বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০

দেশের মাটিতে সকলেরই সমান অধিকার থাকবে : প্রধানমন্ত্রী


 মহান বিজয় দিবসে দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দৃঢ় থাকার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এই দেশের মাটিতে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সমান অধিকার নিয়েই বসবাস করবে। মনে রাখতে হবে-সকলে এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে রক্ত ঢেলে দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছে। যার যা ধর্ম তা পালনের স্বাধীনতা সকলেরই থাকবে।’

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেই চেতনায় বিশ্বাস করি এবং ইসলাম আমাদের সে শিক্ষাই দিয়ে থাকে।’

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা কথাই বলবো এই মাটিতে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ-সকল ধর্মের মানুষের বসবাস থাকবে অর্থাৎ আমরা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে অন্য ধর্মকে অবহেলার চোখে দেখব তা নয়। হযরত মুহম্মদ (সা.) আমাদের সে শিক্ষাই দিয়ে গেছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকলকে আমি এটুকুই বলবো সকলকে যেকোনো পরিস্থিতি সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। কে কী বলল না বলল তা শোনার থেকে কতটুকু আমরা দেশের জন্য করতে পারলাম সেটাই আমাদের চিন্তায় থাকবে। তাহলেই আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব। সঠিক কাজ করতে পারবো

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান বিজয়ের প্রাক্কালে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। যাতে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জ্ঞানী-গুণী কেউ না থাকে। ঠিক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশেষ করে ৮ ও ৯ ডিসেম্বর ব্যাপকভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা চলে এবং আমরা ১৪ ডিসেম্বর দিনটিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করি।’

নিজে একজন স্বজনহারা তাই স্বজনহারার বেদনা তাকে স্পর্শ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সে সময়ে অনেকে তাদের স্বজনের লাশও পাননি। আবার ’৭৫ এ জাতির পিতার সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগসহ সংগঠনের বহু নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের লাশও পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কথা ওঠানোর চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ নিয়ে চলবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করবো আমাদের সংগঠনটাকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতির পিতার আদর্শকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে।’

আলোচনা সভায় প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদও বক্তৃতা করেন।

এছাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং নেতৃবৃন্দের মধ্যে বেগম মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


শেয়ার করুন