শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

মাটিবাহী ট্রাকে রাস্তা বেহাল

 প্রতিদিন মাটিবাহী ট্রাক ও লরি চলাচল করায় কাঁচা রাস্তা দেবে গেছে। আলগা মাটি থেকে ওড়ে ধুলা। সম্প্রতি গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মা নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন এক ইউপি সদস্য। প্রতিদিন ট্রাকে করে সে মাটি বহন করে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটা ও বসতবাড়ির মালিকদের কাছে। তবে নদীর পাড় থেকে মাটি বহনের জন্য যে সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটা এখন বেহাল। ভারী জিনিস বহন করায় কাঁচা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। ট্রাকের চাকার চাপায় রাস্তায় নালার মতো তৈরি হয়েছে। ধুলা জমে থাকায় পথ চলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের।

স্থানীয়রা জানান, ছাত্তার মেম্বারপাড়া ও চর করনেশনায় পদ্মা নদীর পাড় থেকে মাটি কাটায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওসমান কাজী। তাঁর সঙ্গে বেলায়েত ও বাহার নামের আরও দুজন ব্যক্তি হোসেন মণ্ডলপাড়া এলাকায় থেকে মাটি কাটছেন। মাটিভর্তি ট্রাক আক্কাছ আলী উচ্চবিদ্যালয় এলাকার একটি রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। বড় গর্ত ও খানাখন্দ হওয়ায় ধুলায় এ পথে চলা দুষ্কর। অতিষ্ঠ এলাকার লোকজন ১৬ নভেম্বর মাটি কাটা ও গাড়ি চলাচল বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ইউএনও ১৯ নভেম্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরও মাটি কাটা ও ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়নি।



গত মঙ্গলবার চর করনেশনা এলাকায় গিয়ে আক্কাছ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের কাঁচা রাস্তা দিয়ে মাটিভর্তি ট্রাক, লড়ি চলাচল করতে দেখা যায়। এসব মাটি নেওয়া হয় গোয়ালন্দসহ রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থানে। আর খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে পদ্মা নদীর পাড়ে জেগে ওঠা সরকারি খাসজমি থেকে। সেখানে খননযন্ত্র চালাতে দেখা যায় মো. সিরাজ নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি জানান, খননযন্ত্রের মালিক ইউপি সদস্য ওসমান কাজী। তিনি ইউপি সদস্যের হয়ে ১৫ থেকে ১৬ দিন ধরে মাটি কাটার কাজ করছেন। মাটির ধরন ও দূরত্ব বুঝে দাম নির্ধারিত হয়। প্রতিদিন হাইস্কুলের পাশের রাস্তা দিয়ে প্রায় ৩০ ট্রাক মাটি বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়।

স্থানীয় কৃষক মো. ইউসুফ বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলের জন্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের সময় উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের ওই রাস্তাটি নির্মিত হয়। কয়েক বছর ধরে চর থেকে প্রতিদিন মাটিভর্তি গাড়ি চলাচল করায় রাস্তাটি দেবে গেছে। সরকারি মাটি বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি পক্ষ। আর বেহাল সড়কের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।

বাহিরচর দৌলতদিয়া ছাত্তার মেম্বারপাড়ার রোজিনা খাতুন স্বামী-সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। খানাখন্দ ও অতিরিক্ত ধুলার কারণে চলতে গিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি। বর্ষাকালে তলিয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে রাস্তা দিয়ে মাটি কাটার গাড়ি যাওয়া-আসা করে। ধুলায় চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।

নদী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে ইউপি সদস্য ওসমান কাজী বলেন, সরকারি কোনো খাসজমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে না। নিজেদের জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। বেহাল রাস্তার বিষয়ে ওসমান কাজী বলেন, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসংলগ্ন হোসেন মণ্ডলপাড়া, আক্কাছ আলী উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন রাস্তার কিছু ক্ষতি হচ্ছে। এ জন্য শ্রমিক দিয়ে মাঝেমধ্যে মেরামত করে দেওয়া হয়।

গোয়ালন্দের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল ইসলাম বলেন, চর করনেশনা এলাকায় পদ্মা নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি জানা নেই। তবে নদীর পাড় এলাকার মাটি কাটা অবৈধ। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন