশী চাচা ইদ্রিস হাওলাদারের বাড়িতে আশ্রয় নিত। সেই সুযোগে চাচা স্কুলছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে স্কুলছাত্রীর ছোট ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেন ইদ্রিস হাওলাদার। এভাবে ভয় দেখিয়ে ওই মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি।

পেশকার জানান, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ সৎ মায়ের হাতে মার খেয়ে ইদ্রিস হাওলাদারের বাড়িতে আশ্রয় নেয় স্কুলছাত্রী ও তার ভাই। রাতে ইদ্রিস হাওলাদারের স্ত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে স্কুলছাত্রীকে ফের ধর্ষণ করেন ইদ্রিস হাওলাদার। এরপর সে অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার বাড়িতে এসে ওই বছরের ৩০ জুলাই বাদী হয়ে ইদ্রিস হাওলাদারকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুলাদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন খান একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ইদ্রিস হাওলাদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত উপরোক্ত রায় দেন।

শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১

মুখ থুবড়ে পড়েছে হাসকিং মিল, পেশা ছাড়ছেন হাজারো মানুষ

মুখ থুবড়ে পড়েছে হাসকিং মিল, পেশা ছাড়ছেন হাজারো মানুষ


শষ্য ভান্ডার খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁয় এক সময় ছোট চালকলগুলো (হাসকিং মিল) প্রাণবন্ত ছিল। কিন্তু অটোরাইস মিলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে সেগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। অনেক চালকল মালিক ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন আবার অনেকে টিকতে না পেরে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। কেউ কেউ চাতালগুলোতে চালের পরিবর্তে ধানের চিটা থেকে গুড়া তৈরি করছেন। আর শ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে পেশা বদলেছেন।

ধান কেন্দ্রিক জেলা হওয়ায় এক সময় প্রচুর ছোট ছোট চালকল গড়ে ওঠে। নওগাঁ শহর থেকে মহাদেবপুর যাওয়ার পথে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দুইপাশে চোখে পড়বে হাসকিং মিলগুলো। কয়েক বছর আগেও এ জেলায় প্রায় ১২০০ হাসকিং মিল ছিল। যেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ছিল। বর্তমানে এসব হাসকিং মিলের পাশাপাশি ৫৫টি অটো রাইস মিল চালু হয়েছে। অটোরাইস মিলগুলো পুরোদমে চালু থাকলেও হাসকিং মিলগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখন বন্ধ। আর যেসব মিল টিকে রয়েছে সেগুলোর অবস্থাও নাজুক।

নারী শ্রমিক কোহিনুর বেগম জানান, একটি চালকলে ছয়জন কাজ করছেন। চাতালে ২শ মন ধান ভিজানো ও শুকানো থেকে শুরু করে ভাঙানো পর্যন্ত পারিশ্রমিক হিসেবে ৬০০ টাকা এবং ৪৫ কেজি চাল দেয়া হতো। জনপ্রতি ভাগে ১শ টাকা ও সাড়ে ৭ কেজি করে চাল পাওয়া যায়। মাসে ৩-৪ টা চাতাল উঠে। পরিশ্রম বেশি হয়; কিন্তু সে তুলনায় পারিশ্রমিক পাই না। যে টাকা পাই তা দিয়ে সংসার চলা কষ্টকর হয়ে ওঠে। এক সময় অনেক মানুষ কাজ করতো। অনেক চালকল বন্ধ হয়ে গেছে। তারা এখন কৃষিকাজ, ভ্যান চালানো কেউ বা ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করছে। আমরা অন্য কোনো কাজে অভ্যস্ত না হওয়ায় চাতালেই পড়ে আছি।

সদর উপজেলার হাঁপানিয়া এলাকার কফিল উদ্দিন চালকলের মালিক কফিল উদ্দিন বলেন, প্রায় ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে চাতালের সঙ্গে জড়িত। সে সময় মিলে ১৫-১৮ জন শ্রমিক কাজ করতো। গত ছয় বছর থেকে চাতাল বন্ধ রয়েছে। চাল উৎপাদনের পরিবর্তে তিনি এখন ধানের চিটা সংগ্রহ করে গুড়া ভাঙানোর কাজে মিল ব্যবহার করছেন।

