দ্বিতীয়বার ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে ওঠার সুযোগ ছিল চট্টগ্রাম আবাহনীর। কিন্তু সেমিফাইনালে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের বিরুদ্ধে। হেরে গেছে ৩-০ গোলে। কিন্তু কেন? সেমিফাইনালে কেন ৩ গোল হজম করলো চট্টলার দলটি? ম্যাচের পর তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ কোচ মারুফুল হক।
ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘শুরুতেই আমি সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে অভিনন্দন জানাতে চাই। দলটি প্রথমবারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠেছে। আসলে আমার দলের সমস্যা হলো, বিদেশিরা শেষ মুহূর্তে যোগ দিয়েছেন। চিনেদু ম্যাথু করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েই ম্যাচ খেলেছেন। যে কারণে বিদেশিদের পুরো সার্ভিসটা পাইনি।’
‘তারপরও আমরা যেভাবে শুরু করেছিলাম, তা সব ঠিকই ছিল। তবে আগেভাগে একটা গোল খাওয়ায় সমস্যা হয়ে যায়। তাছাড়া প্রতিপক্ষের ট্যাকটিস ছিল প্রতি আক্রমণের। সে কৌশলে তারা সফল হয়েছে। আমাদের সুযোগ এসেছিল, তবে তা কাজে লাগাতে পারিনি’-যোগ করেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ মারুফুল হক।
সেমিফাইনালের পূর্বে মারুফুল হক বলেছিলেন, ম্যাচ জিততে একটি গোলই যথেষ্ট। কিন্তু তিনটি সুযোগ পেয়ে একটি গোল করতে পারেনি তার দল। উল্টো তিনটি খেয়েছে।
এই ৩ গোল হজম প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ বলেছেন, ‘আমাদের নিশ্চিত তিনটি সুযোগ এসেছিল। তিনটাই গোল হওয়া উচিত ছিল। একটা গোল হলেই ম্যাচের চিত্র অন্য রকম হতে পারতো। ওরা তিনটা সুযোগ পেয়েছে, তিনটাই কাজে লাগিয়েছে। ১-০ হয়ে যাওয়ার পর প্রতি আক্রমণে ৩-০ হতেই পারে। তারপর আমরা ১০ জন নিয়ে খেলেছি। আমরা তো বলেছিলাম ১-০ করার সুযোগ পেলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ব। সুযোগ তো পেয়েছিলাম, কিন্তু করতে পারিনি।’
সাইফের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া গোলের জন্য বড় দায় চট্টগ্রাম আবাহনীর দিদিয়ের। পরে তিনি লালকার্ড (দ্বিতীয় হলুদকার্ড) পেয়ে আরও বিপদ ডেকে আনেন দলের। তবে কোচ মারুফুল হক তার ওপর দোষ চাপাতে নারাজ।
ফুটবলে এমন হতেই পারে উল্লেখ করে দেশের অভিজ্ঞ এ কোচ বলেন, ‘সে খুবই অভিজ্ঞ ও পেশাদার ফুটবলার। বড় বড় লিগ খেলেছে সে। তাছাড়া একজন ফুটবলার প্রতিদিন ভালো পারফরম্যান্স করবে কিংবা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলবে, সেটা নাও হতে পারে। সে হয়তো একটা চাপ নিয়েছিল। কারণ, একজন বিদেশি নেই, আরেকজন হাফফিট। এই চাপ নেয়াতেই এমন হয়েছে হয়তো।’
