
ভাস্কর্যবিরোধিতার নামে উগ্র মৌলবাদীরা অত্যন্ত সুকৌশলে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অবজ্ঞা-প্রদর্শন ও দেশের বর্তমান ‘শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশকে’ বিঘ্নিত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ-সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল। বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার দায়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ মিলনায়তনে নীল দলের এক সাধারণ সভা হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরে আজ বুধবার নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. আবদুস ছামাদের স্বাক্ষরে সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে উগ্র মৌলবাদীদের আস্ফালনের উদ্দেশ্য অত্যন্ত পরিষ্কার। ভাস্কর্য অত্যন্ত প্রাচীন শিল্পরীতি, যা সভ্যতার প্রাথমিক যুগ থেকে চর্চিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও মহান স্বাধীনতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে বহু ভাস্কর্য ও ম্যুরাল নির্মিত হয়েছে। চলমান ও প্রতিষ্ঠিত একটি শিল্পরীতিকে মূর্তির সঙ্গে তুলনা করে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার পেছনে যে ধর্মীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হীন স্বার্থ নিহিত রয়েছে, তা অনুমেয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী প্রজন্মকে জাতির পিতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে না দেওয়ার জন্য দেশবিরোধী মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এটি করতে গিয়ে যেভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে, তাতে মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের বর্বরতার কদর্য চেহারাই জাতির সামনে আবার উন্মোচিত হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারক-বাহক বাংলাদেশের জনগণকে ধর্মীয় দোহাই দিয়ে পাকিস্তান শাসনামলে যেমন বোকা বানানো যায়নি, তেমনি ভবিষ্যতেও যাবে না৷ বঙ্গবন্ধু যে নীতি-আদর্শের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের কবল থেকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই রাষ্ট্রে পাকিস্তানি আদর্শের ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর আস্ফালন সহ্য করা হবে না।
বিবৃতিতে উগ্র মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ভাস্কর্যবিরোধিতার নামে জাতির পিতাকে অবমাননার দায়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।