তিনি আরও বলেন, অটোরাইস মিলে বেশি ধানের প্রয়োজন হওয়ায় তারা বেশি দামে ধান কেনে। আমাদের ছোট চালকলে ধান কম লাগলেও বেশি দামে কিনতে হয়। শ্রমিক খরচ ও চাল উৎপাদন করতে গিয়ে খরচটা বেশি হয়। সে কারণে বেশ লোকসানে পড়তে হয়েছিল। যার কারণে মিল বন্ধ করে দিয়েছি। হাসকিং মিলগুলো আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব না।

jagonews24

সামিয়া চালকলের মালিক মোতালেব হোসেন বলেন, ধান কিনে চাল উৎপাদন করতে প্রায় ৭-১২ দিন সময় লেগে যায়। আর অটোরাইস মিলে ১-২ দিনের মধ্যে চাল উৎপাদন করে বাজারজাত করে এবং তারা দাম পায়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়না। অটোরাইসের কারণে আমরা টিকতে পারছি না। কোনো মতে হাসকিং মিল টিকিয়ে রেখেছি।

তিনি বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কোথাও থেকে কোনো ধরনের সুবিধা পাই না। সরকার একটা উদ্যোগ নিয়েছে- ধারণক্ষমতা অনুযায়ী মিলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ধান মজুদ রাখতে পারবে। এ ধারা চলমান থাকলে আমরা কিছুটা উপকৃত হবো।

নওগাঁ জেলা অটো সাটার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, অনেক চালকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। গত ১০-১৫ বছর আগে যে পারিশ্রমিক দেয়া হতো; এখনো সেই মজুরি দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। পারিশ্রমিক বাড়াতে মালিকদের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি দেয়ার দুই বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা অবহেলিত হতেই আছি।

মেসার্স ফারিহা রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, অটোরাইস মিলে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন শ্রমিক ৩০ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন করতে পারে। সেখানে হাসকিং মিলে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ জন শ্রমিক ৩০ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন করতে পারে। এক সময় প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হতো। অটোরাইস মিল আসার পর মানুষ বেকার হয়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। মানুষের দৈন্যতা বেড়েছে। কিছু হাসকিং মিল অনেক কষ্টে এখনো টিকে আছে।

নওগাঁ চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হয়েছে। অটোরাইস মিলে চাল উৎপাদন করতে বেশি গরম করতে হয়। ওই চালের ভাত রান্নার পর দীর্ঘ সময় ভাল থাকে। কিন্তু হাসকিং মিলের চালের ভাত পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ও সুস্বাদু হলেও দীর্ঘ সময় ভাল থাকে না। সরকারেরও কিছু বৈষম্য রয়েছে। ছোট মিলের জন্য সরকার কম পরিমাণ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। যেন হাসকিং মিল মালিকরা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পারে।

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১

মায়ের ওড়নায় ঝুলছিল শিশুর মরদেহ

মায়ের ওড়নায় ঝুলছিল শিশুর মরদেহ

 

রাজশাহীর পুঠিয়ায় মায়ের ওড়নায় গলায় ফাঁস দেয়া মুদাচ্ছিম হোসেন (১০) নামের এক শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কাঠালবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শিশু মুদাচ্ছিম হোসেন কাঠালবাড়িয়া গ্রামের মুনির হোসেনের ছেলে।

পুঠিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেবের আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আজও বিকেলে ওই শিশু তার ঘরে পড়তে বসেছিল। বাবা-মা ব্যস্ত ছিলেন নিজেদের কাজে। এক পর্যায়ে শিশুর বাবা ঘরে গিয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।’

কাউন্সিলর আরও জানান, প্রাথমিক নমুনা দেখে বোঝা যাচ্ছে ওই শিশু তার মায়ের একটি ওড়না ঘরের আড়ায় পেঁচিয়ে ঝুল খেলার (দোলনা) চেষ্টা করছিল। এক পর্যায়ে ওড়না তার অজান্তে গলায় ফাঁস লেগে যাওয়ায় সে মারা যেতে পারে।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই শিশু ঘরের মধ্যে খেলতে গিয়ে নিজেই এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তবে এটা আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, সে বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১

