শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

‘স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের প্রাপ্যতা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার’

 ‘স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের প্রাপ্যতা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার’

ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরাপদ পানি এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে সরকার।’

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি’র নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা ৬.১ ও ৬.২ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষ থেকে সবা জন্য স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এশীয় ও প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট সেক্টরের মন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি’র ৬.১ ও ৬.২ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে দেশে ৯.৩৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার প্রয়োজন। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে এ কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার ও বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়ে অঙ্গীকার পাওয়া গেছে। ওয়াটার, স্যানিটেশন খাতে সরকারের বাৎসরিক বরাদ্দ প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধিপূর্বক এ সেক্টরে বর্তমান বাজেট গ্যাপ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।

বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, হাত ধোয়া, পরিবেশ দূষণসহ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহের বিষয়ে জনসচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।

মো. তাজুল ইসলাম জানান, মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দিতে প্রত্যেক জেলায় টেস্টিং ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পৌর এলাকার পাশাপাশি গ্রাম অঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করার লক্ষ্যে অনেক মেগা প্রজেক্ট হাতে নেয়া হচ্ছে। সরকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূ-উপরিস্থ পানি বা সারফেস ওয়াটারের ব্যবহারে প্রাধান্য দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের মধ্যে আর্সেনিক দূষণ আক্রান্ত এলাকার প্রায় ২০ লাখ জনগণকে আর্সেনিক দূষণমুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় আনা হবে। নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি ও ৭৫ শতাংশ জনগণকে বেসিক স্যানিটেশন কভারেজ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

করোনা মহামারির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ ও নির্দেশনার বিষয়ে সভায় সবাইকে অবহিত করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।

সভায় আফগানিস্তান, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, ভারত, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, লাওস, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মিনারমার, পাকিস্তান, ভুটানসহ এশীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, সবার জন্য স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে এশীয় ও প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট সেক্টরের মন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রীগণের অংশগ্রহণে প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্ব ব্যাংকের সদরদফতর ওয়াশিংটন ডিসিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর ওয়াশিংটনে একত্রিত হতে না পারলেও স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল-এর (এসডাব্লিউএ) আয়োজনে ভার্চুয়ালি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আইএইচআর/এআরএ/জেআইএম


শেয়ার করুন