হাতুড়িপেটা করে ১১ লাখ টাকা ছিনতাই

হাতুড়িপেটা করে ১১ লাখ টাকা ছিনতাই

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে আলফাডাঙ্গা-গোপালপুর সড়কের হাওয়ের ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম কামরুজ্জামান মিন্টু শেখ। তিনি ফরিদপুর শহরের বিকাশ এজেন্ট জ্যামসন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করেন। তিনি ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, কামরুজ্জামান রোববার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক বোয়ালমারী শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ওই টাকা আলফাডাঙ্গায় দুই বিকাশ ব্যবাসায়ীকে প্রায় এক লাখ টাকা দেন। বাকি টাকা নিয়ে গোপালপুর বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে হাওড়ের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ফাঁকা রাস্তায় পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে থাকা চার তরুণ তাকে ধাক্কা দেয়। তিনি মোটরসাইকেলসহ রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যান। তখন ওই চার তরুণ তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত থেকে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যান। ওই ব্যাগের মধ্যে ১১ লাখ টাকা ছিল।

বিকাশ এজেন্ট জ্যামসন ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিবিউটর গোলাম মারুফ বলেন, কামরুজ্জামান মিন্টু শেখ বিকাশের ডিস্টিবিউটর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থল থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে সড়কের পাশে ছিনতাই হওয়া ব্যাগ ও শীতের পোশাক পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, চারদিকে ফোর্স লাগিয়েছি। ছিনতাইকারীকে আটকের চেষ্টা চলছে।

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

 

ভোলায় জান্নাত (১১) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত জান্নাত জেলার সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের মুসলে উদ্দিনের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

শনিবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট আলগী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত জান্নাতের বাবা-মা ও ভাই ঢাকায় চাকরি করেন। জান্নাত ছোট বেলা থেকেই তার দাদা-দাদীর কাছে থাকে। বিকেলের দিকেও জান্নাতকে স্থানীয়রা বাড়িতে দেখেছেন। রাতে প্রতিবেশীরা তার দাদার ঘরে জান্নাতের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। তবে ওই সময় ঘরে তার দাদা ও দাদীকে দেখতে পায়নি।

স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনায়েত হোসেন জানান, খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। নিহতের দাদা-দাদী পলাতক রয়েছেন।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা মৃত্যুর বিষয়ে কিছু বলতে পারছিনা তবে তদন্ত চলছে। এছাড়া ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে বুঝা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১

ভারতীয় পেঁয়াজ কিনছেন না ক্রেতারা, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

ভারতীয় পেঁয়াজ কিনছেন না ক্রেতারা, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

 

বাজারে উঠতে শুরু করেছে দেশি পেঁয়াজ। চলছে ভরা মৌসুম। এদিকে, গত সাড়ে তিন মাস বন্ধ থাকার পর আবার পেঁয়াজ পাঠাতে শুরু করেছে ভারত। এতে বিপদে পড়েছেন দেশি কৃষকরা। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করে স্বস্তিতে নেই আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। বাজারে এখন খুব বেশি চাহিদা নেই ভারতীয় পেঁয়াজের।

বাজারে দেশি পেঁয়াজের চাহিদা বেশি, দামও কম। আর তুলনামূলক বেশি দাম হওয়ায় মানুষ ভারতীয় পেঁয়াজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। গত বছরের শেষদিকে এসে (২৯ ডিসেম্বর) এ রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় দেশটি। এরপর চলতি বছরের শুরুতে (২ জানুয়ারি) থেকে অন্যান্য বন্দরের মতো সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়েও ভারতীয় পেঁয়াজ আসতে শুরু করে দেশে।

পেঁয়াজের বড় পাইকারি বাজার সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজার। সেখানকার আড়তদার মেসার্স সাকিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আক্তারুজ্জামান আক্তার জানান, বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজ পাইকারি দরে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭-২৮ টাকায় আর খুচরা প্রতি কেজি ৩০ টাকা। আর মেহেরপুর জেলায় উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম আরও কম। সেগুলো বিক্রি হচ্ছে পাইকারি ২০-২২ টাকা ও খুচরা ২৫ টাকা। হল্যান্ডের পেঁয়াজ পাইকারি ১৯-২০ টাকা, খুচরা ২০-২১ টাকা। কিন্তু, ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারি ৩৬-৩৭ টাকা ও খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

তিনি আরও জানান, ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না। এগুলো কিনে আড়তে রেখে লোকসানে পড়েছি। ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৯ টাকা দরে কিনে আমি বিক্রি করছি ৩৫ টাকায়। তবুও মানুষ কিনছে না। আড়তে ২০০ বস্তা পেঁয়াজ নিয়ে এখন বিপদে পড়েছি।

ভোমরা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের রাজস্ব কর্মকর্তা আকবার আলী জানান, গত ২ জানুয়ারি থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ২০৪১ দশমিক ৮ মেট্রিক টন। এসব পেঁয়াজে কোনো শুল্ক নেয়া হয়নি। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিলে বাংলাদেশ সরকার আমদানিতে শুল্ক ‘ফ্রি’ করে দেয়। সরকারি সেই সিদ্ধান্ত এখনও বহাল রয়েছে।

ভোমার বন্দরের ব্যবসায়ী বিপ্লব ট্রান্সপোর্টের স্বত্বাধিকারী রতন বলেন, ‘এ পর্যন্ত পাঁচ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করেছি। তবে বাজারে দেশি পেঁয়াজের চাহিদা বেশি। ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা নেই। ভারত থেকে কিনে এনে খরচ ধরে বিক্রি করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, দেশি পেঁয়াজের থেকে কেজি প্রতি ৮-১০ টাকা বেশি দাম পড়ছে। এতে ক্রেতারা দেশি পেঁয়াজেই বেশি ঝুঁকছে।’

তিনি আরও বলেন, এখন আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন আমদানিকারকরা। বর্তমানে প্রতিদিন ১০-১২ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে।

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস ও দফতর বিষয়ক সম্পাদক জিএম আমির হামজা জানান, ‘চাহিদা না থাকায় আমদানি করে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

সাতক্ষীরা জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা (বিপণন) সালেহ মো. আব্দুল্লাহ জানান, বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩০ টাকা, হল্যান্ডের পেয়াজ ১৮-২০ টাকা ও ভারতীয় পেয়াজ প্রকারভেদে ৩৩-৩৭ টাকা। যখন দাম চড়া ছিল তখন আমদানিকারকরা লাভের আশায় হাজার হাজার টন পেঁয়াজ এলসি করে রেখেছে। এখন তারা পড়েছেন মহাবিপদে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৬২০ হেক্টর জমিতে। গত বছর চাষাবাদ হয়েছিল ৫৫৫ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে ৬৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ বেশি হয়েছে। জেলায় চলতি মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ছয় হাজার মেট্রিকটন পেঁয়াজ। চাহিদা রয়েছে ২০-২২ হাজার মেট্রিকটন।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, দেশে যখন সবজি উৎপাদন মৌসুম চলছে ঠিক তখনই আবারও ভারত থেকে আসছে পেঁয়াজ। এতে দেশি কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মৌসুম নয় এমন সময় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে কৃষকরা লাভবান হতে পারত।

বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২১

শ্রীপুরে বিএনপির মেয়র প্রার্থীসহ চার কাউন্সিলর প্রার্থীকে শোকজ

শ্রীপুরে বিএনপির মেয়র প্রার্থীসহ চার কাউন্সিলর প্রার্থীকে শোকজ

 

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীসহ চার কাউন্সিলর প্রার্থীকে বিভিন্ন অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে তাদের এ নোটিশ দেয়া হয়।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী খান, ৭ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. এমদাদুল ইসলাম, ৮ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ইমরান হোসেন, জাহিদুল ইসলাম ও ৯ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আরিফুল ইসলাম সরকারকে শোকজের নোটিশ দেয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার আলহাজ ধনাই ব্যাপারী উচ্চ বিদ্যালয় মোড় সংলগ্ন এলাকায় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী কাজী খানের নির্বাচনী ক্যাম্পের ভেতরের দেয়ালে নির্বাচনী পোস্টার সাঁটানো ছিল। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. এমদাদুল ইসলাম ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ইমরান হোসেনের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন দেয়ালে নির্বাচনী পোস্টার সাঁটানো দেখা গেছে।

এছাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আরিফুল ইসলাম সরকারের নির্বাচনী এলাকায় দেয়ালে নির্বাচনী পোস্টার সাঁটানো, নির্বাচনী প্রচার যানবাহনে ব্যানার, পোস্টার সাঁটানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জাহিদুল ইসলামকেও নির্বাচনী এলাকায় দেয়ালে পোস্টার সাঁটানো এবং মাওনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে দলীয় প্রার্থী না হওয়া সত্ত্বেও তাকে দলীয় প্রধানের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

যা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০১৫ এর বিধি ৮ উপবিধি (৫) ও (৮) এবং বিধি ২৬ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করা হয়েছে।